ঢাকা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা ফতুল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, বোমা বিস্ফোরণ অনেক লোভ দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ, জেলে লোক পাঠিয়ে মন্ত্রী হতে বলেছেন হাসিনা: আমির খসরু বিগত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় পুলিশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল : আইজিপি ২২ জানুয়ারি ভোটের প্রচারে মাঠে নামছেন তারেক রহমান রাজধানীর বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে গলা কেটে হত্যা দেশকে ধ্বংসস্তুূপ থেকে উদ্ধার করতে একমাত্র প্রয়োজন বিএনপি সরকার :খায়রুল কবির খোকন সব সরকারি অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশনা বাংলাদেশিদের জন্য বি-১ ভিসা বন্ড পুনর্বিবেচনার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রস্তুতিতে বিএনপি থেকে জামায়াত জোট অনেক এগিয়ে: নাহিদ ইসলাম

কলকাতা পৌরসভার ভোটে জয়ী ২১ মুসলিম প্রার্থী; ১৮ জনই তৃণমূলের

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সদ্য সমাপ্ত ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন’ ভোটে জয়ী হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে তারা ১৩৪টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে। এখন বোর্ড গঠনের পালা। কিন্তু এই পৌরসভার নির্বাচনে জয়ী হয়েছে ২১ জন মুসলিম প্রার্থী। সেক্ষেত্রে নতুন পৌরবোর্ডে ২১ জন মুসলিম কাউন্সিলর হবেন। এর মধ্যে মমতার ব্যনার্জির দল তৃণমূলে জয়ী মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন ১৮ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ২ জন এবং কংগ্রেসের ১ জন।

তৃণমূলের ১৮ জন জয়ী মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম কলকাতার বিদায়ী মেয়র ও রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, তিনি জয়ী হয়েছেন ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। এছাড়াও রয়েছেন ইকবাল আহমেদ (২৯ নম্বর ওয়ার্ড), মহম্মদ জসিমউদ্দিন (৩৯), রেহানা খাতুন (৪৪), আমিরুদ্দিন (৫৪), কাইসার জামিল (৬০), মানজার ইকবাল (৬১), সানা আহমেদ (৬২), সাম্মি জাহান বেগম (৬৪), ফৈয়াজ আহমেদ খান (৬৬), নিজামুদ্দিন সামস (৭৫), সামিমা রেহান খান (৭৭), মহ: আনোয়ার খান (৮০), শামস ইকবাল (১৩৪), শামসুজ্জামান আনসারি (১৩৬), ফরিদা পারভীন (১৩৮), শেখ মুস্তাক আহমেদ (১৩৯), আবু মহম্মদ তারিখ (১৪০ নম্বর ওয়ার্ড)।

কলকাতা পৌরসভার ইতিহাসে রেকর্ড জয়ের ব্যবধানে জিতে নজির গড়েছেন রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খানের পুত্র ফৈয়াজ আহমেদ খান। ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের প্রার্থী ফৈয়াজের জয়ের ব্যবধান ৬২ হাজারের বেশি। ২০১৫ সালের পৌরভোটেও ৩০ হাজারের বেশি ভোটে জিতে রেকর্ড গড়েছিলেন ফৈয়াজ।

অন্যদিকে গত মার্চ-এপ্রিল মাসে বিধানসভার নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিজেপির কাছে কলকাতা পুরসভা নির্বাচন ছিল কার্যত প্রেস্টিজ ফাইট। আর সেই লক্ষ্যেই এবার ৯ জন মুসলিমকে প্রার্থী করেছিল তারা। যদিও তাদের কোন প্রার্থীই এই পুরসভার নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখতে পারেনি।
কংগ্রেসও ৩০ জনের বেশি মুসলিমকে প্রার্থী করেছিল। এর মধ্যে একমাত্র জয়ী প্রার্থী ১৩৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ওয়াসিম আনসারি।

স্বতন্ত্র দলের তিন জয়ী প্রার্থীর মধ্যে ২ জনই হলেন মুসলিম। ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী আয়েশা কানিজ এবং ১৩৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিজয়ী রুবিনা নাজ।

যদিও ২০১৫ সালের কলকাতা পৌরসভার নির্বাচনের তুলনায় এবার মুসলিম কাউন্সিলের সংখ্যা কমেছে। ওই বছর মুসলিম কাউন্সিলর ছিলেন ২৩ জন, এবার দুইটি কমে হয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে ১৪১ নম্বর ওয়ার্ডে পরাজিত হয়েছেন বিদায়ী কাউন্সিলর তথা কংগ্রেসের প্রার্থী মমতাজ বেগম। ওই ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র দলের প্রার্থী পূর্বাশা নস্কর। অন্যদিকে ৭৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর নিজামুদ্দিন শামসের পরিবর্তে ওই ওয়ার্ডে এবার সোমা দাসকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। ফলে দুইজন মুসলিম কাউন্সিলর কমেছে।

উল্লেখ্য, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তৃতীয়বারের জন্য ‘ছোট লালবাড়ি’ বলে খ্যাত কলকাতা পৌরভবন দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবারই ১৪৪টি ওয়ার্ডের ভোট গণনা হয়। এর মধ্যে ১৩৪ টি ওয়ার্ডে জয়ী হয় তৃণমূল। বিজেপি ৩টি, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস ২টি করে ওয়ার্ডে জয়ী হয় এবং বাকী ৩টি ওয়ার্ডে জয়ী হয় স্বতন্ত্র দলের প্রার্থীরা।

আগামী বৃহস্পতিবার পৌরবোর্ড গঠন করা হবে। তারপরই শপথ নেবেন নবনির্বাচিত মেয়র ও মেয়র পারিষদগণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতা পৌরসভার ভোটে জয়ী ২১ মুসলিম প্রার্থী; ১৮ জনই তৃণমূলের

আপডেট সময় ০২:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সদ্য সমাপ্ত ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন’ ভোটে জয়ী হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে তারা ১৩৪টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছে। এখন বোর্ড গঠনের পালা। কিন্তু এই পৌরসভার নির্বাচনে জয়ী হয়েছে ২১ জন মুসলিম প্রার্থী। সেক্ষেত্রে নতুন পৌরবোর্ডে ২১ জন মুসলিম কাউন্সিলর হবেন। এর মধ্যে মমতার ব্যনার্জির দল তৃণমূলে জয়ী মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন ১৮ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ২ জন এবং কংগ্রেসের ১ জন।

তৃণমূলের ১৮ জন জয়ী মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম কলকাতার বিদায়ী মেয়র ও রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, তিনি জয়ী হয়েছেন ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে। এছাড়াও রয়েছেন ইকবাল আহমেদ (২৯ নম্বর ওয়ার্ড), মহম্মদ জসিমউদ্দিন (৩৯), রেহানা খাতুন (৪৪), আমিরুদ্দিন (৫৪), কাইসার জামিল (৬০), মানজার ইকবাল (৬১), সানা আহমেদ (৬২), সাম্মি জাহান বেগম (৬৪), ফৈয়াজ আহমেদ খান (৬৬), নিজামুদ্দিন সামস (৭৫), সামিমা রেহান খান (৭৭), মহ: আনোয়ার খান (৮০), শামস ইকবাল (১৩৪), শামসুজ্জামান আনসারি (১৩৬), ফরিদা পারভীন (১৩৮), শেখ মুস্তাক আহমেদ (১৩৯), আবু মহম্মদ তারিখ (১৪০ নম্বর ওয়ার্ড)।

কলকাতা পৌরসভার ইতিহাসে রেকর্ড জয়ের ব্যবধানে জিতে নজির গড়েছেন রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খানের পুত্র ফৈয়াজ আহমেদ খান। ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের প্রার্থী ফৈয়াজের জয়ের ব্যবধান ৬২ হাজারের বেশি। ২০১৫ সালের পৌরভোটেও ৩০ হাজারের বেশি ভোটে জিতে রেকর্ড গড়েছিলেন ফৈয়াজ।

অন্যদিকে গত মার্চ-এপ্রিল মাসে বিধানসভার নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিজেপির কাছে কলকাতা পুরসভা নির্বাচন ছিল কার্যত প্রেস্টিজ ফাইট। আর সেই লক্ষ্যেই এবার ৯ জন মুসলিমকে প্রার্থী করেছিল তারা। যদিও তাদের কোন প্রার্থীই এই পুরসভার নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখতে পারেনি।
কংগ্রেসও ৩০ জনের বেশি মুসলিমকে প্রার্থী করেছিল। এর মধ্যে একমাত্র জয়ী প্রার্থী ১৩৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ওয়াসিম আনসারি।

স্বতন্ত্র দলের তিন জয়ী প্রার্থীর মধ্যে ২ জনই হলেন মুসলিম। ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী আয়েশা কানিজ এবং ১৩৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিজয়ী রুবিনা নাজ।

যদিও ২০১৫ সালের কলকাতা পৌরসভার নির্বাচনের তুলনায় এবার মুসলিম কাউন্সিলের সংখ্যা কমেছে। ওই বছর মুসলিম কাউন্সিলর ছিলেন ২৩ জন, এবার দুইটি কমে হয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে ১৪১ নম্বর ওয়ার্ডে পরাজিত হয়েছেন বিদায়ী কাউন্সিলর তথা কংগ্রেসের প্রার্থী মমতাজ বেগম। ওই ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র দলের প্রার্থী পূর্বাশা নস্কর। অন্যদিকে ৭৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর নিজামুদ্দিন শামসের পরিবর্তে ওই ওয়ার্ডে এবার সোমা দাসকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। ফলে দুইজন মুসলিম কাউন্সিলর কমেছে।

উল্লেখ্য, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তৃতীয়বারের জন্য ‘ছোট লালবাড়ি’ বলে খ্যাত কলকাতা পৌরভবন দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবারই ১৪৪টি ওয়ার্ডের ভোট গণনা হয়। এর মধ্যে ১৩৪ টি ওয়ার্ডে জয়ী হয় তৃণমূল। বিজেপি ৩টি, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস ২টি করে ওয়ার্ডে জয়ী হয় এবং বাকী ৩টি ওয়ার্ডে জয়ী হয় স্বতন্ত্র দলের প্রার্থীরা।

আগামী বৃহস্পতিবার পৌরবোর্ড গঠন করা হবে। তারপরই শপথ নেবেন নবনির্বাচিত মেয়র ও মেয়র পারিষদগণ।