ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল রাষ্ট্র পরিচালানার জন্য অভিজ্ঞতার দরকার আছে: নজরুল ইসলাম একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: তারেক রহমান নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে: আইজিপি

নির্বাচনে জিততে আ.লীগ সাম্প্রদায়িক হামলা করেছে: ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মালম্বীদের বাড়িঘর-মন্দিরে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘ক্ষমতা দীর্ঘ করতে এবং নির্বাচনে জিততে আওয়ামী লীগই দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।’

রবিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের উদ্যোগে ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও আজকের প্রেক্ষাপট, আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে সাম্প্রদায়িক হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আমি মনে করি, এখানে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, সেটির একটিই উদ্দেশ্য। তা হলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। সেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হলো, বর্তমানে বেআইনিভাবে যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করে আছে, তাদের ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘায়িত করা, সামনে যে নির্বাচন-নির্বাচন খেলা আসছে, সেই খেলায় আবার জয় লাভ করা। এটিই হচ্ছে মূল লক্ষ্য।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, এসব ঘটনার জন্য সরকার সম্পূর্ণভাবে দায়ী। এতে কোনো সন্দেহ নেই। এসব ঘটনা ঘটিয়েছে সরকার, আর উদ্দেশ্য হচ্ছে এখানে বিএনপিকে জড়িয়ে জনগণের আন্দোলন থেকে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরিয়ে নেওয়া।

রংপুরের পীরগঞ্জের হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করে মির্জা ফখরুল বলেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে আরেকজন আছে সৈকত মণ্ডল ও রেজাউল। তারা পুলিশের উপস্থিতিতে মাঝিপাড়ায় আগুন জ্বালিয়েছে। শুধু এটি নয়, প্রতিটি হামলা সরকার করেছে, সরকারের এজেন্টরা করেছে এবং তাদের মদদেই হয়েছে। এসব হামলা করে তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছে।

ভারতের ত্রিপুরায় হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, একটি কাকতালীয় ব্যাপার আছে। নাকি এর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে, আমি বিষয়টি জানি না। কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন অবমানটার ঘটনা যখন ঘটছে, তখন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ত্রিপুরায় একটি নির্বাচন হচ্ছে। সেখানেও কিন্তু সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাছিল করার ঘটনা নতুন কিছু নয়।

বিএনপির মহাসচিবের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সবাই বলেছে, আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চাই। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে এ মুহূর্তে সবার আগে তরুণ-যুবকদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

ফখরুল আরও বলেন, যারা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে, তারা অত্যন্ত সুচতুরভাবে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একটি দলকে স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় রাখার জন্য কাজ করছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যাতে সব দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হতে পারেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হতে পারে সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক সেলিমা রহমান। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও আয়োজক সংগঠনের সদস্য সচিব আইনজীবী নিপুন রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না

নির্বাচনে জিততে আ.লীগ সাম্প্রদায়িক হামলা করেছে: ফখরুল

আপডেট সময় ০৬:৩১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মালম্বীদের বাড়িঘর-মন্দিরে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘ক্ষমতা দীর্ঘ করতে এবং নির্বাচনে জিততে আওয়ামী লীগই দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।’

রবিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের উদ্যোগে ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও আজকের প্রেক্ষাপট, আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে সাম্প্রদায়িক হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আমি মনে করি, এখানে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, সেটির একটিই উদ্দেশ্য। তা হলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। সেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হলো, বর্তমানে বেআইনিভাবে যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করে আছে, তাদের ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘায়িত করা, সামনে যে নির্বাচন-নির্বাচন খেলা আসছে, সেই খেলায় আবার জয় লাভ করা। এটিই হচ্ছে মূল লক্ষ্য।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, এসব ঘটনার জন্য সরকার সম্পূর্ণভাবে দায়ী। এতে কোনো সন্দেহ নেই। এসব ঘটনা ঘটিয়েছে সরকার, আর উদ্দেশ্য হচ্ছে এখানে বিএনপিকে জড়িয়ে জনগণের আন্দোলন থেকে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরিয়ে নেওয়া।

রংপুরের পীরগঞ্জের হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করে মির্জা ফখরুল বলেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে আরেকজন আছে সৈকত মণ্ডল ও রেজাউল। তারা পুলিশের উপস্থিতিতে মাঝিপাড়ায় আগুন জ্বালিয়েছে। শুধু এটি নয়, প্রতিটি হামলা সরকার করেছে, সরকারের এজেন্টরা করেছে এবং তাদের মদদেই হয়েছে। এসব হামলা করে তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছে।

ভারতের ত্রিপুরায় হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, একটি কাকতালীয় ব্যাপার আছে। নাকি এর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে, আমি বিষয়টি জানি না। কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন অবমানটার ঘটনা যখন ঘটছে, তখন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ত্রিপুরায় একটি নির্বাচন হচ্ছে। সেখানেও কিন্তু সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাছিল করার ঘটনা নতুন কিছু নয়।

বিএনপির মহাসচিবের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সবাই বলেছে, আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চাই। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে এ মুহূর্তে সবার আগে তরুণ-যুবকদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

ফখরুল আরও বলেন, যারা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে, তারা অত্যন্ত সুচতুরভাবে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একটি দলকে স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় রাখার জন্য কাজ করছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যাতে সব দলের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হতে পারেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হতে পারে সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক সেলিমা রহমান। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও আয়োজক সংগঠনের সদস্য সচিব আইনজীবী নিপুন রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।