ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল রাষ্ট্র পরিচালানার জন্য অভিজ্ঞতার দরকার আছে: নজরুল ইসলাম একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: তারেক রহমান নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে: আইজিপি

দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টায় বিএনপি: হানিফ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুমিল্লায় মন্দিরে কোরআন রেখে বিএনপি দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত ‘কৃষক বাঁচাও-দেশ বাঁচাও’ দিবস পালন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, ‘কুমিল্লার নানুয়া দীঘির পাড় মন্দিরে প্রতিমার পাশে আপনারা কোরআন রেখে এলেন। এরপর দিন সারাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করেছেন। সেই মন্দিরে ভাঙচুর হয়েছে, তার জের ধরে চাঁদপুর নোয়াখালীতে ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ইকবাল গ্রেপ্তার হয়েছে। সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এর পেছনে শীর্ষস্থানীয় যুবদল বিএনপির কাউন্সিলরদের নাম এসেছে। এরপরও নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন।’

দেশের ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লায় মন্দিরে পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনায় বিএনপি জড়িত এটা এখন প্রমাণিত। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য পবিত্র কোরআান শরিফের অবমাননা করতেও তারা পিছপা হয়নি। তাই বিএনপির প্রতি আপনারা ধিক্কার জানান, প্রতিবাদ করুন।’

বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেনেড হামলার পর তারা ভেবেছেন পার পেয়ে যাবেন। ২১ আগস্ট হামলার মূল হোতা তারেক রহমান লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছে। ইতিমধ্যে বিচার শুরু হয়েছে। রায়ও হয়েছে। বিএনপি ধর্মকে ব্যবহার করে হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। কুমিল্লার ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মিথ্যাচার করে পার পাবেন না। ধর্মকে ব্যবহার করার মাশুল দিতে হবে।’

হানিফ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলমান সকলে মিলে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। যারা সাম্প্রদায়িক তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হতে পারে না। এখনো তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এদেরকে চিহ্নিত করে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে।’

এসময় তিনি সাম্প্রদায়িক বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, ‘বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল গেল কয়েক বছর ধরে এক ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছেন। দেশ শেষ হয়ে গেছে। কোথায় শেষ হয়ে গেছে? একটা সেক্টরও দেখাতে পারবেন না যে, আপনাদের সময়ে উন্নয়ন হয়েছে। তিনি ভাঙা রেকর্ড বাজানোর জন্য প্রায় প্রতিদিনই প্রেসক্লাবে মানববন্ধন করেন। তার ভাঙা রেকর্ড প্রতিদিন বাজে।’

হানিফ বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে তারা কষ্ট পান। তারা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অঙ্গপ্রদেশ হিসেবে দেখতে চান। বিএনপির দিলের মধ্যে পাকিস্তান আছে। দেশের উন্নয়ন তাদের জ্বালা হয়। দেশের অগ্রগতি বাধাগস্ত করার জন্য বহু চেষ্টা করেছেন। ২০১২-১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের জন্য সারাদেশে আগুন নিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছেন। ২০১৪ সালে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়ে পরে প্রতিহত করার জন্য সাধারণ মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। ২০১৫ সালে পেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছেন। লক্ষ্য ছিল একটাই শেখ হাসিনার উন্নয়ন, অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা, শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানো। এদেশের বাংলার জনগণ শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে, বাংলার মানুষ আওয়ামী লীগের পাশে আছে বলে আপনাদের সকল ষড়যন্ত্র ব্যাথ হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ নম্বর দেশ, সবজি রপ্তানিতে তৃতীয়। মিষ্টি পানির মাছ রপ্তানিতেও আমরা চতুর্থ। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে আজ বাংলাদেশ গোটা বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল। সাড়ে সাত কোটি মানুষ দু’বেলা খাবার খেতে পারতো না। আজ দেশে ১৮ কোটি মানুষ। দেশের এক লাখ হেক্টরের বেশি জমি আবাসনে চলে যায়। তবুও আজ শেখ হাসিনার কারণে মানুষ তিন বেলা খেতে পারে। এই সফলতাগুলো মির্জা ফখরুল সাহেবরা দেখেন না। তাদের মধ্যে ঈর্ষা কাজ করে।’

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ্র। অলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না

দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টায় বিএনপি: হানিফ

আপডেট সময় ১১:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কুমিল্লায় মন্দিরে কোরআন রেখে বিএনপি দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত ‘কৃষক বাঁচাও-দেশ বাঁচাও’ দিবস পালন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, ‘কুমিল্লার নানুয়া দীঘির পাড় মন্দিরে প্রতিমার পাশে আপনারা কোরআন রেখে এলেন। এরপর দিন সারাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করেছেন। সেই মন্দিরে ভাঙচুর হয়েছে, তার জের ধরে চাঁদপুর নোয়াখালীতে ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ইকবাল গ্রেপ্তার হয়েছে। সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এর পেছনে শীর্ষস্থানীয় যুবদল বিএনপির কাউন্সিলরদের নাম এসেছে। এরপরও নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন।’

দেশের ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লায় মন্দিরে পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনায় বিএনপি জড়িত এটা এখন প্রমাণিত। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য পবিত্র কোরআান শরিফের অবমাননা করতেও তারা পিছপা হয়নি। তাই বিএনপির প্রতি আপনারা ধিক্কার জানান, প্রতিবাদ করুন।’

বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেনেড হামলার পর তারা ভেবেছেন পার পেয়ে যাবেন। ২১ আগস্ট হামলার মূল হোতা তারেক রহমান লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছে। ইতিমধ্যে বিচার শুরু হয়েছে। রায়ও হয়েছে। বিএনপি ধর্মকে ব্যবহার করে হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। কুমিল্লার ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মিথ্যাচার করে পার পাবেন না। ধর্মকে ব্যবহার করার মাশুল দিতে হবে।’

হানিফ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলমান সকলে মিলে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। যারা সাম্প্রদায়িক তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হতে পারে না। এখনো তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। এদেরকে চিহ্নিত করে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে।’

এসময় তিনি সাম্প্রদায়িক বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, ‘বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল গেল কয়েক বছর ধরে এক ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছেন। দেশ শেষ হয়ে গেছে। কোথায় শেষ হয়ে গেছে? একটা সেক্টরও দেখাতে পারবেন না যে, আপনাদের সময়ে উন্নয়ন হয়েছে। তিনি ভাঙা রেকর্ড বাজানোর জন্য প্রায় প্রতিদিনই প্রেসক্লাবে মানববন্ধন করেন। তার ভাঙা রেকর্ড প্রতিদিন বাজে।’

হানিফ বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে তারা কষ্ট পান। তারা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অঙ্গপ্রদেশ হিসেবে দেখতে চান। বিএনপির দিলের মধ্যে পাকিস্তান আছে। দেশের উন্নয়ন তাদের জ্বালা হয়। দেশের অগ্রগতি বাধাগস্ত করার জন্য বহু চেষ্টা করেছেন। ২০১২-১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের জন্য সারাদেশে আগুন নিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছেন। ২০১৪ সালে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়ে পরে প্রতিহত করার জন্য সাধারণ মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। ২০১৫ সালে পেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছেন। লক্ষ্য ছিল একটাই শেখ হাসিনার উন্নয়ন, অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা, শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানো। এদেশের বাংলার জনগণ শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে, বাংলার মানুষ আওয়ামী লীগের পাশে আছে বলে আপনাদের সকল ষড়যন্ত্র ব্যাথ হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ নম্বর দেশ, সবজি রপ্তানিতে তৃতীয়। মিষ্টি পানির মাছ রপ্তানিতেও আমরা চতুর্থ। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে আজ বাংলাদেশ গোটা বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল। সাড়ে সাত কোটি মানুষ দু’বেলা খাবার খেতে পারতো না। আজ দেশে ১৮ কোটি মানুষ। দেশের এক লাখ হেক্টরের বেশি জমি আবাসনে চলে যায়। তবুও আজ শেখ হাসিনার কারণে মানুষ তিন বেলা খেতে পারে। এই সফলতাগুলো মির্জা ফখরুল সাহেবরা দেখেন না। তাদের মধ্যে ঈর্ষা কাজ করে।’

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ্র। অলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট শামীমা শাহরিয়ার।