আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ফোনে আড়িপাতাসহ নানা ক্ষেত্রে আইনের কতটুকু মানা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। বিভিন্ন মামলায় জামিন করাতে গিয়ে অসংখ্য মানুষ নিঃস্ব ও ফতুর হচ্ছে জানিয়ে এ বিষয়ে আদালত কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার বিকালে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার কারাজীবন নিয়ে লেখা ‘কারাবাসের বাইশ মাস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শাহদীন মালিক বলেন, ‘কোনো দেশের সরকার কর্তৃত্ববাদী হলে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ধাপে ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একটা সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র গড়ে তোলে। আমরাও ধাপে ধাপে সেদিকেই এগোচ্ছি। এই নিয়ে আমি এখন খুবই আতঙ্কিত।’
বিএনপির সময়ে এই পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে এই আইনজীবী বলেন, ‘অবশ্য এসব বিএনপিই শুরু করেছিল। অপারেশন ক্লিনহার্ট, যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন-২০০৩। এসব তো ওই সময়ই হয়েছিল। এগুলো ধাপে ধাপে বাড়তে বাড়তে আজকের অবস্থায় উপণীত হয়েছে।’
বিশিষ্ট এই আইনজীবী বলেন, ‘আইনে বলা আছে- ফোনে আড়িপাতা যাবে না। তবে ৯৭-ক ধারায় এ নিয়ে নির্দেশনা আছে। পরের ক্লজে বলা আছে- কেবল সরকার বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে আড়িপাতার অনুমতি দিতে পারে। সেটাও হতে হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্বাক্ষরে। কিন্তু সেটা কি ফলো করা হয়েছে বা হচ্ছে? আইনে তো অনেক ভালো ও সুন্দর কথা বলা আছে। অর্থাৎ আড়িপাতা ব্যক্তির কথা বলাকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।’
বিএনপির প্রয়াত নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও মাহমুদুর রহমান মান্নার ফাঁস হওয়া ফোনালাপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের টেলিকথোপকথন ফাঁস হওয়া নিয়ে যে মামলা তা ভিত্তিহীন। আজকে একটা মামলায় জামিন করাতে গিয়ে কত মানুষ যে নিঃস্ব ও ফতুর হচ্ছে তার যেন শেষ নেই। এ বিষয়ে আদালত কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’
বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে জিয়াউর রহমানকে ওই মামলার আসামি করা হতো। অথচ ঘটনা ৭৫ সালের, আরেকটা ৮১ সালের। এটা যে কতটা এবসার্ড বা অযৌক্তিক? একেবারেই উল্টাপাল্টা কথা।’
অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মান্নার বইয়ের আলোচ্য বিষয় নিয়ে কথা তুলে ধরে বলেন, জেলখানায় চোর-ডাকাতসহ নানা ধরনের লোক আছে। সেখানে আমাদের মতো রাজনীতিবিদদের রাখা হয় তাদের সঙ্গে। এটা কি নিপীড়ন নয়?’
রিজভী বলেন, ‘রাজনীতিতে একটা শৃঙ্খলা ও সম্মানবোধ ছিল। কিন্তু এই সরকার সব শৃঙ্খলা ও নিয়ম নষ্ট করে ফেলেছে। এখন মাদকসেবীর যে সম্মান রাজনীতিবিদদের সেটা নেই। মান্নার সঙ্গে যেমন আচরণ করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিদারুণ, নিষ্ঠুর এবং নিন্দনীয়। দেশে কেবল ভিন্নমতের রাজনীতিবিদদের নির্যাতন করা হচ্ছে। অথচ উন্নত রাষ্ট্রে কারাগারকে বলা হয় সংশোধনাগার। আর বাংলাদেশের কারাগারের ভয়ংকর পৈশাচিক রূপ।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘তবে বইয়ের ভেতরে জিয়াউর রহমান ও স্বৈরাচার এরশাদকে নিয়ে যে তুলনা করা হয়েছে, এটা ঠিক নয়। জিয়াউর রহমান ও এরশাদ কখনোই এক হতে পারে না। কারণ জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার। তিনি জীবনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে দেশের সব উন্নয়নের রূপকার। বাকশালের গুহা থেকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন জিয়াউর রহমান। সুতরাং দেশ রক্ষা ও দেশের উন্নয়নে তার ভূমিকা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















