ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কানের দুলের জন্য শিশুকে হত্যা, নারীকে গণধোলাই

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিন আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুলের জন্য পপি সাহা (৭) নামে সাত বছরের এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে বামনী ইউপির সাগর্দি গ্রামের অস্বীনি সাহার বাড়িতে।

এ ঘটনায় ঘাতক রুমা আক্তারকে গণপিটুনি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরে পুলিশ রুমা ও তার স্বামী দিনমজুর এমরান হোসেনকে আটক করেছে। তারা একই বাড়ির প্রবাসী কাশেমের ভাড়াটিয়া ও পানপারা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

নিহত পপি সাহা (৭) একই গ্রামের প্রবাসী-নিমল সাহা ও ববিতা সাহার একমাত্র মেয়ে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রুমার ঘরে গত কয়েক দিন ধরে খাবার ছিল না। স্বামীও বাজার করছে না। শিশু পপির মায়ের কাছে ৪শ টাকা ধার চান; কিন্তু দেবেন না বলে জানান রুমাকে। গত চার দিন আগে পপি সাহাকে তার মা ১২ হাজার টাকা মূল্যের তিন আনা কানের দুল কিনে দেন। এ দুলের জন্য শিশুর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন ভাড়াটিয়া রুমা আক্তার।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রাইভেট পড়ে ঘরে এসে শিশুদের সঙ্গে খেলা করতে গিয়ে বেলা ১১টায় পপি নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য জায়গায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে দুপুর ২টার সময় ভাড়াটিয়া রুমার বাসায় শিশুকে খোঁজ করতে যান তার ফুফু। কিন্তু ফুফুকে বাসায় ঢুকতে না দিয়ে বাসা তালা দিয়ে তাড়াহুড়ো করে অন্যত্র চলে যাওয়ার সময় সন্দেহ হলে আটক করা হয় রুমাকে।

পরে বাসার তালা খুলে দেখেন খাটের নিচে হাটু ভাঙা অবস্থায় বসিয়ে রাখা হয়েছে পপিকে। পরে উদ্ধার করে দেখে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এর আগেই কানের দুল বাজারে বিক্রি করে দেয় রুমা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা ববিতা সাহা বাদী হয়ে ভাড়াটিয়া রুমা আক্তার (২৫), তার স্বামী এমরান হোসেনকে (৩৫) আসামি করে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এর আগে পুলিশ ওই দুইজনকে গ্রাম থেকে আটক করে থানায় আনেন।

রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, শিশুর কানের দুল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তাকে হত্যার ঘটনায় রুমা ও তার স্বামীকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। তাদের দুইজনকেই আদালতে পাঠানো হবে। রুমা এ হত্যার ঘটনার দায় স্বীকার করে আমাদের জবানবন্দি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত চার বছর আগে রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর গ্রামের বয়াতিবাড়ির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত রুমা আক্তার দেড় বছর কারাভোগ করেন। রুমা বর্তমানে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন বলে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

কানের দুলের জন্য শিশুকে হত্যা, নারীকে গণধোলাই

আপডেট সময় ১১:১০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তিন আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুলের জন্য পপি সাহা (৭) নামে সাত বছরের এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে বামনী ইউপির সাগর্দি গ্রামের অস্বীনি সাহার বাড়িতে।

এ ঘটনায় ঘাতক রুমা আক্তারকে গণপিটুনি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরে পুলিশ রুমা ও তার স্বামী দিনমজুর এমরান হোসেনকে আটক করেছে। তারা একই বাড়ির প্রবাসী কাশেমের ভাড়াটিয়া ও পানপারা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

নিহত পপি সাহা (৭) একই গ্রামের প্রবাসী-নিমল সাহা ও ববিতা সাহার একমাত্র মেয়ে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রুমার ঘরে গত কয়েক দিন ধরে খাবার ছিল না। স্বামীও বাজার করছে না। শিশু পপির মায়ের কাছে ৪শ টাকা ধার চান; কিন্তু দেবেন না বলে জানান রুমাকে। গত চার দিন আগে পপি সাহাকে তার মা ১২ হাজার টাকা মূল্যের তিন আনা কানের দুল কিনে দেন। এ দুলের জন্য শিশুর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন ভাড়াটিয়া রুমা আক্তার।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রাইভেট পড়ে ঘরে এসে শিশুদের সঙ্গে খেলা করতে গিয়ে বেলা ১১টায় পপি নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য জায়গায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে দুপুর ২টার সময় ভাড়াটিয়া রুমার বাসায় শিশুকে খোঁজ করতে যান তার ফুফু। কিন্তু ফুফুকে বাসায় ঢুকতে না দিয়ে বাসা তালা দিয়ে তাড়াহুড়ো করে অন্যত্র চলে যাওয়ার সময় সন্দেহ হলে আটক করা হয় রুমাকে।

পরে বাসার তালা খুলে দেখেন খাটের নিচে হাটু ভাঙা অবস্থায় বসিয়ে রাখা হয়েছে পপিকে। পরে উদ্ধার করে দেখে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এর আগেই কানের দুল বাজারে বিক্রি করে দেয় রুমা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা ববিতা সাহা বাদী হয়ে ভাড়াটিয়া রুমা আক্তার (২৫), তার স্বামী এমরান হোসেনকে (৩৫) আসামি করে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এর আগে পুলিশ ওই দুইজনকে গ্রাম থেকে আটক করে থানায় আনেন।

রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, শিশুর কানের দুল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তাকে হত্যার ঘটনায় রুমা ও তার স্বামীকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। তাদের দুইজনকেই আদালতে পাঠানো হবে। রুমা এ হত্যার ঘটনার দায় স্বীকার করে আমাদের জবানবন্দি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত চার বছর আগে রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর গ্রামের বয়াতিবাড়ির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত রুমা আক্তার দেড় বছর কারাভোগ করেন। রুমা বর্তমানে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন বলে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান।