ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন শি জিনপিং ইলিয়াস মোল্লাহর জমি–গাড়ি–মার্কেট–ফ্ল্যাট জব্দ, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ ময়মনসিংহে জনসভায় যোগ দিয়েছেন তারেক রহমান সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে টেকনাফে দুই কিশোর আহত আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া ‘চরম অপমান’: শফিকুর রহমান বাংলাদেশি‌দের জন্য ওয়ার্ক ভিসা চালুর আশ্বাস ওমানের শ্রমমন্ত্রীর ‘আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর’ ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা সেই জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদের

জম্মু-কাশ্মীরের নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানি প্রয়াত, বন্ধ ইন্টারনেট

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানি আর নেই। বুধবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিট নাগাদ শ্রীনগরের হায়দরপুরায় তার নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বুক ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল তার।

গিলানিকে জম্মু ও কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। তার মৃত্যুর পর উপত্যকায় কোনো রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কাশ্মীর জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইন্টারনেট সেবাও সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। হায়দরপুরায় গিলানির বাড়ির বাইরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

২০১৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সেসময় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল তাকে। পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
২০১৯ সালের আগস্টে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই তাকে গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ ওঠে। গত বছর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। বর্তমানে তার দুই পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। গিলানির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিট নাগাদ হায়দরপুরাতে বাড়ির পাশে তাকে কবর দেওয়া হয়। শেষকৃত্যের সময় তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা উপস্থিত ছিলেন। এমনকি গণমাধ্যমের কর্মীদেরও সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।

১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জম্মু-কাশ্মীরের বন্দিপোরের জুরমাঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন গিলানি। পেশায় স্কুল শিক্ষক ছিলেন। ন্যাশনাল কনফারেন্স’এর সিনিয়র নেতা মৌলানা মহম্মদ সৈয়দ মাসুদির অভিভাকত্বের রাজনীতিতে পা রাখেন এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি জামাত-ই-ইসলামি নামে একটি সংগঠনে যোগ দেন। পরে ‘তেহরিক-ই-হুরিয়ত’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ‘অল-পার্টি-হুরিয়ত কনফারেন্স’এর চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি সেই দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

১৯৭২, ১৯৭৭ ও ১৯৮৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরের সোপোর আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন গিলানি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করলেন শি জিনপিং

জম্মু-কাশ্মীরের নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানি প্রয়াত, বন্ধ ইন্টারনেট

আপডেট সময় ০২:০৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানি আর নেই। বুধবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিট নাগাদ শ্রীনগরের হায়দরপুরায় তার নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বুক ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল তার।

গিলানিকে জম্মু ও কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। তার মৃত্যুর পর উপত্যকায় কোনো রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কাশ্মীর জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইন্টারনেট সেবাও সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। হায়দরপুরায় গিলানির বাড়ির বাইরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

২০১৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সেসময় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল তাকে। পরে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
২০১৯ সালের আগস্টে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই তাকে গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ ওঠে। গত বছর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। বর্তমানে তার দুই পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। গিলানির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিট নাগাদ হায়দরপুরাতে বাড়ির পাশে তাকে কবর দেওয়া হয়। শেষকৃত্যের সময় তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা উপস্থিত ছিলেন। এমনকি গণমাধ্যমের কর্মীদেরও সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।

১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জম্মু-কাশ্মীরের বন্দিপোরের জুরমাঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন গিলানি। পেশায় স্কুল শিক্ষক ছিলেন। ন্যাশনাল কনফারেন্স’এর সিনিয়র নেতা মৌলানা মহম্মদ সৈয়দ মাসুদির অভিভাকত্বের রাজনীতিতে পা রাখেন এবং অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি জামাত-ই-ইসলামি নামে একটি সংগঠনে যোগ দেন। পরে ‘তেহরিক-ই-হুরিয়ত’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ‘অল-পার্টি-হুরিয়ত কনফারেন্স’এর চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি সেই দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

১৯৭২, ১৯৭৭ ও ১৯৮৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরের সোপোর আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন গিলানি।