ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নায়িকার লোভ দেখিয়ে যৌনপল্লীতে বিক্রি, দেড় বছর পর উদ্ধার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

৯৯৯-এ ফোন দিয়ে দীর্ঘ দেড় বছর পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার পেয়েছে এক তরুণী (২৫)। নায়িকা বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে পাচারকারী দলের এক সদস্য তাকে গোয়ালন্দ উপজেলার দেশের বৃহত্তম দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ যৌনপল্লীতে অভিযান চালিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় জড়িত রিতা (২৭) ও তার কথিত স্বামী সোহেল রানাকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যৌনপল্লীতে পাচার করে নিয়ে আসার পর এই দম্পতি ওই তরুণীকে একটি বদ্ধ ঘরে আটকে রেখে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক দেহব্যবসা চালিয়ে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা পর শনিবার তাদের রাজবাড়ীর জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এ রকমভাবে আগেও অনেক মেয়ে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বন্দিদশা থেকে উদ্ধার হলেও পাচারকারী দালালচক্র ও যৌনপল্লীর বাড়িওয়ালীদের কোন সাজা হয় না।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার তরুণী চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার এক দরিদ্র ভ্যানচালকের মেয়ে। চার ভাইবোনের মধ্যে সে সবার বড়। সাত বছর আগে ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় তার বিয়ে হয়। দরিদ্র স্বামীর সংসারে কিছু একটা করার তাগিদে সে উদগ্রীব ছিল। এমতাবস্থায় মোবাইল ফোনে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। সে তরুণীকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে ওই ব্যক্তি তাকে নায়িকা হিসেবে শুটিংয়ের জন্য দ্রুত গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় চলে আসতে বলে। তার কথা মতো তরুণী দৌলতদিয়ায় এলে ওই ব্যক্তি তাকে যৌনপল্লীর রিতা ও সোহেলের নিকট নিয়ে গিয়ে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়।

শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে তরুণীর ঘরে এক খদ্দের পাঠানো হলে সে ওই খদ্দেরের কাছে তার দুর্দশার কথা খুলে বলে। খরিদ্দার তরুণীর প্রতি আন্তরিক হলে তরুণী খদ্দেরের মোবাইল ফোন থেকে ৯৯৯-এ ফোন করে তাকে উদ্ধারের অনুরোধ জানান। এর কিছুক্ষণ পর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে তাকে বন্দিদশা হতে উদ্ধার করে। এ সময় রিতা এবং সোহেল রানাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, উদ্ধার তরুণী বাদী হয়ে শুক্রবার রাতেই রিতা ও তার স্বামী সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার আসামিদের শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া উদ্ধার তরুণীকে তার বাবার কাছে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নায়িকার লোভ দেখিয়ে যৌনপল্লীতে বিক্রি, দেড় বছর পর উদ্ধার

আপডেট সময় ১১:২০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

৯৯৯-এ ফোন দিয়ে দীর্ঘ দেড় বছর পর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে উদ্ধার পেয়েছে এক তরুণী (২৫)। নায়িকা বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে পাচারকারী দলের এক সদস্য তাকে গোয়ালন্দ উপজেলার দেশের বৃহত্তম দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ যৌনপল্লীতে অভিযান চালিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় জড়িত রিতা (২৭) ও তার কথিত স্বামী সোহেল রানাকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

যৌনপল্লীতে পাচার করে নিয়ে আসার পর এই দম্পতি ওই তরুণীকে একটি বদ্ধ ঘরে আটকে রেখে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক দেহব্যবসা চালিয়ে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা পর শনিবার তাদের রাজবাড়ীর জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এ রকমভাবে আগেও অনেক মেয়ে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বন্দিদশা থেকে উদ্ধার হলেও পাচারকারী দালালচক্র ও যৌনপল্লীর বাড়িওয়ালীদের কোন সাজা হয় না।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার তরুণী চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার এক দরিদ্র ভ্যানচালকের মেয়ে। চার ভাইবোনের মধ্যে সে সবার বড়। সাত বছর আগে ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় তার বিয়ে হয়। দরিদ্র স্বামীর সংসারে কিছু একটা করার তাগিদে সে উদগ্রীব ছিল। এমতাবস্থায় মোবাইল ফোনে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। সে তরুণীকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে ওই ব্যক্তি তাকে নায়িকা হিসেবে শুটিংয়ের জন্য দ্রুত গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় চলে আসতে বলে। তার কথা মতো তরুণী দৌলতদিয়ায় এলে ওই ব্যক্তি তাকে যৌনপল্লীর রিতা ও সোহেলের নিকট নিয়ে গিয়ে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়।

শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে তরুণীর ঘরে এক খদ্দের পাঠানো হলে সে ওই খদ্দেরের কাছে তার দুর্দশার কথা খুলে বলে। খরিদ্দার তরুণীর প্রতি আন্তরিক হলে তরুণী খদ্দেরের মোবাইল ফোন থেকে ৯৯৯-এ ফোন করে তাকে উদ্ধারের অনুরোধ জানান। এর কিছুক্ষণ পর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে তাকে বন্দিদশা হতে উদ্ধার করে। এ সময় রিতা এবং সোহেল রানাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর জানান, উদ্ধার তরুণী বাদী হয়ে শুক্রবার রাতেই রিতা ও তার স্বামী সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার আসামিদের শনিবার আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া উদ্ধার তরুণীকে তার বাবার কাছে পাঠানো হয়েছে।