ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আমাজনবাসীর

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইয়া বলসোনারোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ করেছেন আমাজনের বাসিন্দারা। গণহত্যার অভিযোগও উঠেছে।

আন্তর্জাতিক আদালতের ফৌজদারি বিভাগের দ্বারস্থ ব্রাজিলের আমাজনের বাসিন্দাদের একটি গ্রুপ। তাদের অভিযোগ, জাইয়া বলসোনারো একদিকে যেমন আমাজন বন ধ্বংস করছেন, তেমনই আমাজনে বসবাসকারী জনজাতিগুলিকেও শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছেন। আইনের ধোঁয়াশা তৈরি করে তাদের জমি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যার ফলে লড়াই হচ্ছে। মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। একেই গণহত্যা বলে উল্লেখ করেছেন আমাজনের বাসিন্দারা।

আন্তর্জাতিক সংজ্ঞায় গণহত্যা বা জেনোসাইড শব্দটির অর্থ কোনো গোষ্ঠী বা জাতি অথবা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে মারা বা মারার চেষ্টা। ২০০২ সালের রোম স্ট্যাটিউট অনুসারে এই সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়। একই সঙ্গে মানবজাতি এবং মানবাধিকারের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়টিও সেখানে ঢোকানো হয়। আন্তর্জাতিক আদালতে আমাজনের নাগরিকরা যে অভিযোগ জানিয়েছেন, সেখানে ওই স্ট্যাটিউটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আমাজনের প্রায় সমস্ত গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নিয়ে তৈরি হয়েছে এপিআইবি বলে একটি সংগঠন। মামলাটি তারাই করেছে। তাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন ধরে বলসোনারো আমাজনের বাসিন্দাদের অপমান করেছেন। তাদের অধিকারের প্রশ্ন সামনে এলেই তিনি চিড়িয়াখানার জন্তুদের সঙ্গে তাদের তুলনা করেছেন। একবার নয়, বারবার। শুধু তাই নয়, অভিযোগ, আমাজনের জনগোষ্ঠীদের জন্য চিহ্নিত জায়গায় অবাধে খনি তৈরি করতে দিয়েছেন বলসোনারো। গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছেন। আমাজনের জনগোষ্ঠীর জঙ্গলের অধিকার আছে। সেই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তাদের জন্য জায়গা চিহ্নিত করার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

এপিআইবি’র অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, খনির মালিকরা তাদের এলাকায় এসে কাজ করতে গেলে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আমাজনের জনগোষ্ঠীর বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যার দায় বলসোনারোকে নিতে হবে। তিনি পরিকল্পনামাফিক জনগোষ্ঠীগুলিকে ধ্বংস করতে চাইছেন। সে কারণেই তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আদালতে এটাই প্রথম বলসোনারোর বিরুদ্ধে মামলা নয়। ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা হয়েছিল। আমাজনে আগুন লাগার পিছনে বলসোনারোর হাত আছে, এমন অভিযোগ উঠেছিল। আমাজন বন ধ্বংস করে ওই এলাকা তিনি শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিতে চাইছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।

হেগের আন্তর্জাতিক আদালত জানিয়েছে, নতুন মামলাটিকে পুরনো মামলাটির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। মামলার শুনানি শুরু হবে বলেও আদালতের তরফে জানানো হয়েছে। প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠনের দাবি, বলসোনারোর আমলে ব্রাজিলের আমাজনের অনেকটাই ধ্বংস করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিজে প্রকাশ্যে বলেছেন, আমাজন রক্ষা করতে গেলে উন্নয়নের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আমাজনবাসীর

আপডেট সময় ০৭:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অগাস্ট ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইয়া বলসোনারোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ করেছেন আমাজনের বাসিন্দারা। গণহত্যার অভিযোগও উঠেছে।

আন্তর্জাতিক আদালতের ফৌজদারি বিভাগের দ্বারস্থ ব্রাজিলের আমাজনের বাসিন্দাদের একটি গ্রুপ। তাদের অভিযোগ, জাইয়া বলসোনারো একদিকে যেমন আমাজন বন ধ্বংস করছেন, তেমনই আমাজনে বসবাসকারী জনজাতিগুলিকেও শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছেন। আইনের ধোঁয়াশা তৈরি করে তাদের জমি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যার ফলে লড়াই হচ্ছে। মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। একেই গণহত্যা বলে উল্লেখ করেছেন আমাজনের বাসিন্দারা।

আন্তর্জাতিক সংজ্ঞায় গণহত্যা বা জেনোসাইড শব্দটির অর্থ কোনো গোষ্ঠী বা জাতি অথবা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে মারা বা মারার চেষ্টা। ২০০২ সালের রোম স্ট্যাটিউট অনুসারে এই সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়। একই সঙ্গে মানবজাতি এবং মানবাধিকারের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়টিও সেখানে ঢোকানো হয়। আন্তর্জাতিক আদালতে আমাজনের নাগরিকরা যে অভিযোগ জানিয়েছেন, সেখানে ওই স্ট্যাটিউটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আমাজনের প্রায় সমস্ত গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নিয়ে তৈরি হয়েছে এপিআইবি বলে একটি সংগঠন। মামলাটি তারাই করেছে। তাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন ধরে বলসোনারো আমাজনের বাসিন্দাদের অপমান করেছেন। তাদের অধিকারের প্রশ্ন সামনে এলেই তিনি চিড়িয়াখানার জন্তুদের সঙ্গে তাদের তুলনা করেছেন। একবার নয়, বারবার। শুধু তাই নয়, অভিযোগ, আমাজনের জনগোষ্ঠীদের জন্য চিহ্নিত জায়গায় অবাধে খনি তৈরি করতে দিয়েছেন বলসোনারো। গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছেন। আমাজনের জনগোষ্ঠীর জঙ্গলের অধিকার আছে। সেই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তাদের জন্য জায়গা চিহ্নিত করার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

এপিআইবি’র অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, খনির মালিকরা তাদের এলাকায় এসে কাজ করতে গেলে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আমাজনের জনগোষ্ঠীর বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যার দায় বলসোনারোকে নিতে হবে। তিনি পরিকল্পনামাফিক জনগোষ্ঠীগুলিকে ধ্বংস করতে চাইছেন। সে কারণেই তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আদালতে এটাই প্রথম বলসোনারোর বিরুদ্ধে মামলা নয়। ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা হয়েছিল। আমাজনে আগুন লাগার পিছনে বলসোনারোর হাত আছে, এমন অভিযোগ উঠেছিল। আমাজন বন ধ্বংস করে ওই এলাকা তিনি শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিতে চাইছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।

হেগের আন্তর্জাতিক আদালত জানিয়েছে, নতুন মামলাটিকে পুরনো মামলাটির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। মামলার শুনানি শুরু হবে বলেও আদালতের তরফে জানানো হয়েছে। প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠনের দাবি, বলসোনারোর আমলে ব্রাজিলের আমাজনের অনেকটাই ধ্বংস করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিজে প্রকাশ্যে বলেছেন, আমাজন রক্ষা করতে গেলে উন্নয়নের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।