ঢাকা ১১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর

‘রোহিঙ্গাদের জন্য বড় ধরনের পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ সরকার’

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তাবাহিনীর নিধনযজ্ঞের কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আশ্রয়শিবির নির্মাণের বড় ধরনের পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজার জেলায় ২ হাজার একর জমিতে আগামী ১০ দিনের মধ্যে নতুন বসতি স্থাপন করা হবে। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই দাবি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় সেখানে ১৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব আশ্রয় কেন্দ্রের প্রতিটিতে ছয়টি পরিবার থাকতে পারবে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জন্য দরিদ্র এবং জনবহুল বাংলাদেশ কোন আদর্শ আশ্রয়স্থল নয়। কিন্তু মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সংখ্যালঘু এই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এদেশে প্রবেশ করে থাকে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালালে দমন অভিযানে নামে সু চি সরকার। প্রাণ বাঁচাতে তাই গত ৩ সপ্তাহে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা। ফলে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের শরণার্থীদের এখন উপচে পড়া ভিড়। এছাড়া মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইন রাজ্যে গ্রামে গ্রামে গিয়ে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষ খুঁজে তাদের হত্যা করছে। নারীদের ধর্ষণ করছে। বাড়িতে আটকে রেখে আগুন দেয়ার কথাও পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন।

এদিকে স্যাটেলাইটে তোলা ছবি পর্যালোচনা করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যূষিত কোন গ্রামই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পায়নি। এছাড়া ছবিতে দেখা গেছে, প্রায় সবগুলো গ্রামই জ্বালিয়ে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় বৌদ্ধ উগ্রপন্থীরা।

বাংলাদেশ সরকার বলছে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দেয়া হয়েছে। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘমেয়াদে তাদের আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয়। এছাড়া অনিবন্ধিত কোনো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় শিবিরের বাইরে ভ্রমণের সুযোগ দেয়া হবে না। একমাত্র যাদের নিবন্ধন থাকবে, শুধুমাত্র তারাই সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা

‘রোহিঙ্গাদের জন্য বড় ধরনের পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ সরকার’

আপডেট সময় ০৪:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশ সরকার নিরাপত্তাবাহিনীর নিধনযজ্ঞের কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আশ্রয়শিবির নির্মাণের বড় ধরনের পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজার জেলায় ২ হাজার একর জমিতে আগামী ১০ দিনের মধ্যে নতুন বসতি স্থাপন করা হবে। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই দাবি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় সেখানে ১৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব আশ্রয় কেন্দ্রের প্রতিটিতে ছয়টি পরিবার থাকতে পারবে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জন্য দরিদ্র এবং জনবহুল বাংলাদেশ কোন আদর্শ আশ্রয়স্থল নয়। কিন্তু মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সংখ্যালঘু এই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এদেশে প্রবেশ করে থাকে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালালে দমন অভিযানে নামে সু চি সরকার। প্রাণ বাঁচাতে তাই গত ৩ সপ্তাহে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা। ফলে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের শরণার্থীদের এখন উপচে পড়া ভিড়। এছাড়া মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইন রাজ্যে গ্রামে গ্রামে গিয়ে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষ খুঁজে তাদের হত্যা করছে। নারীদের ধর্ষণ করছে। বাড়িতে আটকে রেখে আগুন দেয়ার কথাও পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন।

এদিকে স্যাটেলাইটে তোলা ছবি পর্যালোচনা করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যূষিত কোন গ্রামই মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পায়নি। এছাড়া ছবিতে দেখা গেছে, প্রায় সবগুলো গ্রামই জ্বালিয়ে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় বৌদ্ধ উগ্রপন্থীরা।

বাংলাদেশ সরকার বলছে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দেয়া হয়েছে। কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘমেয়াদে তাদের আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয়। এছাড়া অনিবন্ধিত কোনো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় শিবিরের বাইরে ভ্রমণের সুযোগ দেয়া হবে না। একমাত্র যাদের নিবন্ধন থাকবে, শুধুমাত্র তারাই সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে।