ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল নগর উন্নয়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ এক দফার ঘোষণা করেছিল: রাশেদ খান কামরাঙ্গীরচরে কারখানায় আগুন এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে ইইউ ও জি৭৭’র সমর্থন পুনর্ব্যক্ত দেশকে গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে : এমপি খোকন হরমুজ প্রণালি সংকটে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে: আইইএ প্রধান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে: অর্থমন্ত্রী রাজধানীতে পুলিশ কনস্টেবলের ‌‘আত্মহত্যা’ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, কখনও সংস্কারের কথা বলিনি : মির্জা ফখরুল

মেয়ের সঙ্গেও সম্পর্কের জেরে পরকীয়া প্রেমিককে হত্যা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের থাকার পর মেয়ের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়ানোর জেরে রাজধানীর টিকাটুলিতে খুন হয়েছেন সজীব হাসান নামের সেই যুবক। মধ্যবয়সী প্রেমিকার হাতে পাঁচ টুকরো হওয়া সজীবের মরদেহ গতকাল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রেমিকা শাহনাজ পারভীন (৫০) শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমান।

শাহনাজ পারভীনের স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানান, প্রায় দুই বছর ধরে কে এম দাস লেনের ১৭/১ নম্বর বাড়ির চার তলার বাসায় গিয়ে সজীবের সঙ্গে ড্রেসে পুঁথি বসানোর কাজ করতেন শাহনাজ। তার ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। বড় মেয়ে কলেজে পড়ে আর দুই ছেলে চাকরি করেন। স্বামী ব্যবসা করেন। এরই মাঝে সজীবের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।

‌এই সুবাদে পরকীয়া প্রেমিক সজীব তার বাসায় যাতায়াত করতেন। এর মধ্যে তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়ান সজীব। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সজীবকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেন। কিন্তু বেপরোয়া থাকেন। সতর্কতাকে থোরাই কেয়ার করেন। এক পর্যায়ে সজীব তাকে মোবাইল ফোনে তার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করার ভিডিও দেখান। এটা দেখে তিনি লজ্জায় পড়ে সজীবকে খুনের পরিকল্পনা করেন শাহনাজ। এরই মাঝে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ব্যাগে কাপড় ভরে তিনি সজীবের বাসায় ওঠেন এবং মেয়ের ভিডিও ডিলিট করতে বলেন। তখন সজীব তাকে জানান, যদি তার মেয়েকে ওই বাসায় আনতে পারে তবেই ভিডিও ডিলিট করা হবে। এবং সেটা দেখিয়ে সজীব তার (শাহনাজের) স্বামীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা এনে দিতে বলেন। এসব বিষয় নিয়ে আলাপ করার এক পর্যায়ে সজীব ঘুমিয়ে পড়ে। তখন তিনি রান্নাঘর থেকে বটি এনে ঘুমন্ত সজিবকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।

পুলিশ জানায়, শাহনাজ তিন দিন ধরে নিখোঁজ জানিয়ে গত মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তার স্বামী ওয়ারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি হওয়ার পর মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে শাহনাজের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সজীবের বাসায় যায় পুলিশ। সেখানে পারভীনকে পাওয়ার পাশাপাশি সজীবের পাঁচ টুকরো মরদেহ উদ্ধার হয়। এক কক্ষের বাসায় সজীব একা থাকতেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই কোনো একক দেশের ‘একক পারফরম্যান্স’ হওয়া উচিত নয়: চীনা প্রেসিডেন্ট

মেয়ের সঙ্গেও সম্পর্কের জেরে পরকীয়া প্রেমিককে হত্যা

আপডেট সময় ১১:৩১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের থাকার পর মেয়ের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়ানোর জেরে রাজধানীর টিকাটুলিতে খুন হয়েছেন সজীব হাসান নামের সেই যুবক। মধ্যবয়সী প্রেমিকার হাতে পাঁচ টুকরো হওয়া সজীবের মরদেহ গতকাল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রেমিকা শাহনাজ পারভীন (৫০) শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুর রহমান।

শাহনাজ পারভীনের স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানান, প্রায় দুই বছর ধরে কে এম দাস লেনের ১৭/১ নম্বর বাড়ির চার তলার বাসায় গিয়ে সজীবের সঙ্গে ড্রেসে পুঁথি বসানোর কাজ করতেন শাহনাজ। তার ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। বড় মেয়ে কলেজে পড়ে আর দুই ছেলে চাকরি করেন। স্বামী ব্যবসা করেন। এরই মাঝে সজীবের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়।

‌এই সুবাদে পরকীয়া প্রেমিক সজীব তার বাসায় যাতায়াত করতেন। এর মধ্যে তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়ান সজীব। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সজীবকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেন। কিন্তু বেপরোয়া থাকেন। সতর্কতাকে থোরাই কেয়ার করেন। এক পর্যায়ে সজীব তাকে মোবাইল ফোনে তার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করার ভিডিও দেখান। এটা দেখে তিনি লজ্জায় পড়ে সজীবকে খুনের পরিকল্পনা করেন শাহনাজ। এরই মাঝে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ব্যাগে কাপড় ভরে তিনি সজীবের বাসায় ওঠেন এবং মেয়ের ভিডিও ডিলিট করতে বলেন। তখন সজীব তাকে জানান, যদি তার মেয়েকে ওই বাসায় আনতে পারে তবেই ভিডিও ডিলিট করা হবে। এবং সেটা দেখিয়ে সজীব তার (শাহনাজের) স্বামীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা এনে দিতে বলেন। এসব বিষয় নিয়ে আলাপ করার এক পর্যায়ে সজীব ঘুমিয়ে পড়ে। তখন তিনি রান্নাঘর থেকে বটি এনে ঘুমন্ত সজিবকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন।

পুলিশ জানায়, শাহনাজ তিন দিন ধরে নিখোঁজ জানিয়ে গত মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তার স্বামী ওয়ারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি হওয়ার পর মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে শাহনাজের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সজীবের বাসায় যায় পুলিশ। সেখানে পারভীনকে পাওয়ার পাশাপাশি সজীবের পাঁচ টুকরো মরদেহ উদ্ধার হয়। এক কক্ষের বাসায় সজীব একা থাকতেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডে।