ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংস্কারের মূল তারেক রহমান, ৩ বছর আগেই তিনি সংস্কারের কথা বলেছেন’:এম এ কাইয়ুম মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল ব্যাংক ডাকাত ও ঋণখেলাপিদের জন্য একটি বার্তা: হাসনাত ৫মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইরান আপিলও খারিজ, নির্বাচন করতে পারবেন না হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বী মুন্সী সিইসি ও ইসি সচিবের কুশপুত্তলিকায় ডিম নিক্ষেপ কিশোরগঞ্জে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করল মাদকাসক্ত ছেলে নারীদের এনজিও ঋণ শোধের দায়িত্ব নেবে সরকার: মির্জা ফখরুল টাঙ্গাইলকে আমরা পরিকল্পিতভাবে শিল্পের শহরে পরিণত করতে পারব: তারেক রহমান তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় কোকোর স্ত্রী সিঁথি মীরজাফরদের ঠাঁই বিএনপিতে হবে না: আজহারুল ইসলাম মান্নান

ফ্রান্সে তুর্কি গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ, উপযুক্ত জবাবের হুমকি তুরস্কের

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

তুরস্কের একটি অতি-দক্ষিণপন্থী ও চরম জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো ফ্রান্স। তাদের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে। ফরাসি সরকার বুধবার তুরস্কের ‘গ্রে উলভস’ গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করে এ ঘোষণা দেয়।

ফ্রান্সের দাবি, এই চরমপন্থী অতি-জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী ঘৃণা ছড়াচ্ছে এবং সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছে। সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্রান্সের অভিযোগ, এই গোষ্ঠী চরম সহিংস কাজে লিপ্ত, তারা সহিংস হুমকি দিচ্ছে এবং আর্মেনিয়দের মধ্যে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। গত সপ্তাহে লিয়ঁ শহরে আর্মেনিয়দের একটি স্মারকের মর্যাদাহানি করা হয়েছে বলে মুখপাত্র জানিয়েছেন।

এই স্মারকটি ১৯১৫ সালে গণহত্যায় নিহত আর্মেনিয় মানুষদের স্মরণে তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে ‘গ্রে উলফ’, ‘আরটিই’ ও তুরস্কপন্থী স্লোগান লেখা হয়েছে। আরটিই হলো রেচেপ তাইয়্যিপ এর্দোয়ানের নামের অদ্যাক্ষর। আর্মেনিয়া দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানাচ্ছে, অটোমান সাম্রাজ্যের সময় ১৯১৫ সালে নরসংহারকে গণহত্যা বলতে হবে। ফ্রান্স এই দাবি সমর্থন করে।

গ্রে উলভস কারা? এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলাপমেন্ট পার্টির শরিক হলো ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি। গ্রে উলভস-কে তাদেরই শাখা সংগঠন বলা হয়। ১৯৬০ ও ৭০-এ তুরস্কে একটি আন্দোলন শুরু হয়। তাদেরই বলা হত গ্রে উলভস। ১৯৮০-র পরের বছরগুলিতে তারা কমিউনিস্ট ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংস কার্যকলাপ চালায়।

ইতিমধ্যেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে ফ্রান্স ও তুরস্কের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। বুধবারের এই সিদ্ধান্ত তাকে আরো বাড়াতে পারে। এরদোয়ান সম্প্রতি বলেছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা দরকার। কারণ তিনি মহানবী (সা.) এর অবমাননাকে সমর্থন করেছেন।

শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি ও গির্জায় ঢুকে তিনজনকে হত্যার পরই ফ্রান্স এখন চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তা নিয়ে ফ্রান্স ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। নাগর্নো কারাবাখ নিয়েও ফ্রান্স ও তুরস্কের মধ্যে ঝগড়া সামনে এসেছে।

ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ‘গ্রে উলভস বলে কোনো গোষ্ঠী নেই। ফ্রান্স মনগড়া একটি গোষ্ঠী তৈরি করেছে।’ বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ”ফ্রান্সে তুরস্কের যে মানুষ আছেন, তাদের স্বাধীনতা, জমায়েতের অধিকার এবং মত প্রকাশের অধিকারকে রক্ষা করতে হবে। কিন্তু সরকার ফ্রান্সে তুরস্কের লোকেদের আক্রমণ, উস্কানি ও হুমকি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘ফরাসি সরকার এখন পুরোপুরি মার্কিন প্রভাবে কাজ করছে। তারা দু’মুখো নীতি নিয়ে চলছে। কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স ফোর্সসহ অন্য গোষ্ঠীগুলিকে তারা সমর্থন করছে।” তুরস্ক আবার কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স ফোর্সকে জঙ্গি গোষ্ঠী মনে করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলোয়াড়ের অভাবে’ কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ক্যাটাগরি বাদ দিতে হচ্ছে বিসিবিকে

ফ্রান্সে তুর্কি গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ, উপযুক্ত জবাবের হুমকি তুরস্কের

আপডেট সময় ০৪:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

তুরস্কের একটি অতি-দক্ষিণপন্থী ও চরম জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো ফ্রান্স। তাদের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে। ফরাসি সরকার বুধবার তুরস্কের ‘গ্রে উলভস’ গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করে এ ঘোষণা দেয়।

ফ্রান্সের দাবি, এই চরমপন্থী অতি-জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী ঘৃণা ছড়াচ্ছে এবং সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছে। সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্রান্সের অভিযোগ, এই গোষ্ঠী চরম সহিংস কাজে লিপ্ত, তারা সহিংস হুমকি দিচ্ছে এবং আর্মেনিয়দের মধ্যে ঘৃণা ছড়াচ্ছে। গত সপ্তাহে লিয়ঁ শহরে আর্মেনিয়দের একটি স্মারকের মর্যাদাহানি করা হয়েছে বলে মুখপাত্র জানিয়েছেন।

এই স্মারকটি ১৯১৫ সালে গণহত্যায় নিহত আর্মেনিয় মানুষদের স্মরণে তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে ‘গ্রে উলফ’, ‘আরটিই’ ও তুরস্কপন্থী স্লোগান লেখা হয়েছে। আরটিই হলো রেচেপ তাইয়্যিপ এর্দোয়ানের নামের অদ্যাক্ষর। আর্মেনিয়া দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানাচ্ছে, অটোমান সাম্রাজ্যের সময় ১৯১৫ সালে নরসংহারকে গণহত্যা বলতে হবে। ফ্রান্স এই দাবি সমর্থন করে।

গ্রে উলভস কারা? এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলাপমেন্ট পার্টির শরিক হলো ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি। গ্রে উলভস-কে তাদেরই শাখা সংগঠন বলা হয়। ১৯৬০ ও ৭০-এ তুরস্কে একটি আন্দোলন শুরু হয়। তাদেরই বলা হত গ্রে উলভস। ১৯৮০-র পরের বছরগুলিতে তারা কমিউনিস্ট ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংস কার্যকলাপ চালায়।

ইতিমধ্যেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে ফ্রান্স ও তুরস্কের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। বুধবারের এই সিদ্ধান্ত তাকে আরো বাড়াতে পারে। এরদোয়ান সম্প্রতি বলেছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা দরকার। কারণ তিনি মহানবী (সা.) এর অবমাননাকে সমর্থন করেছেন।

শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটি ও গির্জায় ঢুকে তিনজনকে হত্যার পরই ফ্রান্স এখন চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তা নিয়ে ফ্রান্স ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। নাগর্নো কারাবাখ নিয়েও ফ্রান্স ও তুরস্কের মধ্যে ঝগড়া সামনে এসেছে।

ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ‘গ্রে উলভস বলে কোনো গোষ্ঠী নেই। ফ্রান্স মনগড়া একটি গোষ্ঠী তৈরি করেছে।’ বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ”ফ্রান্সে তুরস্কের যে মানুষ আছেন, তাদের স্বাধীনতা, জমায়েতের অধিকার এবং মত প্রকাশের অধিকারকে রক্ষা করতে হবে। কিন্তু সরকার ফ্রান্সে তুরস্কের লোকেদের আক্রমণ, উস্কানি ও হুমকি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘ফরাসি সরকার এখন পুরোপুরি মার্কিন প্রভাবে কাজ করছে। তারা দু’মুখো নীতি নিয়ে চলছে। কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স ফোর্সসহ অন্য গোষ্ঠীগুলিকে তারা সমর্থন করছে।” তুরস্ক আবার কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স ফোর্সকে জঙ্গি গোষ্ঠী মনে করে।