ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পরিকল্পিত ধর্ষণ মিশনে জামাত-শিবির

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সিলেটের এমসি কলেজে ঘটনার পর একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এই ঘটনাগুলো অস্বাভাবিক এবং পরিকল্পিত বলে মনে করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গেছে যে সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনার পর যখন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নিপীড়নের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সেটি ছিল পরিকল্পিত।

কারণ ঘটনাটি ১ বছর আগের। এবং এর পরপরই সংঘবদ্ধ একটি চক্র সারা দেশে এ ধরনের নিপীড়নমূলক ঘটনা ঘটাতে তৎপর হচ্ছে এবং এই ঘটনা ঘটানোর মূল লক্ষ্য হলো সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা এবং সরকার বিরোধী একটি আন্দোলন উস্কে দেওয়া। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে যে; এ ধরনের ঘটনাগুলোতে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত জামায়াত-শিবির চক্র এবং এখানে বিএনপির একটি অংশেরও মদদ এবং পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, ধর্ষণ ইস্যুটাকে একটি ভয়ংকর ইস্যু হিসেবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে জামাত-শিবির তিন স্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রথমত, কিছু দুর্বৃত্ত সমাজের অন্যায় অপকর্মের সঙ্গে জড়িত কিছু অপরাধীর সঙ্গে তারা যোগসূত্র তৈরি করেছে এবং তাদেরকে এ ধরনের অপকর্ম করার জন্য প্ররোচিত করছে এবং এজন্য তাদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়া হচ্ছে।

একটি এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পেয়েছে যে, ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে এই ঘটনাটি ঘটানোর জন্য প্ররোচিত করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ওই ব্যক্তির জবানবন্দী এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা খতিয়ে দেখছে। শুধু ওই একটি এলাকাতেই নয় সারাদেশেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর জন্য একটি টিম তৈরি করেছে জামায়াত শিবির চক্র। এবং যেটি বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে। এ টিমের লক্ষ্য হলো যে, বিভিন্ন এলাকায় যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত এ ধরনের ব্যক্তি গোষ্ঠিকে চিহ্নিত করা এবং তাদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে অপকর্ম করার জন্য উৎসাহিত করা । পাশাপাশি এ ধরনের অপকর্মের ঘটনাগুলোকে ভিডিও ধারণ করা এবং সেটিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে জনগণকে উত্তেজিত করা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সুত্রের খবরে জানা গেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো গণমাধ্যমে দ্রুত ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে এবং এটিও একটি পরিকল্পনার অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে বিএনপি এবং জামায়াত শিবিরের কিছু নেতা কর্মীরা সার্বক্ষনিক ভাবে যোগাযোগ রাখছেন। এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তা যেন গণমাধ্যম লুফে নেয় সেজন্য একটি চেইন তৈরি করা হয়েছে। অনেক গণমাধ্যমই খবরগুলো যাচাই বাছাই না করে চাহিদা সম্পন্ন হওয়ার কারনে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে। ফলে সারাদেশেই ধর্ষণের একটি মহামারীর চিত্র ফুটে উঠছে।

তৃতীয়ত, ধর্ষণের পরিকল্পিত ঘটনাগুলোকে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনকে সক্রিয় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি গোয়েন্দা সুত্রগুলো জানতে পেরেছে যে, সারাদেশেই জামায়াত শিবির তাদের কর্মীদেরকে সতর্কবার্তা দিয়েছে এবং তারা যেন যে কোন সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকে এবং যে কোন সময় সমাবেশ মানববন্ধন ইত্যাদি কমসূর্চীর প্রস্তুত থাকে তার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ প্রথমমতো একটি ঘটনা ঘটানো হবে এবং দ্বিতীয়ত এই ঘটনাটি গণমাধ্যমে দ্রুত প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে এবং তৃতীয়ত ওই ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের নামে রাজপথে নামা হবে।

এই ত্রিমুখি পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চাইছে বিএনপি এবং জামাতের একটি অংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশের অন্তত দশটি জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোর কোন রাজনৈতিক সংস্রব নেই । বরং যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে তারা প্ররোচিত হয়েই এই ঘটনা গুলো ঘটিয়েছে।

গতকাল যশোরের মনিহার সিনেমা হলের সামনে একটি ঘটনা ঘটেছে। পরে এই সূত্র ধরে একজনকে আটক করা হয় এবং আটক ব্যক্তি জানিয়েছেন যে, তাকে কেউ কেউ টাকা দেওয়ার কথা বলে এই ঘটনাটি ঘটাতে বলছে এবং এক্ষেত্রে তার কিছু হবে না বলেও তাকে আশ্বস্ত করেছে।

অর্থাৎ এখন বাংলাদেশে যে হঠাৎ করে ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো নিছক দুর্ঘটনা নয়, বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি পরিকল্পিত ধর্ষণ মিশন শুরু হয়েছে বলেও মনে করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং তারা বলছে যে তাদের হাতে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ আছে। এবং শীঘ্রই তারা এই সব ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের কে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিকল্পিত ধর্ষণ মিশনে জামাত-শিবির

আপডেট সময় ০৭:৪৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সিলেটের এমসি কলেজে ঘটনার পর একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এই ঘটনাগুলো অস্বাভাবিক এবং পরিকল্পিত বলে মনে করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গেছে যে সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনার পর যখন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নিপীড়নের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সেটি ছিল পরিকল্পিত।

কারণ ঘটনাটি ১ বছর আগের। এবং এর পরপরই সংঘবদ্ধ একটি চক্র সারা দেশে এ ধরনের নিপীড়নমূলক ঘটনা ঘটাতে তৎপর হচ্ছে এবং এই ঘটনা ঘটানোর মূল লক্ষ্য হলো সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা এবং সরকার বিরোধী একটি আন্দোলন উস্কে দেওয়া। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে যে; এ ধরনের ঘটনাগুলোতে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত জামায়াত-শিবির চক্র এবং এখানে বিএনপির একটি অংশেরও মদদ এবং পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, ধর্ষণ ইস্যুটাকে একটি ভয়ংকর ইস্যু হিসেবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে জামাত-শিবির তিন স্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

প্রথমত, কিছু দুর্বৃত্ত সমাজের অন্যায় অপকর্মের সঙ্গে জড়িত কিছু অপরাধীর সঙ্গে তারা যোগসূত্র তৈরি করেছে এবং তাদেরকে এ ধরনের অপকর্ম করার জন্য প্ররোচিত করছে এবং এজন্য তাদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়া হচ্ছে।

একটি এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পেয়েছে যে, ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে এই ঘটনাটি ঘটানোর জন্য প্ররোচিত করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ওই ব্যক্তির জবানবন্দী এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা খতিয়ে দেখছে। শুধু ওই একটি এলাকাতেই নয় সারাদেশেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর জন্য একটি টিম তৈরি করেছে জামায়াত শিবির চক্র। এবং যেটি বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে। এ টিমের লক্ষ্য হলো যে, বিভিন্ন এলাকায় যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত এ ধরনের ব্যক্তি গোষ্ঠিকে চিহ্নিত করা এবং তাদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে অপকর্ম করার জন্য উৎসাহিত করা । পাশাপাশি এ ধরনের অপকর্মের ঘটনাগুলোকে ভিডিও ধারণ করা এবং সেটিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে জনগণকে উত্তেজিত করা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সুত্রের খবরে জানা গেছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো গণমাধ্যমে দ্রুত ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে এবং এটিও একটি পরিকল্পনার অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে বিএনপি এবং জামায়াত শিবিরের কিছু নেতা কর্মীরা সার্বক্ষনিক ভাবে যোগাযোগ রাখছেন। এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে তা যেন গণমাধ্যম লুফে নেয় সেজন্য একটি চেইন তৈরি করা হয়েছে। অনেক গণমাধ্যমই খবরগুলো যাচাই বাছাই না করে চাহিদা সম্পন্ন হওয়ার কারনে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে। ফলে সারাদেশেই ধর্ষণের একটি মহামারীর চিত্র ফুটে উঠছে।

তৃতীয়ত, ধর্ষণের পরিকল্পিত ঘটনাগুলোকে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনকে সক্রিয় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি গোয়েন্দা সুত্রগুলো জানতে পেরেছে যে, সারাদেশেই জামায়াত শিবির তাদের কর্মীদেরকে সতর্কবার্তা দিয়েছে এবং তারা যেন যে কোন সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকে এবং যে কোন সময় সমাবেশ মানববন্ধন ইত্যাদি কমসূর্চীর প্রস্তুত থাকে তার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ প্রথমমতো একটি ঘটনা ঘটানো হবে এবং দ্বিতীয়ত এই ঘটনাটি গণমাধ্যমে দ্রুত প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে এবং তৃতীয়ত ওই ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের নামে রাজপথে নামা হবে।

এই ত্রিমুখি পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চাইছে বিএনপি এবং জামাতের একটি অংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশের অন্তত দশটি জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোর কোন রাজনৈতিক সংস্রব নেই । বরং যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে তারা প্ররোচিত হয়েই এই ঘটনা গুলো ঘটিয়েছে।

গতকাল যশোরের মনিহার সিনেমা হলের সামনে একটি ঘটনা ঘটেছে। পরে এই সূত্র ধরে একজনকে আটক করা হয় এবং আটক ব্যক্তি জানিয়েছেন যে, তাকে কেউ কেউ টাকা দেওয়ার কথা বলে এই ঘটনাটি ঘটাতে বলছে এবং এক্ষেত্রে তার কিছু হবে না বলেও তাকে আশ্বস্ত করেছে।

অর্থাৎ এখন বাংলাদেশে যে হঠাৎ করে ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো নিছক দুর্ঘটনা নয়, বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি পরিকল্পিত ধর্ষণ মিশন শুরু হয়েছে বলেও মনে করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এবং তারা বলছে যে তাদের হাতে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ আছে। এবং শীঘ্রই তারা এই সব ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের কে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবেন।