ঢাকা ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে: ট্রাম্প প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান বিচারপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা কাপ্তাই হৃদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

শাহ মোয়াজ্জেমের দরকার ‘ম্যাজিক’ টুথ পাউডার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ম্যাজিক টুথ পাউডারের বিজ্ঞাপনের কথা মনে আছে? শাশুড়ী পুত্র বধুকে নোংরা ভাষায় গালি দেয়। পুত্রবধু বলেন ‘আপনার মুখে এতো দুর্গন্ধ কেন? এই নেন ম্যাজিক টুথ পাউডার।’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদি কারো ‘দুর্গন্ধ’ মুক্তির জন্য ম্যাজিক টুথ পাউডার লাগে তাহলে সেই তালিকার শীর্ষে থাকবেন ‘পতিত’ রাজনীতিবীদ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। এক সময় স্বৈরাচারের এই পদলেহী নোংরা বক্তব্যের জন্য আলোচিত হয়েছিলেন।

সময়টা ১৯৯০ সাল। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তীব্র। এসময় শাহ মোয়াজ্জেম এক বক্তৃতায় বললেন ‘ দুই মহিলা মিলিত হলে কিছুই উৎপাদন হয় না।’ সেসময় এরশাদের বিরুদ্ধে দুই নেত্রীর ঐতিহাসিক ঐক্যের প্রেক্ষাপটে শাহ মোয়াজ্জেম এই কদর্য মন্তব্য করেছিলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি সম্ভবত সবচেয়ে নোংরা উক্তি। এই উক্তির মতোই নোংরা, কদর্য এবং দুর্গন্ধময় শাহ মোয়াজ্জেমের রাজনৈতিক জীবন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন এই পতিত রাজনীতিবিদ।

৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর খুনী মোশতাকের ঘনিষ্ঠদের তালিকায় তার নাম ছিলো উপরের দিকে। খুনী মোশতাকের মন্ত্রী সভায় ঠাই পান এই বহুরূপী রাজনীতিবিদ। এরপর এরশাদের পদলেহীতে পরিণত হন। এরশাদকে খুশী করতে এমন কিছু নেই, যা শাহ মোয়াজ্জেম করেননি। তবে সবথেকে আলোচিত ছিলো একটি ঘটনা।

এরশাদের মা মারা গেছেন। পারিষদসহ এরশাদ গেলেন রংপুরে। মায়ের কবরে দোয়ার সময় কান্নার প্রতিযোগিতা হলো কাজী জাফর আর শাহ মোয়াজ্জেমের। কান্নার তীব্রতা দেখে এরশাদও অবাক হলেন। তারপর বললেন ‘এই মোয়াজ্জেম তোমার মা মারা যায় নি।’ এরশাদের পতনের পর আর বেশী দিন জাতীয় পার্টি করেননি। ডিগবাজী দিয়ে যোগদেন বিএনপিতে। এখন তার মতো ডিগবাজী রাজনীতিবীদের কদর কমে গেছে। আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। খুনীর দোসরের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা তো চিরদিনের জন্য বন্ধ। জাতীয় পাট্টিও এই আপদকে আর নিতে চায় না। আর তাই বিএনপিতে উপেক্ষিত হয়ে, সেখানেই আছেন। আদর্শহীন রাজনীতির এক বড় উদাহরণ হলেন এই ব্যক্তিটি। এক সময় খালেদা জিয়াকে নোংরা ভাষায় আক্রমন করা ব্যক্তিটিই এখন বিএনপির নেতা। বিএনপির রাজনীতিতে যেমন আদর্শের বালাই নেই তেমনি শাহ মোয়াজ্জেমেরও। কিন্তু এখন আলোচনায় আসতেই আবার বিএনপির সমালোচনা করছেন। বিএনপি নেতারা বলেন, যে পাত্রে খায়, সেই পাত্রে মল ত্যাগই শাহ এর রাজনীতি। আওয়ামী লীগ করে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেঈমানী করেছে। জাতীয় পার্টি করে এরশাদের সঙ্গে বেঈমানী করেছে, এখন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও গাদ্দারী করছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

শাহ মোয়াজ্জেমের দরকার ‘ম্যাজিক’ টুথ পাউডার

আপডেট সময় ০৭:৩৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ম্যাজিক টুথ পাউডারের বিজ্ঞাপনের কথা মনে আছে? শাশুড়ী পুত্র বধুকে নোংরা ভাষায় গালি দেয়। পুত্রবধু বলেন ‘আপনার মুখে এতো দুর্গন্ধ কেন? এই নেন ম্যাজিক টুথ পাউডার।’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদি কারো ‘দুর্গন্ধ’ মুক্তির জন্য ম্যাজিক টুথ পাউডার লাগে তাহলে সেই তালিকার শীর্ষে থাকবেন ‘পতিত’ রাজনীতিবীদ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। এক সময় স্বৈরাচারের এই পদলেহী নোংরা বক্তব্যের জন্য আলোচিত হয়েছিলেন।

সময়টা ১৯৯০ সাল। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তীব্র। এসময় শাহ মোয়াজ্জেম এক বক্তৃতায় বললেন ‘ দুই মহিলা মিলিত হলে কিছুই উৎপাদন হয় না।’ সেসময় এরশাদের বিরুদ্ধে দুই নেত্রীর ঐতিহাসিক ঐক্যের প্রেক্ষাপটে শাহ মোয়াজ্জেম এই কদর্য মন্তব্য করেছিলেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি সম্ভবত সবচেয়ে নোংরা উক্তি। এই উক্তির মতোই নোংরা, কদর্য এবং দুর্গন্ধময় শাহ মোয়াজ্জেমের রাজনৈতিক জীবন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন এই পতিত রাজনীতিবিদ।

৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর খুনী মোশতাকের ঘনিষ্ঠদের তালিকায় তার নাম ছিলো উপরের দিকে। খুনী মোশতাকের মন্ত্রী সভায় ঠাই পান এই বহুরূপী রাজনীতিবিদ। এরপর এরশাদের পদলেহীতে পরিণত হন। এরশাদকে খুশী করতে এমন কিছু নেই, যা শাহ মোয়াজ্জেম করেননি। তবে সবথেকে আলোচিত ছিলো একটি ঘটনা।

এরশাদের মা মারা গেছেন। পারিষদসহ এরশাদ গেলেন রংপুরে। মায়ের কবরে দোয়ার সময় কান্নার প্রতিযোগিতা হলো কাজী জাফর আর শাহ মোয়াজ্জেমের। কান্নার তীব্রতা দেখে এরশাদও অবাক হলেন। তারপর বললেন ‘এই মোয়াজ্জেম তোমার মা মারা যায় নি।’ এরশাদের পতনের পর আর বেশী দিন জাতীয় পার্টি করেননি। ডিগবাজী দিয়ে যোগদেন বিএনপিতে। এখন তার মতো ডিগবাজী রাজনীতিবীদের কদর কমে গেছে। আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। খুনীর দোসরের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা তো চিরদিনের জন্য বন্ধ। জাতীয় পাট্টিও এই আপদকে আর নিতে চায় না। আর তাই বিএনপিতে উপেক্ষিত হয়ে, সেখানেই আছেন। আদর্শহীন রাজনীতির এক বড় উদাহরণ হলেন এই ব্যক্তিটি। এক সময় খালেদা জিয়াকে নোংরা ভাষায় আক্রমন করা ব্যক্তিটিই এখন বিএনপির নেতা। বিএনপির রাজনীতিতে যেমন আদর্শের বালাই নেই তেমনি শাহ মোয়াজ্জেমেরও। কিন্তু এখন আলোচনায় আসতেই আবার বিএনপির সমালোচনা করছেন। বিএনপি নেতারা বলেন, যে পাত্রে খায়, সেই পাত্রে মল ত্যাগই শাহ এর রাজনীতি। আওয়ামী লীগ করে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেঈমানী করেছে। জাতীয় পার্টি করে এরশাদের সঙ্গে বেঈমানী করেছে, এখন খালেদা জিয়ার সঙ্গেও গাদ্দারী করছে।’