ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে: ট্রাম্প প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান বিচারপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা কাপ্তাই হৃদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

আওয়ামী লীগের জেলা কমিটি গুলো এক ‘দুষ্ট চক্রে’ বন্দী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গত সেপ্টেম্বর ছিলো জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম প্রস্তাব করার শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম এসেছে ৩১ জেলা থেকে। কিন্তু এই সব প্রস্তাবিত কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে শতাধিক। গত ২ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে ঐ অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই কমিটি গুলো যাচাই বাছাইয়ের জন্য ৮ বিভাগে আলাদা করে উপকমিটি করে দিয়েছেন।

প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নেতৃত্বে এই উপকমিটির নাম গুলো খতিয়ে দেখবে। এরপর তারা সুপারিশ করবে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে। আর এই প্রস্তাবিত কমিটি কিভাবে কাজ করবে, কিভাবে কমিটির নামের তালিকা যাচাই করা হবে, তা নিয়ে আজ বৈঠকে বসেছিল আওয়ামী লীগের সম্পাদক মন্ডলী। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জেলা কমিটি গঠনে আওয়ামী লীগ সভাপতির গাইড লাইন অনুসরন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, যে ৩১টি জেলা থেকে কমিটির প্রস্তাব এসেছে, তার সবগুলো থেকেই অভিযোগ এবং আপত্তি এসেছে। অনেক জেলা থেকে একাধিক অভিযোগ এসেছে। কোন কোন জেলা থেকে গণস্বাক্ষর করে আপত্তি জানানো হয়েছে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাঠানো কমিটির ব্যাপারে। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা কমিটির ব্যাপারে সবচেয়ে আপত্তি এসেছে সিলেট থেকে, চট্টগ্রাম (উত্তর) এবং ঠাকুরগাঁও থেকেও প্রচুর আপত্তি এসেছে।

আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য অনুযায়ী, একটি জেলায় সম্মেলনের পরপরই সেখানে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক বসে একটি পূর্নাঙ্গ জেলা কমিটির নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে পাঠায়। কেন্দ্র এই কমিটি অনুমোদন দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে এই জেলা কমিটি গুলো এক ‘দুষ্ট চক্রে’ বন্দী। এলাকার এমপি বা প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা তার পছন্দের ব্যক্তিদের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক করেন। এরপর নিজস্ব লোকজন দিয়ে একটি কমিটি করেন। এটি হয় এমপি বা প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতার পকেট কমিটি। অনুগত জোগাড় করতে গিয়ে বিতর্কিত, অনুপ্রবেশকারীরা জায়গা পায় দলে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি এরকম ‘মাইম্যান’ কমিটি গঠনের বিরুদ্ধে এবার অবস্থান নিয়েছেন। একই সাথে তিনি যে সাত হাজার অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করেছেন, তারা যেন কোন কমিটিতে না থাকে তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। এর ফলে আওয়ামী লীগ জেলায় জেলায় এক রকম জাগরন হয়েছে। তৃণমুলের ত্যাগী এবং পরীক্ষিতরা এবার আর মুখ বুঝে ‘মাই ম্যান কমিটি’ মেনে নিচ্ছে না। একারনেই সারাদেশ থেকে অভিযোগ আসছে। আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, এটা ইতিবাচক। এর ফলে আওয়ামী লীগ দূষণ মুক্ত হবে। তবে এই যাচাই বাছাই কমিটি গঠন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করবে বলে জানিয়েছেন কোন কোন কেন্দ্রীয় নেতা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের জেলা কমিটি গুলো এক ‘দুষ্ট চক্রে’ বন্দী

আপডেট সময় ০৬:২১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গত সেপ্টেম্বর ছিলো জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম প্রস্তাব করার শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম এসেছে ৩১ জেলা থেকে। কিন্তু এই সব প্রস্তাবিত কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে শতাধিক। গত ২ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে ঐ অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই কমিটি গুলো যাচাই বাছাইয়ের জন্য ৮ বিভাগে আলাদা করে উপকমিটি করে দিয়েছেন।

প্রেসিডিয়াম সদস্যদের নেতৃত্বে এই উপকমিটির নাম গুলো খতিয়ে দেখবে। এরপর তারা সুপারিশ করবে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে। আর এই প্রস্তাবিত কমিটি কিভাবে কাজ করবে, কিভাবে কমিটির নামের তালিকা যাচাই করা হবে, তা নিয়ে আজ বৈঠকে বসেছিল আওয়ামী লীগের সম্পাদক মন্ডলী। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জেলা কমিটি গঠনে আওয়ামী লীগ সভাপতির গাইড লাইন অনুসরন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, যে ৩১টি জেলা থেকে কমিটির প্রস্তাব এসেছে, তার সবগুলো থেকেই অভিযোগ এবং আপত্তি এসেছে। অনেক জেলা থেকে একাধিক অভিযোগ এসেছে। কোন কোন জেলা থেকে গণস্বাক্ষর করে আপত্তি জানানো হয়েছে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাঠানো কমিটির ব্যাপারে। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা কমিটির ব্যাপারে সবচেয়ে আপত্তি এসেছে সিলেট থেকে, চট্টগ্রাম (উত্তর) এবং ঠাকুরগাঁও থেকেও প্রচুর আপত্তি এসেছে।

আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য অনুযায়ী, একটি জেলায় সম্মেলনের পরপরই সেখানে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক বসে একটি পূর্নাঙ্গ জেলা কমিটির নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে পাঠায়। কেন্দ্র এই কমিটি অনুমোদন দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে এই জেলা কমিটি গুলো এক ‘দুষ্ট চক্রে’ বন্দী। এলাকার এমপি বা প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা তার পছন্দের ব্যক্তিদের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক করেন। এরপর নিজস্ব লোকজন দিয়ে একটি কমিটি করেন। এটি হয় এমপি বা প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতার পকেট কমিটি। অনুগত জোগাড় করতে গিয়ে বিতর্কিত, অনুপ্রবেশকারীরা জায়গা পায় দলে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি এরকম ‘মাইম্যান’ কমিটি গঠনের বিরুদ্ধে এবার অবস্থান নিয়েছেন। একই সাথে তিনি যে সাত হাজার অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করেছেন, তারা যেন কোন কমিটিতে না থাকে তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। এর ফলে আওয়ামী লীগ জেলায় জেলায় এক রকম জাগরন হয়েছে। তৃণমুলের ত্যাগী এবং পরীক্ষিতরা এবার আর মুখ বুঝে ‘মাই ম্যান কমিটি’ মেনে নিচ্ছে না। একারনেই সারাদেশ থেকে অভিযোগ আসছে। আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, এটা ইতিবাচক। এর ফলে আওয়ামী লীগ দূষণ মুক্ত হবে। তবে এই যাচাই বাছাই কমিটি গঠন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করবে বলে জানিয়েছেন কোন কোন কেন্দ্রীয় নেতা।