ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুরে পানিতে বিষ মিশিয়ে যৌথবাহিনী সদস্যদের হত্যাচেষ্টা! দেশে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কিছু করলে দায়ভার সরকারের ওপরই পড়বে: মান্না অস্ত্র প্রস্তুত, তবে ইরানকে ‘কিছুটা সময়’ দিচ্ছেন ট্রাম্প : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিএনপি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ঘিরে উত্তেজনা-ধস্তাধস্তি, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান গণতন্ত্র যতবারই হোঁচট খেয়েছে, ততবারই মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: ডা. জাহিদ বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে পড়লো কুর্মিটোলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে, নিহত ১

মুসলিম সভ্যতার অনন্য নিদর্শন স্পেনের কর্ডোবা মসজিদ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

মুসলিম সভ্যতার অনন্য নিদর্শন স্পেনের কর্ডোবা মসজিদ। ১৯৮৪ সাল থেকে মসজিদটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত।

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের মতে, বিস্ময়কর নির্মাণশৈলী এবং ব্যাতিক্রমী কারুকার্যের কারণে এ মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য কীর্তি হিসেবে আজও বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

গবেষণায় দেখা যায় যে, অষ্টম শতাব্দীর শেষের দিকে ৭৮৬ সালে খলিফা আব্দুর রহমান (প্রথম) এটির নির্মাণ শুরু করেন। ইতিহাস বলে খলিফা নিজেই মসজিদ নির্মাণ কাজে শ্রম দিতেন।

৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আব্দুর রহমানের ছেলে খলিফা হিশাম মসজিদটির প্রাথমিক কাজ সমাপ্ত করেন। তখন কর্ডোবা মসজিদের আয়তন ছিল দৈর্ঘ্যে ৬০০ ফুট এবং প্রস্থে ৩৫০ ফুট।

নবম শতাব্দীতে খলিফা আবদুর রহমানের (তৃতীয়) তত্ত্বাবধানে পরিপূর্ণভাবে মসজিদটির মির্মাণ কাজ শেষ হয়। তখন মসজিদের আয়তন দাঁড়ায় ১ লাখ ১০ হাজার ৪০০ স্কয়ার ফিট।

১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম শাসকরা স্পেনের ক্ষমতা হারালে মুসলমানদের ইবাদত বন্দেগীর জন্য স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় কর্ডোবা মসজিদের দরজা। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের গির্জায় পরিণত হয় মুসলমানদের টানা ৭০০ বছরেরও অধিক সময়ের সিজদার এই পবিত্র ভূমি।

একদিন যে মসজিদ সমগ্র মুসলিম দুনিয়ার সভ্যতা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল, সময়ের ব্যবধানে মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগীর জন্য তাতে কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আজ পর্যন্ত সে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

কালজয়ী তাফসির গ্রন্থ তাফসিরে কুরতুবির রয়েছে এ মসজিদের সঙ্গে এক গভীর সম্পর্ক। এ মসজিদেই ইমাম কুরতুবি (রহ.) তার রচিত তাফসির গ্রন্থ তাফসিরে কুরতুবির পাঠদান করতেন।

এখানে বসে দরস দিতেন ইমাম ইবনে আরাবি (রহ.), ইমাম বাকি ইবনে মাখলাদ (রহ.), ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহিয়া আন্দালুসি (রহ.), ইবনে হাজাম জাহেরিসহ (রহ.) অসংখ্য জগদ্বিখ্যাত আলেম ও সুফিরা।

আজও স্পেনের অন্যতম আকর্ষণ হল ঐতিহাসিক কুরতুবা মসজিদ। কুরতুবা মসজিদই স্পেনকে পৃথিবীর অন্যতম দর্শনীয় দেশের মর্যাদায় সমাসীন করে রেখেছে। আজও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে কর্ডোবা পৃথিবীর আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে স্বীকৃত।

ঐতিহাসিক কর্ডোবা মসজিদের প্রতিটি দৃশ্য মুসলিম দুনিয়ার প্রতিটি মানুষের হৃদয় আন্দোলিত করে।

পৃথিবীর সব দেশের সব মুসলমানদের মনের গহীনে লালিত স্বপ্ন- নিশ্চয়ই কোনো না কোনো দিন আবারও কর্ডোবার মসজিদ থেকে ছড়িয়ে পড়বে সুমধুর তৌহিদের বাণী- আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার আজান ধ্বনি।

পরিচালক: আল কোরআন ইন্সটিটিউট, ঢাকা

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী

মুসলিম সভ্যতার অনন্য নিদর্শন স্পেনের কর্ডোবা মসজিদ

আপডেট সময় ১০:১০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

মুসলিম সভ্যতার অনন্য নিদর্শন স্পেনের কর্ডোবা মসজিদ। ১৯৮৪ সাল থেকে মসজিদটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত।

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের মতে, বিস্ময়কর নির্মাণশৈলী এবং ব্যাতিক্রমী কারুকার্যের কারণে এ মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য কীর্তি হিসেবে আজও বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

গবেষণায় দেখা যায় যে, অষ্টম শতাব্দীর শেষের দিকে ৭৮৬ সালে খলিফা আব্দুর রহমান (প্রথম) এটির নির্মাণ শুরু করেন। ইতিহাস বলে খলিফা নিজেই মসজিদ নির্মাণ কাজে শ্রম দিতেন।

৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আব্দুর রহমানের ছেলে খলিফা হিশাম মসজিদটির প্রাথমিক কাজ সমাপ্ত করেন। তখন কর্ডোবা মসজিদের আয়তন ছিল দৈর্ঘ্যে ৬০০ ফুট এবং প্রস্থে ৩৫০ ফুট।

নবম শতাব্দীতে খলিফা আবদুর রহমানের (তৃতীয়) তত্ত্বাবধানে পরিপূর্ণভাবে মসজিদটির মির্মাণ কাজ শেষ হয়। তখন মসজিদের আয়তন দাঁড়ায় ১ লাখ ১০ হাজার ৪০০ স্কয়ার ফিট।

১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম শাসকরা স্পেনের ক্ষমতা হারালে মুসলমানদের ইবাদত বন্দেগীর জন্য স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় কর্ডোবা মসজিদের দরজা। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের গির্জায় পরিণত হয় মুসলমানদের টানা ৭০০ বছরেরও অধিক সময়ের সিজদার এই পবিত্র ভূমি।

একদিন যে মসজিদ সমগ্র মুসলিম দুনিয়ার সভ্যতা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল, সময়ের ব্যবধানে মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগীর জন্য তাতে কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আজ পর্যন্ত সে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

কালজয়ী তাফসির গ্রন্থ তাফসিরে কুরতুবির রয়েছে এ মসজিদের সঙ্গে এক গভীর সম্পর্ক। এ মসজিদেই ইমাম কুরতুবি (রহ.) তার রচিত তাফসির গ্রন্থ তাফসিরে কুরতুবির পাঠদান করতেন।

এখানে বসে দরস দিতেন ইমাম ইবনে আরাবি (রহ.), ইমাম বাকি ইবনে মাখলাদ (রহ.), ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহিয়া আন্দালুসি (রহ.), ইবনে হাজাম জাহেরিসহ (রহ.) অসংখ্য জগদ্বিখ্যাত আলেম ও সুফিরা।

আজও স্পেনের অন্যতম আকর্ষণ হল ঐতিহাসিক কুরতুবা মসজিদ। কুরতুবা মসজিদই স্পেনকে পৃথিবীর অন্যতম দর্শনীয় দেশের মর্যাদায় সমাসীন করে রেখেছে। আজও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে কর্ডোবা পৃথিবীর আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে স্বীকৃত।

ঐতিহাসিক কর্ডোবা মসজিদের প্রতিটি দৃশ্য মুসলিম দুনিয়ার প্রতিটি মানুষের হৃদয় আন্দোলিত করে।

পৃথিবীর সব দেশের সব মুসলমানদের মনের গহীনে লালিত স্বপ্ন- নিশ্চয়ই কোনো না কোনো দিন আবারও কর্ডোবার মসজিদ থেকে ছড়িয়ে পড়বে সুমধুর তৌহিদের বাণী- আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার আজান ধ্বনি।

পরিচালক: আল কোরআন ইন্সটিটিউট, ঢাকা