অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনির হাতের সব টিউমার অপসারণ হয়েছে। অস্ত্রপাচারের সময় প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় অপারেশন শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মুক্তমণি ‘হেমানজিওমায়’ নামক রোগে আক্রান্ত। মুক্তার অস্ত্রোপচারের সময় প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে ইতিমধ্যেই পাঁচ ব্যাগ এ-পজেটিভ রক্ত দেয়া হয়েছে। আরও দুই ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন বলে জানান চিকিৎসকরা।
তার প্রথম অস্ত্রোপচার হয় গত ১২ আগস্ট। তখন ২০ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল প্রায় আড়াই ঘণ্টার জটিল সেই অপারেশনে অংশ নেয়। এর পরে দ্বিতীয় দফা ২৯ আগস্ট মুক্তামণির অস্ত্রোপচার শুরু হলেও জ্বরের কারণে মুক্তামণিকে কেবিনে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
গত ১১ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় মুক্তামণি। রোগ শনাক্ত করতে গত ৫ আগস্ট তার হাতের টিস্যু সংগ্রহ করে বায়োপসি করা হয়। পরে ডা. সামন্ত লাল সেনের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড মুক্তামণির রোগটি ‘হেমানজিওমা’ বলে শনাক্ত করে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ‘হেমানজিওমা’ শিশুদের রক্তনালীর টিউমার। যেগুলো সাধারণত ক্যান্সারপ্রবণ হয় না। এ রকম টিউমার শিশুদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। ত্বকের উপরিভাগে লাল গুটির মত দেখতে এই টিউমার বেশিরভাগ সময় চিকিৎসা ছাড়াই মিশে যায়। অধিকাংশ শিশুর ক্ষেত্রে এই টিউমার বড় কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। তবে ফেটে গেলে তা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে; রক্তপাতও হতে পারে। টিউমারের আকার ও অবস্থানের ওপর নির্ভর করে এটা বিকৃত হতে পারে এবং স্নায়ুতন্ত্র বা মেরুদণ্ডের ওপর হলে জটিলতা ভয়াবহ হতে পারে। তবে ত্বক ছাড়াও যকৃত ও ফুসফুসের মতো ভেতর অঙ্গেও ‘হেমানজিওমা’হতে পারে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















