ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুষ্ঠু নির্বাচন করবে না বলেই হাসিনার অধীনে নির্বাচন চায় আ.লীগ : রিজভী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগ কখনই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করবে না। আর সে জন্যই শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের কথা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘অব্যাহত গুম, খুন, গুপ্তহত্যার আঘাতগুলো বাংলাদেশের গোরস্থানে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে।’

আজ সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির এই নেতা। ‘শেখ হাসিনার অধীনেই সহায়ক সরকার হবে’—গতকাল রোববার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে আজ এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের যে সংলাপ চলছে, সেখানে প্রায় সবাই সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সহায়ক সরকারের পক্ষে কথা বলেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী ঘর অগোছালো রাখতে পারলেই তাদের দলীয় উদ্দেশ্য সাধিত হয়। ক্ষমতাসীনদের চণ্ডনীতির কারণেই রাজনৈতিক বোঝাপড়ার জায়গাটা হারিয়ে যাচ্ছে।’

নির্বাচন নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রিজভী বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, নির্দলীয় সহায়ক সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বরতা ও বাংলাদেশ সরকারের বাহিনীর মধ্যে অনেকাংশেই মিল পাওয়া যায় মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নৈতিক মনোবল বা শক্তি না থাকায় জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারছে না। প্রতি-উত্তর দিতে পারছে না। যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার আজ দেশে ক্ষমতায় থাকত, তাহলে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বসম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম নিধন বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব ছিল।’

মিয়ানমার বাহিনীর বর্বরতায় রোহিঙ্গা হত্যা ও নির্যাতন বিশ্ববিবেককে স্পর্শ করেছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, মর্মস্পশী হৃদয়বিদারক রোহিঙ্গাদের করুণ পরিণতিতে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয় কাঁদলেও সরকার এ বিষয়ে শুধু নির্বিকারই নয়, মরার উপর খাঁড়ার ঘা দেওয়ার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের ওপর চলছে পৈশাচিক নির্মূল অভিযান আর তাঁরা যখন বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে চায়, তখন সরকারের বাহিনী তাদেরকে প্রতিহত করে। রোহিঙ্গারা এখন অনতিক্রান্ত অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে মৃত্যুর প্রহর গুনছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানালেও সরকার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে পাষাণের মতো আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। বিশ্বসম্প্রদায়ের সঙ্গে জোরালো লবিং করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভোটারবিহীন আওয়ামী সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘মিয়ানমার বাহিনীর হেলিকপ্টার বারবার বাংলাদেশের সীমা অতিক্রম করলেও সরকার দায়সারা একটি প্রতিবাদলিপি দিয়ে কর্তব্য শেষ করেছে। কারণ তাঁরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তাঁরাও দেশে গুম, হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আর নির্যাতনের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকলেও ঈদের আগে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন রিজভী। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে আবারও নির্যাতিত-নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের মানবতার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানান। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের পাশে দাঁড়ান। তাদের বাঁচতে সাহায্য করুন। মানবতার সেবায় দল-মত নির্বিশেষে সকলে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনার হুঁশিয়ারি ইসির

সুষ্ঠু নির্বাচন করবে না বলেই হাসিনার অধীনে নির্বাচন চায় আ.লীগ : রিজভী

আপডেট সময় ০৬:০২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগ কখনই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করবে না। আর সে জন্যই শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের কথা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘অব্যাহত গুম, খুন, গুপ্তহত্যার আঘাতগুলো বাংলাদেশের গোরস্থানে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে।’

আজ সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলটির এই নেতা। ‘শেখ হাসিনার অধীনেই সহায়ক সরকার হবে’—গতকাল রোববার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে আজ এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের যে সংলাপ চলছে, সেখানে প্রায় সবাই সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সহায়ক সরকারের পক্ষে কথা বলেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী ঘর অগোছালো রাখতে পারলেই তাদের দলীয় উদ্দেশ্য সাধিত হয়। ক্ষমতাসীনদের চণ্ডনীতির কারণেই রাজনৈতিক বোঝাপড়ার জায়গাটা হারিয়ে যাচ্ছে।’

নির্বাচন নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রিজভী বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, নির্দলীয় সহায়ক সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বরতা ও বাংলাদেশ সরকারের বাহিনীর মধ্যে অনেকাংশেই মিল পাওয়া যায় মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নৈতিক মনোবল বা শক্তি না থাকায় জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারছে না। প্রতি-উত্তর দিতে পারছে না। যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার আজ দেশে ক্ষমতায় থাকত, তাহলে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বসম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম নিধন বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব ছিল।’

মিয়ানমার বাহিনীর বর্বরতায় রোহিঙ্গা হত্যা ও নির্যাতন বিশ্ববিবেককে স্পর্শ করেছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, মর্মস্পশী হৃদয়বিদারক রোহিঙ্গাদের করুণ পরিণতিতে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয় কাঁদলেও সরকার এ বিষয়ে শুধু নির্বিকারই নয়, মরার উপর খাঁড়ার ঘা দেওয়ার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের ওপর চলছে পৈশাচিক নির্মূল অভিযান আর তাঁরা যখন বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে চায়, তখন সরকারের বাহিনী তাদেরকে প্রতিহত করে। রোহিঙ্গারা এখন অনতিক্রান্ত অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে মৃত্যুর প্রহর গুনছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানালেও সরকার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে পাষাণের মতো আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী। বিশ্বসম্প্রদায়ের সঙ্গে জোরালো লবিং করে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভোটারবিহীন আওয়ামী সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘মিয়ানমার বাহিনীর হেলিকপ্টার বারবার বাংলাদেশের সীমা অতিক্রম করলেও সরকার দায়সারা একটি প্রতিবাদলিপি দিয়ে কর্তব্য শেষ করেছে। কারণ তাঁরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তাঁরাও দেশে গুম, হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আর নির্যাতনের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকলেও ঈদের আগে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন রিজভী। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে আবারও নির্যাতিত-নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের মানবতার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানান। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের পাশে দাঁড়ান। তাদের বাঁচতে সাহায্য করুন। মানবতার সেবায় দল-মত নির্বিশেষে সকলে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান।’