ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে দুই শিশু ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের প্রতি অবহেলা: শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম সচিব বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এমপিদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক : স্পিকার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

একসঙ্গে ২৩০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে একসঙ্গে দুই হাজার ৩০০ রোহিঙ্গা মুসলিমকে ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশের কোস্টগার্ড। আজ সোমবার সকালে কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার জাফর ইমাম সজীব জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে গতকাল রোববার রাতে দুই হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে আটক করা হয়। পরে সেই পথেই তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ছাড়া শাহপরীর দ্বীপ থেকে প্রায় কাছাকাছি সময়ে আরো ৩০০ রোহিঙ্গাকে আটক করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। এ সময় শাহপরীর দ্বীপ থেকে রোহিঙ্গাদের পরিবহনে ব্যবহৃত নয়টি নৌকা জব্দ করে কোস্টগার্ড।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কক্সবাজার টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা শত শত রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং পৌঁছেছে। ট্রাকে ট্রাকে রোহিঙ্গা গিয়ে নামছে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের পাশে। এদের অনেকেই ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে পাহাড়ি এলাকায়।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর প্রতিদিন শত শত রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় পৌনে এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বিপদসংকুল নদী ও সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে দেশটির উত্তর-পূর্ব রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিগতভাবে নির্মূল করতে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের গ্রামে আগুন দিয়ে বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়াসহ গণহত্যা ও গণধর্ষণ চালায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

সহিংসতার শিকার হয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে এক পর্যন্ত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এর আগে ২০১২ সালের জুনেও মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আক্রান্ত রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। ওই সময় সরকার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে শক্ত অবস্থান নেয়। যার ফলে ওই সময়ে সাড়ে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা পুশব্যাক করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একসঙ্গে ২৩০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত

আপডেট সময় ১২:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ও শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে একসঙ্গে দুই হাজার ৩০০ রোহিঙ্গা মুসলিমকে ফেরত পাঠিয়েছে বাংলাদেশের কোস্টগার্ড। আজ সোমবার সকালে কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার জাফর ইমাম সজীব জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে গতকাল রোববার রাতে দুই হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে আটক করা হয়। পরে সেই পথেই তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।

এ ছাড়া শাহপরীর দ্বীপ থেকে প্রায় কাছাকাছি সময়ে আরো ৩০০ রোহিঙ্গাকে আটক করে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। এ সময় শাহপরীর দ্বীপ থেকে রোহিঙ্গাদের পরিবহনে ব্যবহৃত নয়টি নৌকা জব্দ করে কোস্টগার্ড।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কক্সবাজার টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করা শত শত রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং পৌঁছেছে। ট্রাকে ট্রাকে রোহিঙ্গা গিয়ে নামছে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের পাশে। এদের অনেকেই ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে পাহাড়ি এলাকায়।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর প্রতিদিন শত শত রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় পৌনে এক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বিপদসংকুল নদী ও সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জাতিগত দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে দেশটির উত্তর-পূর্ব রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। জাতিগতভাবে নির্মূল করতে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের গ্রামে আগুন দিয়ে বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়াসহ গণহত্যা ও গণধর্ষণ চালায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

সহিংসতার শিকার হয়ে গত বছরের অক্টোবর থেকে এক পর্যন্ত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এর আগে ২০১২ সালের জুনেও মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় আক্রান্ত রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। ওই সময় সরকার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে শক্ত অবস্থান নেয়। যার ফলে ওই সময়ে সাড়ে পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা পুশব্যাক করা হয়।