ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে ব্যর্থ হয়ে ২ শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়তে ব্যর্থ হয়ে মনের ক্ষোভ মেটাতে মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে গৃহবধূর ছেলেসহ দুই কিশোরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের দেওধা গ্রামে ঘটেছে এমন ঘটনা। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় সাংবাদিকদের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গৃহবধূ গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, নির্যাতনের ঘটনায় গত ৫ জুন ইউপি সদস্যসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আসারিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ বলছে, তারা পলাতক রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার দেওধা গ্রামের এক গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনে ব্যর্থ হয় ওই এলাকার মোতালেব আলী নামে এক ব্যক্তি। এতে মোতালেবের মনে ক্ষোভ জমে। পরে ক্ষোভ মেটাতে ওই গৃহবধূর কিশোর সন্তান সুমন ও ভাতিজা কমিরুলের বিরুদ্ধে মোবাইল চুরি অভিযোগ তুলে গত ২২ মে সেনগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এক শালিস বৈঠক বসানো হয়। সেখানে ওই দুই কিশোরকে কুজো করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় লাঠি দিয়ে নির্যাতন চালানো হয় এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।

মোবাইলে ধারণ করা নির্যাতনের সেই ভিডিও দেখিয়ে ওই গৃহবধূর কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে মারপিট করে তার বাড়ি থেকে একটি গরু তুলে নিয়ে যায় নির্যাতনকারীরা। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ টালবাহানা করে। অবশেষে গত ৫ জুন পুলিশ মামলা রুজু করলেও অজ্ঞাত কারণে আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ ওই গৃহবধূর।

ওই গৃহবধূ আরও অভিযোগ করেন, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিচ্ছে। অথচ পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। এদিকে, বিষয়টি ধামা চাপা দিতে একটি মহল তৎপর বলেও অভিযোগ তার। এ ব্যাপারে সেনগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এভাবে শিশুদের নির্যাতন করা ঠিক হয়নি। এর প্রতিকার হওয়া দরকার। বিষয়টি নিয়ে পীরগঞ্জ থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় জানান, মামলা নিতে টালবাহানা করা হয়নি। আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে ব্যর্থ হয়ে ২ শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন!

আপডেট সময় ০৪:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়তে ব্যর্থ হয়ে মনের ক্ষোভ মেটাতে মোবাইল চুরির অভিযোগ এনে গৃহবধূর ছেলেসহ দুই কিশোরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের দেওধা গ্রামে ঘটেছে এমন ঘটনা। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় সাংবাদিকদের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গৃহবধূ গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, নির্যাতনের ঘটনায় গত ৫ জুন ইউপি সদস্যসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আসারিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ বলছে, তারা পলাতক রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার দেওধা গ্রামের এক গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনে ব্যর্থ হয় ওই এলাকার মোতালেব আলী নামে এক ব্যক্তি। এতে মোতালেবের মনে ক্ষোভ জমে। পরে ক্ষোভ মেটাতে ওই গৃহবধূর কিশোর সন্তান সুমন ও ভাতিজা কমিরুলের বিরুদ্ধে মোবাইল চুরি অভিযোগ তুলে গত ২২ মে সেনগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এক শালিস বৈঠক বসানো হয়। সেখানে ওই দুই কিশোরকে কুজো করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় লাঠি দিয়ে নির্যাতন চালানো হয় এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।

মোবাইলে ধারণ করা নির্যাতনের সেই ভিডিও দেখিয়ে ওই গৃহবধূর কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে মারপিট করে তার বাড়ি থেকে একটি গরু তুলে নিয়ে যায় নির্যাতনকারীরা। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ টালবাহানা করে। অবশেষে গত ৫ জুন পুলিশ মামলা রুজু করলেও অজ্ঞাত কারণে আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ ওই গৃহবধূর।

ওই গৃহবধূ আরও অভিযোগ করেন, মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিচ্ছে। অথচ পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না। এদিকে, বিষয়টি ধামা চাপা দিতে একটি মহল তৎপর বলেও অভিযোগ তার। এ ব্যাপারে সেনগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এভাবে শিশুদের নির্যাতন করা ঠিক হয়নি। এর প্রতিকার হওয়া দরকার। বিষয়টি নিয়ে পীরগঞ্জ থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় জানান, মামলা নিতে টালবাহানা করা হয়নি। আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।