ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীর পোস্তগোলা ব্রিজে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন নিহত কক্সবাজারে বন্যায় ৪০টি ইউনিয়ন প্লাবিত, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি বিএনপি সরকার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সায়েদাবাদ হবে শুধু সিটি টার্মিনাল, আন্তঃজেলা বাস যাবে কাঁচপুরে: দক্ষিণ সিটি প্রশাসক সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডায় জামায়াতের কাছে আওয়ামী লীগ শিশু: রাশেদ খাঁন শেষ ১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিরিজ হারল বাংলাদেশ বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে সরকার সবকিছু করবে: মাহদী আমিন চীনে জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৮ আসামি মৃত্যুর গুজবে থানায় হামলা, পুলিশসহ আহত ১২

কোনো অযুহাতেই পোশাক শ্রমিকদের ছাঁটাই করা যাবে না: মান্না

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, করোনা মহামারির মধ্যে বিজিএমইএর সভাপতি পোশাক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। এর স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনও আমাকে বিস্মিত করেছে। বছরের পর বছর ধরে যে শ্রমিকদেও শ্রমকে পুঁজি করে এই পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, সেই শ্রমিকদের এই দুঃসময়ে কর্মহীন করা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কোনো অযুহাতেই পোশাক শ্রমিকদের ছাটাই করা যাবে না। আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতের কাঁচামাল প্রধানত আমদানি নির্ভর। অর্থাৎ আমরা পোশাক শিল্প থেকে যা আয় করি তা শুধুমাত্র পোশাক শ্রমিকদের শ্রমের মূল্য। কিছু অর্ডার বাতিল হয়েছে, সেই বাতিল অর্ডারের কিছু আবার ফিরেছে। হয়তো আরো ফিরবে। চলতি বছরে পোশাক শিল্পের আয় ২৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৩.১ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছিল যার ২৬ শতাংশ এখন পর্যন্ত ফেরানো গেছে। এত বছর ধরে যে শ্রমিকদের শ্রম বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি অগ্রসর হয়েছে এবং মালিকেরা ধনী থেকে ধনকুবের হয়েছেন, সেই শ্রমিকদের এই মহামারির সময়ে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

তিনি বলেন, বিজিএমইএ সভাপতি নিজেই বলেছেন, এখনো ১৮ হাজার শ্রমিকের কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকদের জন্য তহবিল গঠনের জন্য সরকারের সাথে বসা হবে। শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ কি যথেষ্ট ছিল না? সে বিষয়ে তো আপনারা কিছু বলছেন না। সরকারের সাথে বসে পোশাক শ্রমিকদের বিষয়ে গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিজিএমইএকে। কোনভাবেই পোশাক শ্রমিকদের ছাঁটাই করা যাবে না।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, প্রত্যেক শ্রমিকের বকেয়া বেতন চলতি জুন মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। যারা ইতিমধ্যে চাকরি হারিয়েছেন, তাদের শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন বা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পুনঃনিয়োগের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এই সকল বিষয়ে পোশাক কারখানা মালিকদের সহযোগিতা করার জন্য সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় পোশাক খাতের এই অস্থিরতা যে পরিস্থিতি তৈরি করবে তা সামাল দেয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না।

বিজিএমইএ সভাপতিকে ধন্যবাদ জানাই শ্রমিকদের করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য। আশা করি, স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবিকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সরকারের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধান করবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর পোস্তগোলা ব্রিজে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন নিহত

কোনো অযুহাতেই পোশাক শ্রমিকদের ছাঁটাই করা যাবে না: মান্না

আপডেট সময় ০৫:৩৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, করোনা মহামারির মধ্যে বিজিএমইএর সভাপতি পোশাক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। এর স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনও আমাকে বিস্মিত করেছে। বছরের পর বছর ধরে যে শ্রমিকদেও শ্রমকে পুঁজি করে এই পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, সেই শ্রমিকদের এই দুঃসময়ে কর্মহীন করা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কোনো অযুহাতেই পোশাক শ্রমিকদের ছাটাই করা যাবে না। আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতের কাঁচামাল প্রধানত আমদানি নির্ভর। অর্থাৎ আমরা পোশাক শিল্প থেকে যা আয় করি তা শুধুমাত্র পোশাক শ্রমিকদের শ্রমের মূল্য। কিছু অর্ডার বাতিল হয়েছে, সেই বাতিল অর্ডারের কিছু আবার ফিরেছে। হয়তো আরো ফিরবে। চলতি বছরে পোশাক শিল্পের আয় ২৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৩.১ বিলিয়ন ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছিল যার ২৬ শতাংশ এখন পর্যন্ত ফেরানো গেছে। এত বছর ধরে যে শ্রমিকদের শ্রম বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি অগ্রসর হয়েছে এবং মালিকেরা ধনী থেকে ধনকুবের হয়েছেন, সেই শ্রমিকদের এই মহামারির সময়ে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জ্ঞাপন করছি।

তিনি বলেন, বিজিএমইএ সভাপতি নিজেই বলেছেন, এখনো ১৮ হাজার শ্রমিকের কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকদের জন্য তহবিল গঠনের জন্য সরকারের সাথে বসা হবে। শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ কি যথেষ্ট ছিল না? সে বিষয়ে তো আপনারা কিছু বলছেন না। সরকারের সাথে বসে পোশাক শ্রমিকদের বিষয়ে গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিজিএমইএকে। কোনভাবেই পোশাক শ্রমিকদের ছাঁটাই করা যাবে না।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, প্রত্যেক শ্রমিকের বকেয়া বেতন চলতি জুন মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। যারা ইতিমধ্যে চাকরি হারিয়েছেন, তাদের শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন বা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পুনঃনিয়োগের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এই সকল বিষয়ে পোশাক কারখানা মালিকদের সহযোগিতা করার জন্য সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় পোশাক খাতের এই অস্থিরতা যে পরিস্থিতি তৈরি করবে তা সামাল দেয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না।

বিজিএমইএ সভাপতিকে ধন্যবাদ জানাই শ্রমিকদের করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য। আশা করি, স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবিকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সরকারের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধান করবেন।