ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আসন সমঝোতা হলেও জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে: নাহিদ ইসলাম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বিপিএল এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল, সময়সূচি প্রকাশ গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নির্ধারণ আইন অনুমোদন হয়েছে : আসিফ নজরুল বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের ঘরে ঘরে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: দুলু জামায়াত জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত, রাতে প্রার্থী ঘোষণা শহীদ হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড়, পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস আবারও ঢাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ, মানুষের ভোগান্তি ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় যাবেন তারা যেন প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করেন’:নজরুল ইসলাম

রাফিয়া আরশাদ: যুক্তরাজ্যের প্রথম হিজাবি বিচারক

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

যুক্তরাজ্যে এই প্রথম একজন মুসলিম হিজাবি নারী বিচারক নিযুক্ত হলেন। তিনি নিজেকে হিজাবের প্রতি মুসলিম যুবতীদের জন্য একটি উৎসাহ হিসেবে উপস্থাপন করতে চান।
আইন বিষয়ে ১৫ বছরের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার নিয়ে গত সপ্তাহে একজন সফল ব্যারিস্টার রাফিয়া আরশাদ মিডল্যান্ডের উপ-জেলা বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন।

রাফিয়া ১১ বছর বয়স থেকেই আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তিনি উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে বড় হন। বর্তমানে তার বয়স ৪০।

তিন সন্তানের জননী রাফিয়া ছিলেন তার পরিবারের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সদস্য। সে সময় তিনি ইসলামী পারিবারিক আইন বিষয়ক একটি চমৎকার প্রবন্ধ লেখেন।

বিগত কয়েক বছর যাবত মিসেস আরশাদ সন্তান, জোরপূর্বক বিবাহ, নারীদের যৌনাঙ্গহানিসহ ইসলামী আইন সম্পর্কিত অন্যান্য কেইস নিয়ে আইনচর্চা করে আসছিলেন।

রাফিয়া নিজের সম্পর্কে বলেন, আমার বর্তমান অবস্থা ব্যক্তি হিসেবে আমার চেয়ে অনেক বড়। হিজাব পরিধান করা শুধুমাত্র মুসলিম নারীদের জন্যই নয়; বরং সব ধর্মের নারীদের জন্য এটা জরুরি। তবে মুসলিম নারীদের জন্য এটা বিশেষভাবে প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যদিও আমাদের সমাজে সর্বত্র হিজাব পরিধান করাটা কঠিন। তবে একজন হিজাবী নারী হিসেবে আমি আনন্দিত। আমার এ আনন্দ আরও বেড়ে যায় যখন আমি দেখি যে, অনেক নারীর কাছ থেকে আমার ইমেইলে ম্যাসেজ আসছে। ম্যাসেজে তারা হিজাব পরিধান করার কারণে যেসব বাধার সম্মুখিন হচ্ছেন সেগুলো লিখছেন।

মেট্রো নিউজ পেপারকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাফিয়া আরও বলেন, তার পরিবার তাকে স্কলারশিপের জন্য ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার সময় হিজাব পরিধান করতে নিষেধ করেন। কিন্তু তিনি হিজাব পরেই সাহসের সঙ্গে ইন্টারভিউ দিতে চলে যান, এবং সফলভাবে ইন্টারভিউতে পাশ করেন।

তিনি বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, আমি হিজাব পরেই ইন্টারভিউ দিতে যাবো। কারণ এতে করে কর্তৃপক্ষ সহজেই আমার মনোভাব বুঝতে পারবে। আর আমি মনে করতাম, আমার পেশার জন্য যদি নিজেকেই পাল্টে ফেলতে হয়, তাহলে ওই পেশা আমি করবো না।

সুতরাং আমি হিজাব পরার সিদ্ধান্তে অটল থাকি, এবং সফলভাবে ইন্টারভিউতে উত্তীর্ণ হই। আর তখনই বুঝতে পারি, হ্যাঁ! এটা সম্ভব।

রাফিয়া দাবি করেন, নারীদের জন্য হিজাব পরিধান করা কোনো জুলুম নয়; বরং এটা তাদের শক্তি ও আত্মমর্যাদাকে বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, হিজাব পরিধান করার কারণে সবাই আমাকে আলাদা চোখে দেখে।

সেন্ট মেরি ফ্যামিলি ল‘ চেম্বারের যৌথ প্রধান ভিকি হজেস ও জুডি ক্লাক্সটন বলেন, বিচারক পদে রাফিয়ার নিয়োগে আমরা আনন্দিত। রাফিয়া আইন ও আদালতে মুসলিম নারীদের জন্য কাজ করে সফল হয়েছেন। একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি তার পেশায় ব্যক্তিগত বৈচিত্র্যসহ সবার সমতা বিধান করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

তারা আরও বলেন, বিচারক হিসেবে রাফিয়ার নিয়োগটি যথার্থ হয়েছে, এবং এর মাধ্যমে মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন হয়েছে। সেন্ট মেরি‘র পক্ষ থেকে আমরা তার সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করি। রাফিয়া আরশাদ আমাদের গর্ব।
Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাফিয়া আরশাদ: যুক্তরাজ্যের প্রথম হিজাবি বিচারক

আপডেট সময় ১০:৫৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

যুক্তরাজ্যে এই প্রথম একজন মুসলিম হিজাবি নারী বিচারক নিযুক্ত হলেন। তিনি নিজেকে হিজাবের প্রতি মুসলিম যুবতীদের জন্য একটি উৎসাহ হিসেবে উপস্থাপন করতে চান।
আইন বিষয়ে ১৫ বছরের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার নিয়ে গত সপ্তাহে একজন সফল ব্যারিস্টার রাফিয়া আরশাদ মিডল্যান্ডের উপ-জেলা বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন।

রাফিয়া ১১ বছর বয়স থেকেই আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তিনি উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে বড় হন। বর্তমানে তার বয়স ৪০।

তিন সন্তানের জননী রাফিয়া ছিলেন তার পরিবারের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সদস্য। সে সময় তিনি ইসলামী পারিবারিক আইন বিষয়ক একটি চমৎকার প্রবন্ধ লেখেন।

বিগত কয়েক বছর যাবত মিসেস আরশাদ সন্তান, জোরপূর্বক বিবাহ, নারীদের যৌনাঙ্গহানিসহ ইসলামী আইন সম্পর্কিত অন্যান্য কেইস নিয়ে আইনচর্চা করে আসছিলেন।

রাফিয়া নিজের সম্পর্কে বলেন, আমার বর্তমান অবস্থা ব্যক্তি হিসেবে আমার চেয়ে অনেক বড়। হিজাব পরিধান করা শুধুমাত্র মুসলিম নারীদের জন্যই নয়; বরং সব ধর্মের নারীদের জন্য এটা জরুরি। তবে মুসলিম নারীদের জন্য এটা বিশেষভাবে প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যদিও আমাদের সমাজে সর্বত্র হিজাব পরিধান করাটা কঠিন। তবে একজন হিজাবী নারী হিসেবে আমি আনন্দিত। আমার এ আনন্দ আরও বেড়ে যায় যখন আমি দেখি যে, অনেক নারীর কাছ থেকে আমার ইমেইলে ম্যাসেজ আসছে। ম্যাসেজে তারা হিজাব পরিধান করার কারণে যেসব বাধার সম্মুখিন হচ্ছেন সেগুলো লিখছেন।

মেট্রো নিউজ পেপারকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাফিয়া আরও বলেন, তার পরিবার তাকে স্কলারশিপের জন্য ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার সময় হিজাব পরিধান করতে নিষেধ করেন। কিন্তু তিনি হিজাব পরেই সাহসের সঙ্গে ইন্টারভিউ দিতে চলে যান, এবং সফলভাবে ইন্টারভিউতে পাশ করেন।

তিনি বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে, আমি হিজাব পরেই ইন্টারভিউ দিতে যাবো। কারণ এতে করে কর্তৃপক্ষ সহজেই আমার মনোভাব বুঝতে পারবে। আর আমি মনে করতাম, আমার পেশার জন্য যদি নিজেকেই পাল্টে ফেলতে হয়, তাহলে ওই পেশা আমি করবো না।

সুতরাং আমি হিজাব পরার সিদ্ধান্তে অটল থাকি, এবং সফলভাবে ইন্টারভিউতে উত্তীর্ণ হই। আর তখনই বুঝতে পারি, হ্যাঁ! এটা সম্ভব।

রাফিয়া দাবি করেন, নারীদের জন্য হিজাব পরিধান করা কোনো জুলুম নয়; বরং এটা তাদের শক্তি ও আত্মমর্যাদাকে বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, হিজাব পরিধান করার কারণে সবাই আমাকে আলাদা চোখে দেখে।

সেন্ট মেরি ফ্যামিলি ল‘ চেম্বারের যৌথ প্রধান ভিকি হজেস ও জুডি ক্লাক্সটন বলেন, বিচারক পদে রাফিয়ার নিয়োগে আমরা আনন্দিত। রাফিয়া আইন ও আদালতে মুসলিম নারীদের জন্য কাজ করে সফল হয়েছেন। একজন আইনজীবী হিসেবে তিনি তার পেশায় ব্যক্তিগত বৈচিত্র্যসহ সবার সমতা বিধান করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

তারা আরও বলেন, বিচারক হিসেবে রাফিয়ার নিয়োগটি যথার্থ হয়েছে, এবং এর মাধ্যমে মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন হয়েছে। সেন্ট মেরি‘র পক্ষ থেকে আমরা তার সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করি। রাফিয়া আরশাদ আমাদের গর্ব।