ক্লু বিহীন জিসিসির প্রকৌশলী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ, আটক ৩

331

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সহকর্মীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণেই এই প্রকৌশলী খুন হন। তাকে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার লাশ উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের খালি জায়গায় ফেলে পালিয়ে যায় খুনিরা।

এ ঘটনায় নিহতের গাড়ি চালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সেলিম, শাহীন ও গাড়িচালক হাবিব। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১১ মে বিকাল চারটার দিকে তুরাগ থানার ১৭ নম্বর সেক্টরে অজ্ঞাতনামা একটি লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পরে তুরাগ থানার পুলিশ একটি লাশ উদ্ধার করে। নিহতের গলায় এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে নিহতের স্বজনেরা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিহতের লাশ শনাক্ত করে। এ ঘটনায় ওইদিনই নিহতের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বাদী হয়ে তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উত্তরা বিভাগের উপ কমিশনার বলেন, হত্যা মামলাটির তদন্ত করতে গিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (অঞ্চল-৭) সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সেলিমসহ প্রকৌশলী রাশেদ ও প্রকৌশলী সুফিয়ানকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নিহত দেলোয়ার হোসেনের বাসার রাস্তার আশপাশ এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করতে থাকেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেলোয়ারের বাসার অদূরে একটি হায়েস মাইক্রোবাসে একজন সাদা পিপিই পরা ও একজন শার্ট প্যান্ট পরা ব্যক্তি অপেক্ষা করছেন। হঠাৎ তারা একটি রিকশাওয়ালাকে থামিয়ে তার মোবাইল থেকে কাকে যেন কল করেন। কিছুক্ষণ পর রিকশাওয়ালার ওই মোবাইলে ফিরতি কল এলে তারা দ্রুত দেলোয়ারের বাসার দিকে গাড়ি নিয়ে রওনা দেন। এখানে সাদা পিপিই পরিহিত ব্যক্তির সঙ্গে সহকারী প্রকৌশলী সেলিমের দেহের আকৃতির মিল পাওয়া যায়। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে ওই রিকশাওয়ালকে আটক করে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, পিপিই পরিহিত ব্যক্তি আর প্রকৌশলী সেলিম একই ব্যক্তি। সেলিমের সাথে আরও একজন ব্যক্তি ছিলেন। রিকশাওয়ালার মোবাইল থেকে কল করে মাইক্রোবাস নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ১০০ টাকা ধরিয়ে দেয়া হয় বলে চালক জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নাভিদ কামাল শৈবাল বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সেলিমের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাদা পিপিই ও কালো জুতা পরিহিত একজন ব্যক্তি বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত পিপিই, জুতা ও দেহের আকৃতির সঙ্গে ঘটনায় জড়িত পিপিই পরিহিত ব্যক্তির হুবহু মিল রয়েছে। এসব বিষয় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশ্চিত হয়ে প্রকৌশলী সেলিমকে সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে জানালে এক পর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নিহত প্রকৌশলী দেলোয়ার ও প্রকৌশলী সেলিম সহকর্মী ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অন্তন্দ্বন্দ্ব ছিল। বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তাদের মধ্যে বনিবনা হতো না। হত্যাকাণ্ডে সহযোগী হিসেবে শাহীন ও মাইক্রো চালক হাবিবকে সঙ্গে নেন সেলিম। ঘটনার দিন সেলিম ও তার অন্য দুই সহযোগী মাইক্রোবাস নিয়ে প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাকে গাড়িতে উঠান। গাড়িটি রূপনগর বেড়িবাঁধে পৌঁছালে সেলিমের ইশারায় মাইক্রোর পেছনে থাকা শাহীন দেলোয়ারের গলায় রশি দিয়ে পেঁচিয়ে টান দেন। পরে সেলিম তাকে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর দেলোয়ারের লাশটি ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় দেলোয়ারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দিয়াবাড়ির তিন নম্বর ব্রিজের সামনের লেকে ফেলে দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ফোনটি উদ্ধার করা হয়।

নাভিদ কামাল শৈবাল বলেন, এই ঘটনায় আজ গ্রেপ্তারকৃত শাহীন ও হাবিব আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সেলিমকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তদন্ত অব্যাহত আছে, অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।