ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আমলাদের ডিজিটাল খেলা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, অসৎ সরকারী কর্মীকে নদীর ঢেউ গুনতে দিলেও সে সেখান থেকে পয়সা খাবে। গরীব নৌকার মাঝিদের বলবে তদের নৌকা চলার জন্য আমার ঢেউ গোনায় ব্যাঘাত ঘটেছে, চল থানায় চল, তা না হলে ১০ টাকা দিয়ে যাও। উনারা সবখানেই প্যাঁচ লাগান নিজেদের ক্ষমতা জাহির করে টু পাইস কামাতে। আসলে এটা তাঁদের খাসলত।

করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র মানুষের জন্য নগদ সহায়তায় অর্থ ছাড় করেছেন সরকার। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের এককালীন দুই হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। সারাদেশের মোট ৫০ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারকে এ সহায়তা দেওয়া হবে। এতে সরকারের মোট খরচ হবে এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে যাবে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ৫০ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে আর্থিক সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১৪ মে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং/অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্বলিত বোতাম টিপে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বিতরণ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল। হাতে হাতে টাকা নিতে হবে না, কারও কাছে ধন্না দিতে হবে না। টাকা সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে যে, বিকাশের মাধ্যমে ১৫ লাখ দুস্থ পরিবারের কাছে সরকারি এই অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাচ্ছে পবিত্র ঈদের আগেই। রমজান ও ঈদের সময় এই অর্থ সাহায্য কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে এবং জরুরি প্রয়োজনে কাজে আসবে দুস্থ পরিবারের। সরকারি সাহায্যের এই টাকা ক্যাশ-আউটের ক্ষেত্রে উপকার-ভোগীর কোনো খরচ লাগছে না। মোট ক্যাশ-আউট খরচের ১৫ টাকা দেবে সরকার, বাকি ৩১.২৫ টাকা বিকাশ বহন করবে এই মহতী উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে। এনআইডি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বিকাশ নিশ্চিত করেছে যেন সঠিক পরিবারের কাছেই অর্থ সহায়তাটি পৌঁছায়। সাহায্য পাওয়া পরিবারের সদস্যরা যেন নির্বিঘ্নে এই টাকা তুলতে পারেন, সে ব্যাপারে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

৫০ লাখের মধ্যে যদি ১৫ লাখ বিকাশের মাধ্যমে যায় তাহলে বাকী ৩৫ লাখ যাবে নগদ, ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং, ইত্যাদি অনেক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আমাদের দেশে চালু আছে। এতে আছে পদে পদে প্রতারণার ফাঁদও। তবুও প্রযুক্তির সাথে আমাদের সবাইকে খাপ খাইয়ে নিতে হবে পরিবর্তিত সমাজ জীবনে টিকে থাকতে আর দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে। ঈদের আগে কি এটা সম্ভব হবে, নাকি ইউপি লেভেলের জনপ্রতিনিধিদের ঘুম হারাম হবে!

যাই হউক এবার দেখে নিই কিভাবে ৫০ লাখ পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি জানান, পহেলা মে তারিখে ইউএনও সাহেবের অফিসে মিটিং করেন সকল ইউপি চেয়ারম্যান আর সচিবদের নিয়ে। ১০ টাকা কেজি চাল বা রেশন কার্ড দেয়া হবে বা অন্য কিছুর জন্য জরুরী ভিত্তিতে গরীব অসহায়দের তালিকা করতে হবে। দেয়া হল প্রতি ওয়ার্ডে ১০০ জন করে প্রতি ইউনিয়নে ৯০০ জন অসহায়দের তালিকা করার নির্দেশনা পাওয়া গেল। কিন্তু সময় দেওয়া হল ২ মে দুপুর ১২টার মধ্যে।  তথ্য সংগ্রহ করা লাগবে নাম, বাবা/স্বামীর নাম, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, কত জন পুরুষ/মহিলা, প্রতিবন্ধী থাকে উল্লেখ করতে হবে। জন্ম তারিখ, সাল, বয়স, পেশা। ডিজিটাল দেশ মোবাইল নাম্বার তো দিতেই হবে।

প্রধানমন্ত্রী এই কাজ দিয়েছেন প্রশাসনকে কিন্তু প্রশাসন তার দায়িত্ব দিচ্ছে জনপ্রতিনিধি আর কিছু নিরীহ সরকারী স্কুলের শিক্ষকদের কাছে। তাই এ করোনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, মাত্র ১৫ ঘণ্টা সময়ে রাত ৯ থেকে দুপুর ১২ টার মধ্যে তালিকা তৈরি করে দিলেন যতদূর সম্ভব। কি আর করা উপর মহল থেকে চাপ কারো চাকরী থাকবে না। প্রশাসন মনে করে যে, মেম্বার চেয়ারম্যানগন তো করোনা প্রটেকটেড, করোনা তাঁদের আত্মীয়! ৯ সদস্যের ত্রাণ কমিটির সহযোগিতায় সকাল থেকে কাজ শুরু করে ১২ টা তো দুরে থাক সারা রাত কাজ করে পরের দিন দুপুরে কোন মতে শেষ করা হয়েছিলো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সকল তথ্য সংগ্রহ করা গেলেও সবার মোবাইল নং না থাকায় সেটা বাকি রেখেই জমা করা হয় কম্পিউটারাইজড কপি।

কিন্তু ২ দিন পর সিদ্ধান্ত হলো মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যম ২৫০০ করে টাকা দেয়া হবে তাই মোবাইল নাম্বার আবশ্যক।

গরীব মানুষেরা যদি ১,০০০/১,৫০০ টাকার ফোন আর প্রতি মাসে মোবাইল ফোনে ২০০/৩০০ টাকা খরচ করার ক্ষমতা থাকতো, তাহলে তারা অসহায় হতেন না। ছেলে মেয়ে যদি খেতে দিত তাহলেও তাদের কে অসহায় বলা হতো না। পরে সিদ্ধান্ত হয় যে, আশে পাশের প্রতিবেশী কারো মোবাইল নং দিয়েই তালিকা তৈরি করে দিতে হবে। এর পরে আসবে মোবাইলে হিসাব খোলা, পাসওয়ার্ড দেওয়া ইত্যাদি। তখন শুরু হবে আসল সমস্যা। ৮০ বছরের বুড়ো মানুষ কী মোবাইল ব্যাংকিং করতে পারবেন! নাকি পাসওয়ার্ড গোপন রাখতে পারবেন! তাঁর তো মোবাইল ফোনই নাই, তাহলে কী হবে! তাই অনেকে স্কুলের শিক্ষক, মেম্বারের টেলিফোন নং দিয়ে দিয়েছেন। তালিকা আরো স্বচ্ছ করার জন্য ৯ সদস্যের কমিটির বাইরে ইউএনও অফিস থেকে সকলকে ফোন করে তদন্ত করা হয়েছে, আবার প্রতি ওয়ার্ডে ২ জন করে স্কুল শিক্ষককে দিয়ে সরেজমিনে তালিকা তদন্ত করা হয়েছে, খুবই বিচক্ষণতার সাথে। ৯ সদস্যের কমিটি তে এক জন জনপ্রতিনিধি বাকি ৮ জন ই তো বাইরের,পরে আরো ২ জন স্কুল শিক্ষক দিয়ে তদন্ত। মোট ১১ জনের ভিতর ৪ জন শিক্ষক,১ জন ইমাম,২ জন মহিলা সমাজ কর্মী,১ জন এনজিও কর্মী,২ জন নেতা।

একজন রাজনীতিবিদ বলেন, এত কিছু করা হলেও প্রকৃত অসহায়ের হাতে টাকা পৌঁছাবে কি না সন্দেহ আছে। যে অসহায় বিধবা বৃদ্ধ মা কে তার ছেলে ২ বেলা ভাত দেয় না সেই ছেলের নাম্বারে টাকা গেলে কি ছেলে মাকে দিবেন, তার কি নিশ্চয়তা আছে? টাকা না পেয়ে সেই বৃদ্ধ মা যখন রাস্তায় রাস্তায় প্রশাসনকে বা জনপ্রতিনিধিদেরকে গালি দেবে, কিছু অসৎ সাংবাদিকরা সেটা ভিডিও করে জনপ্রতিনিধিদের ইজ্জত নিলাম করবেন। সেই দায়ভার কে নেবে? বলা হচ্ছে সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম এসেছে, এক পরিবারে ৩/৪ জন করে এসেছে। এক পরিবারে ২/৩ জন হলে বা সচ্ছল হলে সেই তালিকা পাস হলে তাদের কে কি কাজে পাঠানো হলো বাড়ি বাড়ি? অস্বচ্ছতার দ্বায় কেন শুধু জনপ্রতিনিধিদের উপর? কাজ করলে ভুল হতেই পারে। তাই পিছনে দোষ না দিয়ে সহযোগিতা করা, যারা কাজ করছেন তাঁদের পাশে থেকে তখন ভুল ধরিয়ে দিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অসহায় মানুষের জন্য কাজ করা দরকার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন এই পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় সারা দেশের সব মানুষ যাতে ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করেন তা অনেকটাই বাধ্য করা হয়েছে যাতে তাঁদের দেওয়া সরকারী সাহায্য ও সেবা তাঁদের কাছে ঠিকমত পোঁছায়। এই ক্ষেত্রে উনি মানুষের উপর অনেকটাই জোর করে আইটি সুবিধা নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করাটা চাপিয়ে দিয়েছেন সর্বসাধারণের কল্যাণেই। তবে একজন ইউপি চেয়ারম্যান সাহেব দুঃখ করে বলেন প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্যোগ এমন করেই ফাঁক তৈরি করা হবে যে, ইচ্ছা করলেই যে কোন জনপ্রতিনিধিকে চোর বানানো বা তাঁর সম্পর্কে চুরি করার চেষ্টার সন্দেহ সমাজের সবার মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া সম্ভব। জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এটা হতে পারে আমলাদের একটা ডিজিটাল খেলা। দেখা যাক কী হয় অবশেষ!

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনার হুঁশিয়ারি ইসির

জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আমলাদের ডিজিটাল খেলা!

আপডেট সময় ০৯:০১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, অসৎ সরকারী কর্মীকে নদীর ঢেউ গুনতে দিলেও সে সেখান থেকে পয়সা খাবে। গরীব নৌকার মাঝিদের বলবে তদের নৌকা চলার জন্য আমার ঢেউ গোনায় ব্যাঘাত ঘটেছে, চল থানায় চল, তা না হলে ১০ টাকা দিয়ে যাও। উনারা সবখানেই প্যাঁচ লাগান নিজেদের ক্ষমতা জাহির করে টু পাইস কামাতে। আসলে এটা তাঁদের খাসলত।

করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র মানুষের জন্য নগদ সহায়তায় অর্থ ছাড় করেছেন সরকার। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের এককালীন দুই হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। সারাদেশের মোট ৫০ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারকে এ সহায়তা দেওয়া হবে। এতে সরকারের মোট খরচ হবে এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে যাবে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ৫০ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে আর্থিক সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১৪ মে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং/অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্বলিত বোতাম টিপে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বিতরণ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল। হাতে হাতে টাকা নিতে হবে না, কারও কাছে ধন্না দিতে হবে না। টাকা সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পৌঁছে যাবে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে যে, বিকাশের মাধ্যমে ১৫ লাখ দুস্থ পরিবারের কাছে সরকারি এই অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাচ্ছে পবিত্র ঈদের আগেই। রমজান ও ঈদের সময় এই অর্থ সাহায্য কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে এবং জরুরি প্রয়োজনে কাজে আসবে দুস্থ পরিবারের। সরকারি সাহায্যের এই টাকা ক্যাশ-আউটের ক্ষেত্রে উপকার-ভোগীর কোনো খরচ লাগছে না। মোট ক্যাশ-আউট খরচের ১৫ টাকা দেবে সরকার, বাকি ৩১.২৫ টাকা বিকাশ বহন করবে এই মহতী উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে। এনআইডি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বিকাশ নিশ্চিত করেছে যেন সঠিক পরিবারের কাছেই অর্থ সহায়তাটি পৌঁছায়। সাহায্য পাওয়া পরিবারের সদস্যরা যেন নির্বিঘ্নে এই টাকা তুলতে পারেন, সে ব্যাপারে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

৫০ লাখের মধ্যে যদি ১৫ লাখ বিকাশের মাধ্যমে যায় তাহলে বাকী ৩৫ লাখ যাবে নগদ, ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং, ইত্যাদি অনেক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আমাদের দেশে চালু আছে। এতে আছে পদে পদে প্রতারণার ফাঁদও। তবুও প্রযুক্তির সাথে আমাদের সবাইকে খাপ খাইয়ে নিতে হবে পরিবর্তিত সমাজ জীবনে টিকে থাকতে আর দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে। ঈদের আগে কি এটা সম্ভব হবে, নাকি ইউপি লেভেলের জনপ্রতিনিধিদের ঘুম হারাম হবে!

যাই হউক এবার দেখে নিই কিভাবে ৫০ লাখ পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধি জানান, পহেলা মে তারিখে ইউএনও সাহেবের অফিসে মিটিং করেন সকল ইউপি চেয়ারম্যান আর সচিবদের নিয়ে। ১০ টাকা কেজি চাল বা রেশন কার্ড দেয়া হবে বা অন্য কিছুর জন্য জরুরী ভিত্তিতে গরীব অসহায়দের তালিকা করতে হবে। দেয়া হল প্রতি ওয়ার্ডে ১০০ জন করে প্রতি ইউনিয়নে ৯০০ জন অসহায়দের তালিকা করার নির্দেশনা পাওয়া গেল। কিন্তু সময় দেওয়া হল ২ মে দুপুর ১২টার মধ্যে।  তথ্য সংগ্রহ করা লাগবে নাম, বাবা/স্বামীর নাম, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, কত জন পুরুষ/মহিলা, প্রতিবন্ধী থাকে উল্লেখ করতে হবে। জন্ম তারিখ, সাল, বয়স, পেশা। ডিজিটাল দেশ মোবাইল নাম্বার তো দিতেই হবে।

প্রধানমন্ত্রী এই কাজ দিয়েছেন প্রশাসনকে কিন্তু প্রশাসন তার দায়িত্ব দিচ্ছে জনপ্রতিনিধি আর কিছু নিরীহ সরকারী স্কুলের শিক্ষকদের কাছে। তাই এ করোনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, মাত্র ১৫ ঘণ্টা সময়ে রাত ৯ থেকে দুপুর ১২ টার মধ্যে তালিকা তৈরি করে দিলেন যতদূর সম্ভব। কি আর করা উপর মহল থেকে চাপ কারো চাকরী থাকবে না। প্রশাসন মনে করে যে, মেম্বার চেয়ারম্যানগন তো করোনা প্রটেকটেড, করোনা তাঁদের আত্মীয়! ৯ সদস্যের ত্রাণ কমিটির সহযোগিতায় সকাল থেকে কাজ শুরু করে ১২ টা তো দুরে থাক সারা রাত কাজ করে পরের দিন দুপুরে কোন মতে শেষ করা হয়েছিলো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সকল তথ্য সংগ্রহ করা গেলেও সবার মোবাইল নং না থাকায় সেটা বাকি রেখেই জমা করা হয় কম্পিউটারাইজড কপি।

কিন্তু ২ দিন পর সিদ্ধান্ত হলো মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যম ২৫০০ করে টাকা দেয়া হবে তাই মোবাইল নাম্বার আবশ্যক।

গরীব মানুষেরা যদি ১,০০০/১,৫০০ টাকার ফোন আর প্রতি মাসে মোবাইল ফোনে ২০০/৩০০ টাকা খরচ করার ক্ষমতা থাকতো, তাহলে তারা অসহায় হতেন না। ছেলে মেয়ে যদি খেতে দিত তাহলেও তাদের কে অসহায় বলা হতো না। পরে সিদ্ধান্ত হয় যে, আশে পাশের প্রতিবেশী কারো মোবাইল নং দিয়েই তালিকা তৈরি করে দিতে হবে। এর পরে আসবে মোবাইলে হিসাব খোলা, পাসওয়ার্ড দেওয়া ইত্যাদি। তখন শুরু হবে আসল সমস্যা। ৮০ বছরের বুড়ো মানুষ কী মোবাইল ব্যাংকিং করতে পারবেন! নাকি পাসওয়ার্ড গোপন রাখতে পারবেন! তাঁর তো মোবাইল ফোনই নাই, তাহলে কী হবে! তাই অনেকে স্কুলের শিক্ষক, মেম্বারের টেলিফোন নং দিয়ে দিয়েছেন। তালিকা আরো স্বচ্ছ করার জন্য ৯ সদস্যের কমিটির বাইরে ইউএনও অফিস থেকে সকলকে ফোন করে তদন্ত করা হয়েছে, আবার প্রতি ওয়ার্ডে ২ জন করে স্কুল শিক্ষককে দিয়ে সরেজমিনে তালিকা তদন্ত করা হয়েছে, খুবই বিচক্ষণতার সাথে। ৯ সদস্যের কমিটি তে এক জন জনপ্রতিনিধি বাকি ৮ জন ই তো বাইরের,পরে আরো ২ জন স্কুল শিক্ষক দিয়ে তদন্ত। মোট ১১ জনের ভিতর ৪ জন শিক্ষক,১ জন ইমাম,২ জন মহিলা সমাজ কর্মী,১ জন এনজিও কর্মী,২ জন নেতা।

একজন রাজনীতিবিদ বলেন, এত কিছু করা হলেও প্রকৃত অসহায়ের হাতে টাকা পৌঁছাবে কি না সন্দেহ আছে। যে অসহায় বিধবা বৃদ্ধ মা কে তার ছেলে ২ বেলা ভাত দেয় না সেই ছেলের নাম্বারে টাকা গেলে কি ছেলে মাকে দিবেন, তার কি নিশ্চয়তা আছে? টাকা না পেয়ে সেই বৃদ্ধ মা যখন রাস্তায় রাস্তায় প্রশাসনকে বা জনপ্রতিনিধিদেরকে গালি দেবে, কিছু অসৎ সাংবাদিকরা সেটা ভিডিও করে জনপ্রতিনিধিদের ইজ্জত নিলাম করবেন। সেই দায়ভার কে নেবে? বলা হচ্ছে সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম এসেছে, এক পরিবারে ৩/৪ জন করে এসেছে। এক পরিবারে ২/৩ জন হলে বা সচ্ছল হলে সেই তালিকা পাস হলে তাদের কে কি কাজে পাঠানো হলো বাড়ি বাড়ি? অস্বচ্ছতার দ্বায় কেন শুধু জনপ্রতিনিধিদের উপর? কাজ করলে ভুল হতেই পারে। তাই পিছনে দোষ না দিয়ে সহযোগিতা করা, যারা কাজ করছেন তাঁদের পাশে থেকে তখন ভুল ধরিয়ে দিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অসহায় মানুষের জন্য কাজ করা দরকার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন এই পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় সারা দেশের সব মানুষ যাতে ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করেন তা অনেকটাই বাধ্য করা হয়েছে যাতে তাঁদের দেওয়া সরকারী সাহায্য ও সেবা তাঁদের কাছে ঠিকমত পোঁছায়। এই ক্ষেত্রে উনি মানুষের উপর অনেকটাই জোর করে আইটি সুবিধা নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করাটা চাপিয়ে দিয়েছেন সর্বসাধারণের কল্যাণেই। তবে একজন ইউপি চেয়ারম্যান সাহেব দুঃখ করে বলেন প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্যোগ এমন করেই ফাঁক তৈরি করা হবে যে, ইচ্ছা করলেই যে কোন জনপ্রতিনিধিকে চোর বানানো বা তাঁর সম্পর্কে চুরি করার চেষ্টার সন্দেহ সমাজের সবার মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া সম্ভব। জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এটা হতে পারে আমলাদের একটা ডিজিটাল খেলা। দেখা যাক কী হয় অবশেষ!