ঢাকা ১২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

প্রেমিকার কারণে বৃটিশ প্রভাবশালী বিজ্ঞানীর পদত্যাগ

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাস সংক্রমণে লকডাউনের মধ্যে বাসায় প্রেমিকাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার দায়ে বৃটিশ সরকারের সায়েন্টিফিক এ্যাডভাইজরি গ্রুপ (এসএজিই) থেকে পদত্যাগ করেছেন শীর্ষ একজন বিজ্ঞানী প্রফেসর নিল ফার্গুসন।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের শীর্ষ স্থানীয় মহামারী বিশেষজ্ঞ নিল ফার্গুসন তার বিদায় বার্তায় লিখেছেন, তিনি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। খবর-স্কাই নিউজ।

স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিল ফার্গুসন তার একজন বান্ধবী ও প্রেমিকা অ্যান্তোনিয়া স্ট্যাটসকে নিজের বাড়িতে প্রবেশ করতে দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করেছেন।

উল্লেখ্য, এসএজিই-এর একজন প্রভাবশালী সদস্য তিনি। বৃটিশ সরকার কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ে যেসব গাইড পলিসি দিচ্ছে তাতে সহায়তা করছেন তিনি। ফলে তার পদত্যাগ এসএজিই গ্রুপ এবং মন্ত্রীদের জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ই মার্চ প্রফেসর ফার্গুসনের জ্বর ও করোনাভাইরাসের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়।

নিল ফার্গুসন বলেছেন, আমি মেনে নিচ্ছি একটা ভুল করেছি এবং ভুল কাজ করেছি। তাই আমি এসএজিই থেকে আমাকে সরিয়ে নিয়েছি। এমন ধারণায় আমি এ কাজ করেছি যে, আমার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করেছে। আমার করোনাভাইরাস পজেটিভ এসেছিল পরীক্ষায়। এ লক্ষণ দেখা দেয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ নিজেকে পুরোপুরি আইসোলেট করে রেখেছিলাম। এই ভয়াবহ মহামারীকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নীতি মানতে পারিনি। এ জন্য আমি গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি। সরকারের যেসব গাইডলাইন আছে তা স্পষ্ট এবং সেটা আমাদের সবাইকে রক্ষা করার জন্য।

এর আগে লকডাউনের ভেতরেই নিজের দ্বিতীয় বাড়িতে দু’বার সফরে যান স্কটল্যান্ডের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ক্যাথেরিন ক্যাল্ডারউড। এ অভিযোগে তিনিও পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগের এক মাস পরে নিল ফার্গুসন পদত্যাগ করলেন।

উল্লেখ্য, এসএজিই দলে আছেন ৫০ জন সদস্য। তার মধ্যে প্রফেসর ফার্গুসন সবচেয়ে প্রভাবশালীদের অন্যতম হয়ে ওঠেন সরকারকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে নিয়মিত কিছু ফিচারের ব্রিফিং করে। মধ্য মার্চে তিনি প্রথম সংবাদ শিরোনাম হন। ওই সময় ইম্পেরিয়াল কলেজের একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। এর শীর্ষ লেখক তিনি। ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, যদি বৃটেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে না পারে তাহলে আড়াই লাখ মানুষ মারা যেতে পারেন।

এর প্রায় ১৫ দিন আগে প্রফেসর ফার্গুসন বলেন, জীবন পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় যাবে না। একটি টিকা না আসা পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। এরপর তিনি বলেছেন, যদি লকডাউন তুলে নেয়া হয় তাহলে এ বছরেই বৃটেনে মারা যেতে পারেন এক লাখের বেশি মানুষ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রেমিকার কারণে বৃটিশ প্রভাবশালী বিজ্ঞানীর পদত্যাগ

আপডেট সময় ০৩:১৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাস সংক্রমণে লকডাউনের মধ্যে বাসায় প্রেমিকাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার দায়ে বৃটিশ সরকারের সায়েন্টিফিক এ্যাডভাইজরি গ্রুপ (এসএজিই) থেকে পদত্যাগ করেছেন শীর্ষ একজন বিজ্ঞানী প্রফেসর নিল ফার্গুসন।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের শীর্ষ স্থানীয় মহামারী বিশেষজ্ঞ নিল ফার্গুসন তার বিদায় বার্তায় লিখেছেন, তিনি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। খবর-স্কাই নিউজ।

স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিল ফার্গুসন তার একজন বান্ধবী ও প্রেমিকা অ্যান্তোনিয়া স্ট্যাটসকে নিজের বাড়িতে প্রবেশ করতে দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করেছেন।

উল্লেখ্য, এসএজিই-এর একজন প্রভাবশালী সদস্য তিনি। বৃটিশ সরকার কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ে যেসব গাইড পলিসি দিচ্ছে তাতে সহায়তা করছেন তিনি। ফলে তার পদত্যাগ এসএজিই গ্রুপ এবং মন্ত্রীদের জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ই মার্চ প্রফেসর ফার্গুসনের জ্বর ও করোনাভাইরাসের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়।

নিল ফার্গুসন বলেছেন, আমি মেনে নিচ্ছি একটা ভুল করেছি এবং ভুল কাজ করেছি। তাই আমি এসএজিই থেকে আমাকে সরিয়ে নিয়েছি। এমন ধারণায় আমি এ কাজ করেছি যে, আমার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করেছে। আমার করোনাভাইরাস পজেটিভ এসেছিল পরীক্ষায়। এ লক্ষণ দেখা দেয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ নিজেকে পুরোপুরি আইসোলেট করে রেখেছিলাম। এই ভয়াবহ মহামারীকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নীতি মানতে পারিনি। এ জন্য আমি গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি। সরকারের যেসব গাইডলাইন আছে তা স্পষ্ট এবং সেটা আমাদের সবাইকে রক্ষা করার জন্য।

এর আগে লকডাউনের ভেতরেই নিজের দ্বিতীয় বাড়িতে দু’বার সফরে যান স্কটল্যান্ডের প্রধান মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ক্যাথেরিন ক্যাল্ডারউড। এ অভিযোগে তিনিও পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগের এক মাস পরে নিল ফার্গুসন পদত্যাগ করলেন।

উল্লেখ্য, এসএজিই দলে আছেন ৫০ জন সদস্য। তার মধ্যে প্রফেসর ফার্গুসন সবচেয়ে প্রভাবশালীদের অন্যতম হয়ে ওঠেন সরকারকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে নিয়মিত কিছু ফিচারের ব্রিফিং করে। মধ্য মার্চে তিনি প্রথম সংবাদ শিরোনাম হন। ওই সময় ইম্পেরিয়াল কলেজের একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। এর শীর্ষ লেখক তিনি। ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, যদি বৃটেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে না পারে তাহলে আড়াই লাখ মানুষ মারা যেতে পারেন।

এর প্রায় ১৫ দিন আগে প্রফেসর ফার্গুসন বলেন, জীবন পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় যাবে না। একটি টিকা না আসা পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। এরপর তিনি বলেছেন, যদি লকডাউন তুলে নেয়া হয় তাহলে এ বছরেই বৃটেনে মারা যেতে পারেন এক লাখের বেশি মানুষ।