আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে দেশের সর্বস্তরে টিসিবির পণ্য বিতরণ করতে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব বুধবার ইমেইলে নোটিশটি পাঠিয়েছেন।
নির্ধারিত সময়ে নোটিশের জবাব না পেলে তিনি পরবর্তি আইনী পদক্ষেপ নিবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে কম দামে ১০ টাকা মূল্যে চাল এবং অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে শুধুমাত্র সিটি করপোরেশন এবং কিছু পৌরসভা এলাকার মধ্যে।
এ কারণে এর সুফল সারাদেশের নিম্নবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারছে না। এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু এই কম দামে খাদ্য দ্রব্য কেনার অধিকার বাংলাদেশের শুধুমাত্র সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভা এলাকার মধ্যকার মানুষের নয়, বরং বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তে বসবাসকারী একজন সাধারণ মানুষের অধিকার রয়েছে।
এই আইনজীবী বলেন, রাষ্ট্রকর্তৃক কম দামে যে খাদ্য দ্রব্য সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে সেগুলি ক্রয় করতে সবাইকে সুযোগ দিতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি ছুটি চলছে এবং সারাদেশে লকডাউন চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ করে নিম্ন এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ যারা আছেন তারা ব্যাপক আর্থিক অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং তারা ক্রাইসিসে ভুগছে। কিন্তু এই টিসিবির মাধ্যমে কম দামে যেসব পণ্য বিক্রি করা হয় সেটা যদি শুধুমাত্র সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বাংলাদেশের উপজেলা লেভেলে বিক্রি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে এই খাদ্য সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে। অন্যদিকে যেহেতু এই উদ্যোগটা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য তাই এই বিষয়টিকে শুধুমাত্র সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার মধ্যে সীমিতকরণ অন্যান্য সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। তাদেরও অধিকার আছে কম দামে প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় করার।
তিনি বলেন, খাদ্যের অধিকার, জীবনধারণের অধিকার, আইনত ন্যায্য অধিকার পাওয়া আমাদের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। এছাড়াও আমাদের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসা কে মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে রাষ্ট্র উহার নিশ্চয়তা প্রদান করবে। কাজেই কম মূল্যে রাষ্ট্রীয় খাদ্য সামগ্রী বিক্রি শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশন অথবা কিছু নির্দিষ্ট এরিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সুস্পষ্ট ভাবে সংবিধানের লংঘন, মানবাধিকারের এবং মৌলিক অধিকারের লংঘন।
এবিষয়গুলি উল্লেখ করে ল এন্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউসার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবকে বিবাদি করা হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















