ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে আ.লীগ ছাড়লেন চেয়ারম্যানসহ ৯ ইউপি সদস্য ১৬ জুলাই ঘিরে গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন মালয়েশিয়ায় ইসরাইলি নাগরিক শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গেই বহিষ্কার আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: নাহিদ কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার:প্রধানমন্ত্রী অহংকারী মনোভাব বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের বসা উচিত:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত, ১০ সরকারি বিল পাস এমপিরা পৃষ্ঠপোষক না হলে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে:সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

পাউবো দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে : টিআইবি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম হলে জলবায়ু সম্পর্কিত এসব প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে না বলেও আশঙ্কা সংস্থাটির। আজ বুধবার টিআইবি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে টিআইবি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অসময়ের বন্যা কিংবা বারবার বন্যার কারণে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি যখন আলোচিত তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড জলবায়ু সংক্রান্ত প্রকল্প গ্রহণ করে কি করছে তা দেখাই ছিল টিআইবির গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। এতে টিআইবি পাউবোর ৬টি প্রকল্প যাচাই করে। তবে গবেষণার ফলাফলে টিআইবি সংখ্যার হিসাবে চূড়ান্ত কোনো তথ্য না দিয়ে বরং ছোট বড় নানা রকম দুর্নীতি হচ্ছে সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এ সময় টিআইবির গবেষক গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘ঠিকাদারের নিজস্ব ইটভাটার বিজনেস আছে। খাল যে কেটেছেন সে মাটিটা বাঁধের পাড় শক্ত করার জন্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উনি নিজের ইটভাটায় নিয়ে চলে গেছেন। একটি প্রকল্পে রাস্তার নির্মাণ কাজের সময় ঠিকাদার ১০ থেকে ১৫টি গাছ, সেই যে রাস্তায় আছে, সেগুলি কেটে গাছপ্রতি গড়ে ২৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ঠিকাদার অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কেউ ভয়ে কিছু বলেনি।’

গবেষণায় দেখা যায়, জলবায়ু প্রকল্প যে এলাকার জন্য বেশি প্রয়োজন সেখানে তা বাস্তবায়ন না হয়ে হচ্ছে তুলনামূলক কম প্রয়োজনীয় এলাকায়। এমনটি পর্যবেক্ষণ করে টিআইবির গবেষণা দল খুঁজে পায়, ৬টি প্রকল্পের ২টিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, ১টিতে প্রাক্তন মন্ত্রীর আত্মীয়, ১টি ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং ১টি প্রকল্প পেতে জনৈক সচিবের প্রভাব মূল ভূমিকা পালন করেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যারা ঘুষ লেনদেন করে তারা কী আপনাকে বলবে যে আমরা ঘুষ লেনদেন করেছি। সেটা তো হয় না, সম্ভব না। এখানে প্রভাবটা বেশি প্রাধান্য পেয়েছে সেটি আমরা দেখতে পাচ্ছি। ভালনারেবিলিটি ম্যাপ যেটি, সেই ম্যাপের সাথে কিন্তু প্রকল্পের লোকেশনগুলো কনসিসটেন্ট না। মিলছে না। এটা হচ্ছে যেইখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ আছে সেইখানে প্রকল্পের লোকেশন। এই জিনিসটা কিন্তু খুব পরিষ্কার।’

এমন প্রেক্ষাপটে পাউবো যে জলবায়ু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তার সুফল আদৌ ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ পাবে কি না এবং এসব দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছ থেকে জলবায়ু তহবিলের অর্থ ঠিকমতো পাবে কি না- এ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পাউবো দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে : টিআইবি

আপডেট সময় ০৫:৪১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম হলে জলবায়ু সম্পর্কিত এসব প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হবে না বলেও আশঙ্কা সংস্থাটির। আজ বুধবার টিআইবি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে টিআইবি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অসময়ের বন্যা কিংবা বারবার বন্যার কারণে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি যখন আলোচিত তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড জলবায়ু সংক্রান্ত প্রকল্প গ্রহণ করে কি করছে তা দেখাই ছিল টিআইবির গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। এতে টিআইবি পাউবোর ৬টি প্রকল্প যাচাই করে। তবে গবেষণার ফলাফলে টিআইবি সংখ্যার হিসাবে চূড়ান্ত কোনো তথ্য না দিয়ে বরং ছোট বড় নানা রকম দুর্নীতি হচ্ছে সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এ সময় টিআইবির গবেষক গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘ঠিকাদারের নিজস্ব ইটভাটার বিজনেস আছে। খাল যে কেটেছেন সে মাটিটা বাঁধের পাড় শক্ত করার জন্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উনি নিজের ইটভাটায় নিয়ে চলে গেছেন। একটি প্রকল্পে রাস্তার নির্মাণ কাজের সময় ঠিকাদার ১০ থেকে ১৫টি গাছ, সেই যে রাস্তায় আছে, সেগুলি কেটে গাছপ্রতি গড়ে ২৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ঠিকাদার অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কেউ ভয়ে কিছু বলেনি।’

গবেষণায় দেখা যায়, জলবায়ু প্রকল্প যে এলাকার জন্য বেশি প্রয়োজন সেখানে তা বাস্তবায়ন না হয়ে হচ্ছে তুলনামূলক কম প্রয়োজনীয় এলাকায়। এমনটি পর্যবেক্ষণ করে টিআইবির গবেষণা দল খুঁজে পায়, ৬টি প্রকল্পের ২টিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, ১টিতে প্রাক্তন মন্ত্রীর আত্মীয়, ১টি ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং ১টি প্রকল্প পেতে জনৈক সচিবের প্রভাব মূল ভূমিকা পালন করেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যারা ঘুষ লেনদেন করে তারা কী আপনাকে বলবে যে আমরা ঘুষ লেনদেন করেছি। সেটা তো হয় না, সম্ভব না। এখানে প্রভাবটা বেশি প্রাধান্য পেয়েছে সেটি আমরা দেখতে পাচ্ছি। ভালনারেবিলিটি ম্যাপ যেটি, সেই ম্যাপের সাথে কিন্তু প্রকল্পের লোকেশনগুলো কনসিসটেন্ট না। মিলছে না। এটা হচ্ছে যেইখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ আছে সেইখানে প্রকল্পের লোকেশন। এই জিনিসটা কিন্তু খুব পরিষ্কার।’

এমন প্রেক্ষাপটে পাউবো যে জলবায়ু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তার সুফল আদৌ ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ পাবে কি না এবং এসব দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছ থেকে জলবায়ু তহবিলের অর্থ ঠিকমতো পাবে কি না- এ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইবি।