ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চীনের করিডর প্রস্তাব সরকার ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে: উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির খন্দকার লুৎফরকে বহিষ্কার, জাগপার নতুন সভাপতি জাকির হোসেন রিয়াজ বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদের পথে: জিএম কাদের মুখে বালিশ চেপে ধরে কিশোরীকে অচেতন, ধর্ষণের পর ফেলে যায় চৌবাচ্চায় এনসিপির মাসব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ ৬ জুলাই শুরু অহংকার যে একটি দেশ ও দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ শেখ হাসিনা গুলিস্তানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আহত ‘আমাকে দেখে কি বেকুব মনে হয়’, পিডিকে প্রশ্ন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সেই ভুল আর করা চলবে না: শামা ওবায়েদ চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশে গণতন্ত্র ফিরেছে: গণপূর্ত মন্ত্রী

এমন পহেলা বৈশাখ আগে কেউ দেখেনি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিষাদ ছুঁয়েছে মন। আনন্দরা আজ দুয়ার আঁটা। আজ কি পহেলা বৈশাখ? বাঙালির জাতীয় জীবনের এক আনন্দঘন দিন? একবুক হাহাকার নিয়ে প্রশ্নগুলো ঘুরে বেড়ায় দুয়ারে দুয়ারে। যে দুয়ার আঁটা করোনাভাইরাসের ভয়ে। বাংলা ১৪২৭ সনটির যাত্রা হলো এমন হরিষেবিষাদে! এমন পহেলা বৈশাখ কেউ কি দেখেছে আগে? কোথায় সেই মঙ্গলশোভা যাত্রা? রমনার বটমূলে খাঁ খাঁ রদ্দুর। একচিলতে ছায়া মেঘের মতো সেই রদ্দুর ম্লান করে দিতে চাইছে। পথে পথে নেই ফুল আর মানুষের সম্মিলন। ফুলের দোকানগুলো আজ ফাঁকা পড়ে আছে। দুপুর রোদে এমন বিষণ্ন বৈশাখ ভারি করে তুলছে হৃদয়।

কোভিড-১৯ ভাইরাসের দাপটে কাঁপছে বিশ্ব। মৃত্যুর মিছিলে শঙ্কিত প্রাণ। প্রাণ নেই আজ প্রাণে। এ কেমন বিশ্ব? লোকে বলে, এ মহামারি। মহামৃত্যুর পয়গাম। লড়ছে বিশ্ব। তবুও যেন কাবু হবার নয়। ক্ষণে ক্ষণে আতঙ্কিত করছে কোভিড-১৯ এর রঙ। চিকিৎসা-বিজ্ঞান রাতদিন জেগে আছে প্রতিষেধকের খোঁজে। যতঝড়-ঝঞ্জাই আসুক, পহেলা বৈশাখে ঘরবন্দী রাখা যেতো না কাউকে। প্রাণ থেকে প্রাণে আনন্দ ভাগাভাগিতে মেতে উঠতো বাঙালি মন। প্রস্তুতিও চলতো মাসভরে।

মঙ্গলশোভায় অশুভ হটিয়ে ধরাকে শূচি করার প্রার্থনা হতো সমবেত সুরে। ঢাক-ঢোল আর ঝাঁঝরের তালে। আজ সব প্রকৃতির তুলে দেওয়া দেয়ালের আড়ালে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।

পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বড় অংশ জুড়ে থাকতো রসনাবিলাস। ঘরে ঘরে পান্তা-ইলিশ আর শুকনো মরিচ পোড়া; শুটকি ভর্তা, ডাল ভুনা আর বেগুন ভাজা। সীমিত হলেও এসব আয়োজন হয়তো হয়েছে, কিন্তু রসনাবিলাসের সাথে যে আনন্দ আর সব বার মিশে থাকে, তা নেই। আছে কেবল একাকীত্ব আর নিঃসঙ্গতার সুর।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে মানুষকে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোনো বারণ। কিন্তু কজন মানছেন তা? ভোর না হতেই বাজারে সেই চিরচেনা ভিড়। আগে দিনভর যেটা হতো এখন ভোরেই তা হয়। কারণ চটজলদি কেনাকাটা সেরে ঘরে উঠার তাড়া আছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসমাগমে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। মানুষকে বাঁচতে হলে তা মানতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে জনাকীর্ণতা। বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব। এক্ষেত্রে কেবল ঘরে থাকাই নিরাপদ। এমন বিষাদের নতুন বছরে সবার মনে একটাই প্রার্থনা, ‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা। অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চীনের করিডর প্রস্তাব সরকার ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে: উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

এমন পহেলা বৈশাখ আগে কেউ দেখেনি

আপডেট সময় ১০:১০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিষাদ ছুঁয়েছে মন। আনন্দরা আজ দুয়ার আঁটা। আজ কি পহেলা বৈশাখ? বাঙালির জাতীয় জীবনের এক আনন্দঘন দিন? একবুক হাহাকার নিয়ে প্রশ্নগুলো ঘুরে বেড়ায় দুয়ারে দুয়ারে। যে দুয়ার আঁটা করোনাভাইরাসের ভয়ে। বাংলা ১৪২৭ সনটির যাত্রা হলো এমন হরিষেবিষাদে! এমন পহেলা বৈশাখ কেউ কি দেখেছে আগে? কোথায় সেই মঙ্গলশোভা যাত্রা? রমনার বটমূলে খাঁ খাঁ রদ্দুর। একচিলতে ছায়া মেঘের মতো সেই রদ্দুর ম্লান করে দিতে চাইছে। পথে পথে নেই ফুল আর মানুষের সম্মিলন। ফুলের দোকানগুলো আজ ফাঁকা পড়ে আছে। দুপুর রোদে এমন বিষণ্ন বৈশাখ ভারি করে তুলছে হৃদয়।

কোভিড-১৯ ভাইরাসের দাপটে কাঁপছে বিশ্ব। মৃত্যুর মিছিলে শঙ্কিত প্রাণ। প্রাণ নেই আজ প্রাণে। এ কেমন বিশ্ব? লোকে বলে, এ মহামারি। মহামৃত্যুর পয়গাম। লড়ছে বিশ্ব। তবুও যেন কাবু হবার নয়। ক্ষণে ক্ষণে আতঙ্কিত করছে কোভিড-১৯ এর রঙ। চিকিৎসা-বিজ্ঞান রাতদিন জেগে আছে প্রতিষেধকের খোঁজে। যতঝড়-ঝঞ্জাই আসুক, পহেলা বৈশাখে ঘরবন্দী রাখা যেতো না কাউকে। প্রাণ থেকে প্রাণে আনন্দ ভাগাভাগিতে মেতে উঠতো বাঙালি মন। প্রস্তুতিও চলতো মাসভরে।

মঙ্গলশোভায় অশুভ হটিয়ে ধরাকে শূচি করার প্রার্থনা হতো সমবেত সুরে। ঢাক-ঢোল আর ঝাঁঝরের তালে। আজ সব প্রকৃতির তুলে দেওয়া দেয়ালের আড়ালে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।

পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বড় অংশ জুড়ে থাকতো রসনাবিলাস। ঘরে ঘরে পান্তা-ইলিশ আর শুকনো মরিচ পোড়া; শুটকি ভর্তা, ডাল ভুনা আর বেগুন ভাজা। সীমিত হলেও এসব আয়োজন হয়তো হয়েছে, কিন্তু রসনাবিলাসের সাথে যে আনন্দ আর সব বার মিশে থাকে, তা নেই। আছে কেবল একাকীত্ব আর নিঃসঙ্গতার সুর।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে মানুষকে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোনো বারণ। কিন্তু কজন মানছেন তা? ভোর না হতেই বাজারে সেই চিরচেনা ভিড়। আগে দিনভর যেটা হতো এখন ভোরেই তা হয়। কারণ চটজলদি কেনাকাটা সেরে ঘরে উঠার তাড়া আছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসমাগমে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। মানুষকে বাঁচতে হলে তা মানতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে জনাকীর্ণতা। বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব। এক্ষেত্রে কেবল ঘরে থাকাই নিরাপদ। এমন বিষাদের নতুন বছরে সবার মনে একটাই প্রার্থনা, ‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা। অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’।