ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি বিএনপি নেতার মৃত্যু, অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার জনগণের বিশ্বাস অর্জনের দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই : আমীর খসরু আটকের পর ডাবলুর মৃত্যু, সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চান বিএনপি মহাসচিব পে স্কেল বাস্তবায়ন পে কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে :অর্থ উপদেষ্টা প্রবাসীদের সুসংবাদ দিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্লট দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনা টিউলিপসহ ১৮ জনের মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় সেনাবাহিনীর হাতে আটকের পর বিএনপি নেতার মৃত্যু ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চিরতরে অবসান হবে : প্রধানমন্ত্রী

File Photo

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশে আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, একুশে আগস্টের হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং মদদদাতাদের সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে দেশ থেকে হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চির অবসান হবে। আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। এই দিনে এটাই আমার প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে এ আহবান জানান।

আগামীকাল একুশে আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় দিন। ২০০৪ সালের এ দিনে তৎকালীন বিরোধিদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপি জামাত জোট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশে বর্বরতম গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, চারিদিকে যখন গ্রেনেড বিস্ফোরিত হচ্ছে, তখন দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীরা মানববর্ম সৃষ্টি করে তাঁকে রক্ষা করেন। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড হামলায় বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মী।

অনেকে আজও পঙ্গুত্বের অভিশাপ বহন করছেন। অনেকে দেহে স্প্লিন্টার নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

তিনি বলেন, এ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, শান্তি ও উন্নয়নের ধারাকে স্তব্ধ করে দেওয়া। বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করে হত্যা, ষড়যন্ত্র, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে চিরস্থায়ী করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করাই ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য ।

শেখ হাসিনা বলেন, এ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচার করা ছিল সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকার তা না করে হত্যাকারীদের রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। হামলাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। অনেক আলামত ধ্বংস করে। তদন্তের নামে এই নৃশংস ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে।

জনগণকে ধোঁকা দিতে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজানোর মতো ঘৃণ্য কাজ করতেও দ্বিধা করেনি তারা জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু সত্য কখনো চাপা থাকে না। পরবর্তীকালে তদন্তে বেরিয়ে আসে বিএনপি-জামাত জোটের অনেক কুশীলব এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোট যখনই ক্ষমতায় থাকে তখনই জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। বিএনপি-জামাতের সকল অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে দেশের উন্নয়নে মনোনিবেশ করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্বমন্দাসহ নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠে আমরা বাংলাদেশকে দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা নিম্ন-মধ্যমআয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। আমরা জাতির পিতা হত্যার বিচার করে রায় কার্যকর করেছি। দেশ-বিদেশের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে কুখ্যাত অনেক যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। গত সাড়ে আটবছরে আমাদের সরকার সকল সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিহত করে দেশে শান্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবে বলে শেখ হাসিনা প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রী একুশ আগস্টের সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন

হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চিরতরে অবসান হবে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:২৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশে আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, একুশে আগস্টের হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং মদদদাতাদের সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে দেশ থেকে হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চির অবসান হবে। আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। এই দিনে এটাই আমার প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে এ আহবান জানান।

আগামীকাল একুশে আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় দিন। ২০০৪ সালের এ দিনে তৎকালীন বিরোধিদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপি জামাত জোট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সমাবেশে বর্বরতম গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, চারিদিকে যখন গ্রেনেড বিস্ফোরিত হচ্ছে, তখন দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীরা মানববর্ম সৃষ্টি করে তাঁকে রক্ষা করেন। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড হামলায় বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মী।

অনেকে আজও পঙ্গুত্বের অভিশাপ বহন করছেন। অনেকে দেহে স্প্লিন্টার নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

তিনি বলেন, এ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, শান্তি ও উন্নয়নের ধারাকে স্তব্ধ করে দেওয়া। বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করে হত্যা, ষড়যন্ত্র, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে চিরস্থায়ী করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করাই ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য ।

শেখ হাসিনা বলেন, এ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচার করা ছিল সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকার তা না করে হত্যাকারীদের রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। হামলাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। অনেক আলামত ধ্বংস করে। তদন্তের নামে এই নৃশংস ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে।

জনগণকে ধোঁকা দিতে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজানোর মতো ঘৃণ্য কাজ করতেও দ্বিধা করেনি তারা জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু সত্য কখনো চাপা থাকে না। পরবর্তীকালে তদন্তে বেরিয়ে আসে বিএনপি-জামাত জোটের অনেক কুশীলব এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোট যখনই ক্ষমতায় থাকে তখনই জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। বিএনপি-জামাতের সকল অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে দেশের উন্নয়নে মনোনিবেশ করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্বমন্দাসহ নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠে আমরা বাংলাদেশকে দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা নিম্ন-মধ্যমআয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। আমরা জাতির পিতা হত্যার বিচার করে রায় কার্যকর করেছি। দেশ-বিদেশের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে কুখ্যাত অনেক যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। গত সাড়ে আটবছরে আমাদের সরকার সকল সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিহত করে দেশে শান্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবে বলে শেখ হাসিনা প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রী একুশ আগস্টের সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।