ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘দুলাভাই’ ‘দুলাভাই’ ধ্বনিতে মুখরিত সিলেটের আলিয়া মাঠ ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত সরকারের বিপুল ভোটে জিতে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে : নাহিদ ইসলাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব টেক্সটাইল মিল বন্ধের ঘোষণা ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে : শফিকুল আলম কারচুপির খেলা খেলার স্পর্ধা যেন কোনো রাজনৈতিক দল না দেখায়: রুমিন ফারহানার হুঁশিয়ারি সবকিছুর মালিক আল্লাহ, কেউ কেউ বেহেস্তের টিকিট’ বিক্রির মাধ্যমে ভোট চাচ্ছে : তারেক রহমান বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল: মির্জা ফখরুল ক্ষমতায় গেলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: তারেক রহমান একটা বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হবে না : আবুল কালাম

দুই দফা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও সাড়া নেই

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় হাবুডুবু খেতে থাকা বেসিক ব্যাংকের হাল ধরতে চাইছে না কেউ। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী পদের জন্য শর্ত শিথিল করে গত দেড় মাস আগে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও কোনো প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যায়নি। চলতি মাসের ১ তারিখ আবার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। তবে এখনো কোনো আবেদন জমা পড়েনি।

ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋণ কেলেংকারি, পর্ষদের অপকর্ম আর প্রভাবশালী পরিচালকদের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নিতে অনীহ দক্ষ ব্যাংকাররা। এরপরও বেশ গুরুত্ব দিয়ে অভিজ্ঞ ব্যাংকারকে এমডির জন্য খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি কাক্সিক্ষত প্রার্থীর।

সূত্র জানায়, এমডি নিয়োগের জন্য সম্প্রতি দুটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তাতে কিছু শর্তেরও পরিবর্তন আনা হয়। তার পরও এই ব্যাংকের জন্য একজন দক্ষ ও যোগ্য এমডি পাওয়া যাবে কি না, সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

এর আগে বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আউয়াল খান যোগদানের ১০ মাসের মাথায় গত ১৪ আগস্ট ব্যাংকের ৪৪৪তম সভায় পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন।

ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা জানান, নানা অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত বেসিক ব্যাংকে নতুন করে শুরু হয়েছে ঋণ অনুমোদন এবং ঋণ পুনঃতফসিলের লবিং। এ নিয়ে পর্ষদ সদস্যদের সঙ্গে এমডির মতপার্থক্য চলছিল। ব্যাংক পর্ষদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত এমডি পদ থেকে সরে যান আউয়াল খান। গত ১৪ আগস্ট ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এরপর ৩০ আগস্ট ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ সভায় আউয়াল খান পদত্যাগ করলেও আগামী তিন মাস অফিস করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। ফলে পদত্যাগের পরও বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগের জন্য আমরা একজন ভালো ও দক্ষ লোককে পেতে চাইছি। কিন্তু অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, এই পদে কোনো যোগ্য লোক আবেদনই করছে না। তবু আমরা চেষ্টা করছি ভালো লোক পেতে। এ জন্য এমডি পদের যোগ্যতাও শিথিল করা হয়েছে।’

পত্রিকায় ছাপানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রমালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক অথবা লিয়েনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা যাচ্ছে। এই পদে আবেদনকারীর ব্যাংকিং পেশায় সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের কর্ম-অভিজ্ঞতা এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী অব্যবহিত পূর্ববর্তী পদে অথবা প্রধান নির্বাহী পদে অথবা উভয় পদে কমপক্ষে এক বছরের কর্ম অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স কিংবা ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সময়সীমা হবে তিন বছর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারি মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক ২০০৯ সাল পর্যন্ত একটি লাভজনক ব্যাংক ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ব্যাংকটির আর্থিক অনিয়মের সূত্রপাত ঘটে।
চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যক্ষ মদদে বেসিক ব্যাংকে একে একে ঘটে অনেক আর্থিক কেলেংকারি। এর মধ্য দিয়ে আত্মসাৎ করা হয় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললে চলে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দুলাভাই’ ‘দুলাভাই’ ধ্বনিতে মুখরিত সিলেটের আলিয়া মাঠ

দুই দফা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও সাড়া নেই

আপডেট সময় ১২:০৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় হাবুডুবু খেতে থাকা বেসিক ব্যাংকের হাল ধরতে চাইছে না কেউ। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহী পদের জন্য শর্ত শিথিল করে গত দেড় মাস আগে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও কোনো প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যায়নি। চলতি মাসের ১ তারিখ আবার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। তবে এখনো কোনো আবেদন জমা পড়েনি।

ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋণ কেলেংকারি, পর্ষদের অপকর্ম আর প্রভাবশালী পরিচালকদের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব নিতে অনীহ দক্ষ ব্যাংকাররা। এরপরও বেশ গুরুত্ব দিয়ে অভিজ্ঞ ব্যাংকারকে এমডির জন্য খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি কাক্সিক্ষত প্রার্থীর।

সূত্র জানায়, এমডি নিয়োগের জন্য সম্প্রতি দুটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তাতে কিছু শর্তেরও পরিবর্তন আনা হয়। তার পরও এই ব্যাংকের জন্য একজন দক্ষ ও যোগ্য এমডি পাওয়া যাবে কি না, সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

এর আগে বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আউয়াল খান যোগদানের ১০ মাসের মাথায় গত ১৪ আগস্ট ব্যাংকের ৪৪৪তম সভায় পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন।

ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা জানান, নানা অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত বেসিক ব্যাংকে নতুন করে শুরু হয়েছে ঋণ অনুমোদন এবং ঋণ পুনঃতফসিলের লবিং। এ নিয়ে পর্ষদ সদস্যদের সঙ্গে এমডির মতপার্থক্য চলছিল। ব্যাংক পর্ষদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত এমডি পদ থেকে সরে যান আউয়াল খান। গত ১৪ আগস্ট ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এরপর ৩০ আগস্ট ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ সভায় আউয়াল খান পদত্যাগ করলেও আগামী তিন মাস অফিস করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। ফলে পদত্যাগের পরও বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগের জন্য আমরা একজন ভালো ও দক্ষ লোককে পেতে চাইছি। কিন্তু অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, এই পদে কোনো যোগ্য লোক আবেদনই করছে না। তবু আমরা চেষ্টা করছি ভালো লোক পেতে। এ জন্য এমডি পদের যোগ্যতাও শিথিল করা হয়েছে।’

পত্রিকায় ছাপানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রমালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক অথবা লিয়েনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা যাচ্ছে। এই পদে আবেদনকারীর ব্যাংকিং পেশায় সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের কর্ম-অভিজ্ঞতা এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী অব্যবহিত পূর্ববর্তী পদে অথবা প্রধান নির্বাহী পদে অথবা উভয় পদে কমপক্ষে এক বছরের কর্ম অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, প্রার্থীকে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স কিংবা ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সময়সীমা হবে তিন বছর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারি মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক ২০০৯ সাল পর্যন্ত একটি লাভজনক ব্যাংক ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই ব্যাংকটির আর্থিক অনিয়মের সূত্রপাত ঘটে।
চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যক্ষ মদদে বেসিক ব্যাংকে একে একে ঘটে অনেক আর্থিক কেলেংকারি। এর মধ্য দিয়ে আত্মসাৎ করা হয় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললে চলে।