ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটে জাপার অবস্থান নির্ভর করছে বিএনপির ওপর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অবস্থান কী হবে সেটা অনেকটা নির্ভর করছে বিএনপির ওপর। ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এবারও ভোট বর্জন করলে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করবে। আর বিএনপি নির্বাচনে এলে বর্তমান সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি মহাজোটের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন করবে। তবে প্রাথমিকভাবে ৩০০ আসনেই ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় প্রধান।

রবিবার জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিদের এক যৌথ সভায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে। অনেক নাটকীয়তার পর সহিংস সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি শেষ পর্যন্ত অংশ নেয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ৩০টির বেশি আসনে বিজয়ী হয় জাতীয় পার্টি।

এতে তারা সংসদে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পায় জাতীয় পার্টি। তবে মন্ত্রিসভায়ও আছে তাদের দুইজন সদস্য। এছাড়া দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে করা হয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। জাতীয় পার্টি সরকারে নাকি বিরোধী দলে এটা নিয়ে আছে ধূম্রজাল। তবে গত পাঁচ বছর সরকারি দলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তারাও ক্ষমতার ভাগ পেয়ে আসছে।

বনানী কার্যালয়ে দলের যৌথসভা শেষে এরশাদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি আসুক বা না আসুক আমরা তিনশ আসনে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। জোটগত নির্বাচনের প্রস্তুতিও আছে আমাদের। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও আমরা নির্বাচন করব।

বৈঠকে উপস্থিত নেতারা পার্টির চেয়ারম্যানকে দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার একক ক্ষমতা দেন এরশাদকে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলের নেতা রওশন এরশাদ এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগত নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া আসনে যেন নৌকার কোনো ডামি বা বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকে সে ব্যাপারে দলটি থেকে নিশ্চয়তা নেয়ার দাবি করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এরশাদ দলীয় নেতাদের বলেন, আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রাখতে হবে। বিএনপি কী করছে, কী কর্মসূচি দিচ্ছে সে দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। আগামী নির্বাচনে যেভাবেই হোক আমাদের ভালো ফলাফল আনতে হবে।

সভায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু সম্প্রতি মিডিয়ায় রওশন ও এরশাদের দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গ তোলেন। বলেন, এ দ্বন্দ্ব থাকলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই প্রসঙ্গে রওশন এরশাদ বলেন, আমাদের মাঝে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, তাছাড়া আমি নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আলাদা কোনো তালিকাও দিইনি।

বৈঠকে আগামী ২০ তারিখের মহাসমাবেশের অর্থ যোগান দিতে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যদের এক লাখ এবং দলীয় সংসদ সদস্যদের পাঁচ লাখ টাকা করে দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, জাতীয় পার্টি আগামী জাতীয় নির্বাচন মহাজোট না এককভাবে করবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির গতি-প্রকৃতি দেখে। আমরাও চাই নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ।

পাশাপাশি একক নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার কথাও জানান দলটির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। আর সেই লক্ষ্যে আগামী ২০ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন তিনি।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুহুল আমিন বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে ৩০০ আসনে নির্বাচন করবে তার দল। আর বিএনপি নির্বাচনে এলে আবার মহাজোট থেকে নির্বাচন করবে জাতীয় পার্টি।

এরশাদের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে ড. কামাল হোসেনের বৈঠক হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হাওলাদার বলেন, কামাল হোসন সিঙ্গাপুর যাননি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

যৌথসভায় উপস্থিত ছিলেন পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ এমপি, কো- চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, দিলারা খন্দকার প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের এনজিও ঋণ শোধের দায়িত্ব নেবে সরকার: মির্জা ফখরুল

ভোটে জাপার অবস্থান নির্ভর করছে বিএনপির ওপর

আপডেট সময় ০৮:২১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অবস্থান কী হবে সেটা অনেকটা নির্ভর করছে বিএনপির ওপর। ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এবারও ভোট বর্জন করলে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করবে। আর বিএনপি নির্বাচনে এলে বর্তমান সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি মহাজোটের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন করবে। তবে প্রাথমিকভাবে ৩০০ আসনেই ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় প্রধান।

রবিবার জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিদের এক যৌথ সভায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে। অনেক নাটকীয়তার পর সহিংস সেই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি শেষ পর্যন্ত অংশ নেয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ৩০টির বেশি আসনে বিজয়ী হয় জাতীয় পার্টি।

এতে তারা সংসদে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পায় জাতীয় পার্টি। তবে মন্ত্রিসভায়ও আছে তাদের দুইজন সদস্য। এছাড়া দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে করা হয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। জাতীয় পার্টি সরকারে নাকি বিরোধী দলে এটা নিয়ে আছে ধূম্রজাল। তবে গত পাঁচ বছর সরকারি দলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তারাও ক্ষমতার ভাগ পেয়ে আসছে।

বনানী কার্যালয়ে দলের যৌথসভা শেষে এরশাদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি আসুক বা না আসুক আমরা তিনশ আসনে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। জোটগত নির্বাচনের প্রস্তুতিও আছে আমাদের। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও আমরা নির্বাচন করব।

বৈঠকে উপস্থিত নেতারা পার্টির চেয়ারম্যানকে দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার একক ক্ষমতা দেন এরশাদকে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলের নেতা রওশন এরশাদ এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগত নির্বাচনের ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া আসনে যেন নৌকার কোনো ডামি বা বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকে সে ব্যাপারে দলটি থেকে নিশ্চয়তা নেয়ার দাবি করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এরশাদ দলীয় নেতাদের বলেন, আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রাখতে হবে। বিএনপি কী করছে, কী কর্মসূচি দিচ্ছে সে দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। আগামী নির্বাচনে যেভাবেই হোক আমাদের ভালো ফলাফল আনতে হবে।

সভায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু সম্প্রতি মিডিয়ায় রওশন ও এরশাদের দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গ তোলেন। বলেন, এ দ্বন্দ্ব থাকলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই প্রসঙ্গে রওশন এরশাদ বলেন, আমাদের মাঝে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, তাছাড়া আমি নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আলাদা কোনো তালিকাও দিইনি।

বৈঠকে আগামী ২০ তারিখের মহাসমাবেশের অর্থ যোগান দিতে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যদের এক লাখ এবং দলীয় সংসদ সদস্যদের পাঁচ লাখ টাকা করে দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, জাতীয় পার্টি আগামী জাতীয় নির্বাচন মহাজোট না এককভাবে করবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির গতি-প্রকৃতি দেখে। আমরাও চাই নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ।

পাশাপাশি একক নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার কথাও জানান দলটির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। আর সেই লক্ষ্যে আগামী ২০ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন তিনি।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুহুল আমিন বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে ৩০০ আসনে নির্বাচন করবে তার দল। আর বিএনপি নির্বাচনে এলে আবার মহাজোট থেকে নির্বাচন করবে জাতীয় পার্টি।

এরশাদের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে ড. কামাল হোসেনের বৈঠক হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হাওলাদার বলেন, কামাল হোসন সিঙ্গাপুর যাননি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

যৌথসভায় উপস্থিত ছিলেন পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ এমপি, কো- চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, দিলারা খন্দকার প্রমুখ।