অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
অবশেষে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। নানা ঘাটের পানি ঘোলা করে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি হতে রাজি হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএনপি নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এখন কোন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আপনাদের নেত্রী?
শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দলীয় প্রচারপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি একটি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। ৭ এপ্রিল একবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে তার রোগ পরীক্ষা করা হয়। এরপর জুলাইয়ে আরও এক দফা তাকে এখানে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সে সময় খালেদা জিয়া জানান, তার দাবি অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও তিনি যাবেন না। এমনকি সরকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তাব করলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন। পরে সেপ্টেম্বরে বিএনপি ইউনাইটেড না হলে অ্যাপোলোতে তাদের নেত্রীকে ভর্তির সুযোগ দেয়ার দাবি জানায়। কিন্তু সরকার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির অনুমতি দেয়নি।
বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন চেয়ে একটি রিট আবেদনের পর গত ৪ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত ৪ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তির নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী শনিবার সকাল থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু করে। বিকাল তিনটার পর বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে তাকে ভর্তি করা হয়।
এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাকে (খালেদা) কেন্দ্র করে হাসপাতাল অঙ্গনটি যেন রাজনীতির ময়দানে পরিণত না হয়। আমরা আগেই বলেছি, এটি একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল। খালেদা জিয়ার কারণে যেন হাসপাতালে থাকা অন্য রোগীদের অসুবিধা না হয়।’
কাদের বলেন, ‘বিএনপি বেগম জিয়ার চিকিৎসাকে ইস্যু করে রাজনীতি করেছে। এটা করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।’ দেরিতে হলেও বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তি হতে রাজি হওয়ায় খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
‘সবখানে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার’
প্রচারপত্র বিতরণকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নৌকার পক্ষের গণজোয়ার দেখেছি উত্তরবঙ্গে। লক্ষ লক্ষ মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ফেনীতে গণজোয়ার। বিএনপির ঘাঁটি চকরিয়াতেও আওয়ামী লীগের গণজোয়ার দেখেছি।’
‘যেখানে যাচ্ছি, সেখানে হাজার হাজার মানুষের ঢল। সকালে রাজধানীর চকবাজারেও নৌকার নৌকা স্লোগানে মুখরিত। আজকে মোহাম্মদপুরেও জনতার ঢল। আপনারা উল্লসিত কিন্তু আমি উল্লসিত নই।’
নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। মানুষ ক্ষমতার দাপটকে দেখতে পারে না। বারোটার আগে ভোট শেষ এই ধরনের কথা বলবেন না। ভোট শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকতে হবে। যতক্ষণ ভোট চলবে, ততক্ষণ কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে। ৯১ সালের কথা ভুলে যাবেন না।’
‘এক মাসের মধ্যে দেশের চেহারা বদলে যাবে’ বিএনপির নেতা মওদুদ আহমদের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মওদুদ সাহেব একজন বহুরূপী। কোন ঐশী বাণী থেকে তিনি এটা পেয়েছেন? মওদুদ আহমদের কি একমাস শেষ হয়নি? আপনার দেখেন এক মাসে দেশের চেহারা নাকি বিএনপি চেহারা পরিবর্তন হয়।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সভাপতিত্বে প্রচারপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 










