ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাতানো নির্বাচনের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই, অধিকার আদায়ে জনগণ জীবন দিতে প্রস্তুত: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন সেনাপ্রধান ছাত্র-ছাত্রীদের ফ্রি ওয়াইফাই সেবা পৌঁছে দিবেন তারেক রহমান: আব্দুস সালাম আমিও আ.লীগের দায়িত্ব নিয়ে নিলাম: নুর ব্যবহৃত মোবাইল কেনাবেচায় নতুন নিয়ম, সতর্ক করল বিটিআরসি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে অর্থ বরাদ্দে সরকার কার্পণ্য করছে না : অর্থ উপদেষ্টা ‘জনগণ জানে চুলার মুখ দিয়ে কখনো স্বর্ণ বের হয় না আর স্বর্ণের খনি থেকে কখনো ছাই বের হয় না: মির্জা আব্বাস সারা দেশে ১৩৭টি উইকেট বানানোর পরিকল্পনা বিসিবির দোয়া করবেন যেন সংসদে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বাংলাদেশ এক ধরনের ক্রান্তিলগ্নে রয়েছে : আলী রীয়াজ

হাসপাতাল মুখ্য নয়, সুচিকিৎসা চাই: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিশেষায়িত হাসপাতাল ইউনাইটেডে চিকিৎসা নেয়ার বিষয়ে শুরু থেকে অনড় অবস্থানে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দলটির নেতারাও বলছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেলে নয়, ইউনাইটেড হাসপাতালেই তাদের দলীয় চেয়ারপারসনের চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলেই চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে খালেদা জিয়াকে।

খালেদাকে হাসপাতালে আনার খবরে সেখানে ছুটে যান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, ‘কোন হাসপাতালে চিকিৎসা হচ্ছে সেটা নিয়ে ভাবছি না, আমরা তার সুচিকিৎসা চাই।’

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার বিষয়ে আশাবাদী কি না- এমন প্রশ্নে ফখরুর সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু আদালত বলেছে চেয়ারপারসনের পছন্দ অনুযায়ী তার জন্য নতুন মেডিকেল বোর্ডে তিনজন পছন্দের চিকিৎসক থাকবেন সেহেতু আমরা সুচিকিৎসা নিয়ে আশাবাদী।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমরা দলীয় চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসা চাই। তিনিও আদালতের নির্দেশে খালেদা জিয়া তার পছন্দের চিকিৎসক পাবেন বলে আশা করেন তিনিও।

তবে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের মহাসচিব ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন, আদালত নির্দেশ দিয়েছিলে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য নতুন মেডিকেল বোর্ডে ড্যাব ও স্বাচিবের (সরকার দলীয় চিকিৎসকদের সংগঠন) কোনো সদস্য থাকতে পারবেন না। খালেদা জিয়ার মতামত নিয়ে তার পছন্দের তিনজন চিকিৎসক বোর্ডে রাখতে হবে। কিন্তু এখানে সেটা করা হয়নি।

জাহিদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়েছে সাড়ে তিনটার দিকে। কিন্তু বোর্ড গঠন করা হয়েছে তার আগেই। তাহলে তার মতামত নেয়া হলো কখন?

এই চিকিৎসকের অভিযোগ করে বলেন, নতুন বোর্ডের সদস্য সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি ও নুকুল কুমার দত্ত স্বাচিবের সদস্য। তিনি মনে করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেগম খালেদা জিয়ার মতামত না নিয়ে তাড়াহুড়া করে বোর্ড গঠন করেছে। এটা না করলে ভালো হতো। তবে তিনিও খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা চান।

আদালতের নির্দেশে শনিবার নতুন গঠিত বোর্ডের সদস্যরা হলেন, কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি, রিউমেটলজি বিভাগের সৈয়দ আতিকুল হক, অর্থোপেডিক বিভাগের নুকুল কুমার দত্ত, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের বদরুন্নেছা এবং ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের আব্দুল জলিল চৌধুরী।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড হওয়ার পর বিএনপি নেত্রীকে কারাগারে নেয়া হয়। আর মার্চের শেষে তার অসুস্থতার কথা শোনা যায়। ৭ এপ্রিল একবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে রোগ পরীক্ষা করা হয়। এরপর জুলাইয়ে আরও এক দফা তাকে এখানে আনার চেষ্টা করা হয়।

কিন্তু সে সময় খালেদা জিয়া জানান, তার দাবি অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও তিনি যাবেন না। এমনকি সরকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তাব করলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন। পরে সেপ্টেম্বরে বিএনপি ইউনাইটেড না হলে অ্যাপোলোতে তাদের নেত্রীকে ভর্তির সুযোগ দেয়ার দাবি জানায়। কিন্তু সরকার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির অনুমতি দেয়নি।

বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন চেয়ে একটি রিট আবেদনের পর গত ৪ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত ৪ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তির নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী আজ সকাল থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হান্নান মাসউদের স্ত্রীকে স্বর্ণের আংটি উপহার দিলেন বৃদ্ধা

হাসপাতাল মুখ্য নয়, সুচিকিৎসা চাই: ফখরুল

আপডেট সময় ০৭:১৪:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিশেষায়িত হাসপাতাল ইউনাইটেডে চিকিৎসা নেয়ার বিষয়ে শুরু থেকে অনড় অবস্থানে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দলটির নেতারাও বলছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেলে নয়, ইউনাইটেড হাসপাতালেই তাদের দলীয় চেয়ারপারসনের চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলেই চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে খালেদা জিয়াকে।

খালেদাকে হাসপাতালে আনার খবরে সেখানে ছুটে যান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, ‘কোন হাসপাতালে চিকিৎসা হচ্ছে সেটা নিয়ে ভাবছি না, আমরা তার সুচিকিৎসা চাই।’

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার বিষয়ে আশাবাদী কি না- এমন প্রশ্নে ফখরুর সাংবাদিকদের বলেন, যেহেতু আদালত বলেছে চেয়ারপারসনের পছন্দ অনুযায়ী তার জন্য নতুন মেডিকেল বোর্ডে তিনজন পছন্দের চিকিৎসক থাকবেন সেহেতু আমরা সুচিকিৎসা নিয়ে আশাবাদী।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, আমরা দলীয় চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসা চাই। তিনিও আদালতের নির্দেশে খালেদা জিয়া তার পছন্দের চিকিৎসক পাবেন বলে আশা করেন তিনিও।

তবে বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের মহাসচিব ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন অভিযোগ করে বলেছেন, আদালত নির্দেশ দিয়েছিলে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য নতুন মেডিকেল বোর্ডে ড্যাব ও স্বাচিবের (সরকার দলীয় চিকিৎসকদের সংগঠন) কোনো সদস্য থাকতে পারবেন না। খালেদা জিয়ার মতামত নিয়ে তার পছন্দের তিনজন চিকিৎসক বোর্ডে রাখতে হবে। কিন্তু এখানে সেটা করা হয়নি।

জাহিদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়েছে সাড়ে তিনটার দিকে। কিন্তু বোর্ড গঠন করা হয়েছে তার আগেই। তাহলে তার মতামত নেয়া হলো কখন?

এই চিকিৎসকের অভিযোগ করে বলেন, নতুন বোর্ডের সদস্য সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি ও নুকুল কুমার দত্ত স্বাচিবের সদস্য। তিনি মনে করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেগম খালেদা জিয়ার মতামত না নিয়ে তাড়াহুড়া করে বোর্ড গঠন করেছে। এটা না করলে ভালো হতো। তবে তিনিও খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা চান।

আদালতের নির্দেশে শনিবার নতুন গঠিত বোর্ডের সদস্যরা হলেন, কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি, রিউমেটলজি বিভাগের সৈয়দ আতিকুল হক, অর্থোপেডিক বিভাগের নুকুল কুমার দত্ত, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের বদরুন্নেছা এবং ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের আব্দুল জলিল চৌধুরী।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ড হওয়ার পর বিএনপি নেত্রীকে কারাগারে নেয়া হয়। আর মার্চের শেষে তার অসুস্থতার কথা শোনা যায়। ৭ এপ্রিল একবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে রোগ পরীক্ষা করা হয়। এরপর জুলাইয়ে আরও এক দফা তাকে এখানে আনার চেষ্টা করা হয়।

কিন্তু সে সময় খালেদা জিয়া জানান, তার দাবি অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও তিনি যাবেন না। এমনকি সরকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তাব করলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন। পরে সেপ্টেম্বরে বিএনপি ইউনাইটেড না হলে অ্যাপোলোতে তাদের নেত্রীকে ভর্তির সুযোগ দেয়ার দাবি জানায়। কিন্তু সরকার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির অনুমতি দেয়নি।

বিএনপি নেত্রীর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন চেয়ে একটি রিট আবেদনের পর গত ৪ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত ৪ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে ভর্তির নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী আজ সকাল থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু করে।