ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এ নির্বাচন তাদের লড়াইয়ের ফসল যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে:নাহিদ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে: সালাহউদ্দিন ভুটানকে ১২ গোলে উড়িয়ে সাফে দারুণ শুরু বাংলাদেশের ভোলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ২৭ তিন মাসের মাথায় ফের ‘শাটডাউনে’ মার্কিন সরকার মাঠে থাকুন, মানুষের পাশে দাঁড়ান: নেতাকর্মীদের তারেক রহমান বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফ্রি ইন্টারনেট পাবে সবাই: মাহদী আমিন ‘আমরা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না’:জামায়াত আমীর শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর দেশে পৌঁছেছে এক লাখ ৪০ হাজার প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট

‘জাতীয় ঐক্যে’ ভয় পাচ্ছেন কি না, প্রশ্ন শুনে প্রধানমন্ত্রীর অট্টহাসি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি সরকারবিরোধী যে জোট গঠন করতে চাইছে, তা নিয়ে ভয় পাচ্ছেন কি না- বিদেশ থেকে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাব প্রধানমন্ত্রী দিলেন অট্টহাসি দিয়ে।

বুধবার গণভবনে করা সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন এর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জ ই মামুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি নিজের জোটের আকার বাড়াতে চান কি না। বলেন, ‘ভয় পাচ্ছেন কি না’

হা, হা, হা করে হেসে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা জোট হচ্ছে, আমি খুব খুশি। তাদের জোট করার জন্য যা যা সহযোগিতা লাগবে, আমি তাও করতে রাজি। কারণ, আমি জানি বাংলাদেশের ভোট দুই ধরনের। একটা আওয়ামী লীগ, একটা এন্টি আওয়ামী লীগ। এন্টি আওয়ামী লীগ ভোট তো কোথাও যেতে হবে।’

‘জোট হচ্ছে, সেটা বড় হচ্ছে, সেখানে কিন্তু বড় বড় মানুষও আছে। আমার কথা হচ্ছে, শত ফুল ফুটতে দেন। এটা নির্বাচনের জন্য ভালো। শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে আসবেন কি না, বা নির্বাচন করতে পারবেন কি না বা সে সাহস তাদের আছে কি না, সেটাও একটা প্রশ্ন। কিন্তু জোট যখন হচ্ছে আমি তাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি।’

বিএনপি তার ২০ দলীয় জোটের বাইরে কামাল হোসেনের গণফোরাম আর তিন সংগঠনের মোর্চা যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী যাকে তারা বলছে জাতীয় ঐক্য। বিএনপির আশা, এই ঐক্য হলে তারা রাজনীতিতে চাপ কাটিয়ে উঠে আওয়ামী লীগকে পরাভূত করতে পারবে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ বিএনপি এবং যুক্তফ্রন্টের নেতারা অংশ নেন। একে এই জোট গঠনের প্রারম্ভিক সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। আর ওই সমাবেশে ১ অক্টোবর থেকে তিন পক্ষ এক সঙ্গে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও পরে তা হয়নি।

আর ২২ সেপ্টেম্বরের সমাবেশ জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া প্রথমে করতে চেয়েছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। কিন্তু পরে তারা সেটা করে গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘আমি বলে দিয়েছি (পুলিশকে), সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটা কর্নারই বানিয়ে দেন, খালি মেইনটেনেন্সের জন্য একটা ভাড়া নেবেন। কারণ, এত নোংরা করে রেখে যায় যে এটা পরিস্কার করাটা কঠিন হয়ে যায়।’

‘যে যত খুশি বক্তৃতা দিক, আর মিটিং করুক আপত্তি নাই। বরং আরও দুই একটা জায়গা পাওয়া যায় কি না, মাঠ পাওয়া এখন মুশকিল। রাস্তা আটকাতে পারবে না, রাস্তা আটকালে মানুষের কষ্ট হয়। কাজেই মাঠ দিয়েছি।…তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেব কেন?’।

কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নেক্সটবার তারা (সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) করুক, মানুষও যদি তারা চায়, আমরা সে ব্যবস্থাও করতে পারব। তারা যাক, একটু দেখে আসুক। প্রক্রিয়াটা চলতে থাক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ভয়ের কিছু নেই। ভয় থাকে তার যার হারাবার কিছু থাকে। আমার তো হারাবার কিছু নেই। আমার বাপ-মা সব হারিয়েছি, দুটো বোন আছি, ছেলে মেয়ে যারা আছে তারা তো মানুষের জন্যই কাজ করছে, দেশের জন্য কাজ করছে। প্রত্যেকেই কিন্তু একটা না একটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত।’

নিজের জোটের কলেবর বৃদ্ধির পরিকল্পনা আছে কি না- এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জোট যা আছে, আছে, আমরা যেভাবেই আছে। আর যদি কেউ আমাদের সাথে আসতে চায়, আমরা দেখব। আমাদের খুব বেশি কলেবর বৃদ্ধির দরকার নেই। কারণ, দেখবেন বিশাল, বিশাল জোট হচ্ছে। যত বড় জোট হয় হোক, সে সুযোগটা আমরা দিচ্ছি।’

‘ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা কখনও ছিল না’

ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা কখনও ছিল না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যযন্ত যে উন্নয়ন করেছিলাম, বিএনপি-জামায়াত এসে সেটা নষ্ট করেছে। একবার একটানা যদি উন্নয়নটা করতে পারি, অন্তত উন্নয়নগুলো দৃশ্যমান হবে, মানুষ তার সুফলটা পাবে। দুই টার্ম হয়ে গেছে। এখন আমার কাছে ক্ষমতা থাকে লক্ষ্মী, যায় ভালাই, এখন আমার কোনো চিন্তা নাই।’

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা আইআরআই এর জরিপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘৬৬ ভাগ মানুষ অত্যন্ত সন্তুষ্ট। আরেক গ্রুপ বলছে মোটামুটি সন্তুষ্ট। … মানুষের মনে এখন আস্থা ফিরে এসেছে, বিশ্বাস ফিরে এসেছে। মানুষ এখন আরো কীভাবে উন্নত জীবন গড়বে, তার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।’

ডিজিটাল বাংলাদেশ তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানসহ সবক্ষেত্রে ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব ধরণের শিক্ষা গবেষণার ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। তরুণ সমাজের সুস্দর ভবিষ্যৎ গড়ে দেবার জন্য কাজ করছি। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।…এরপরেও পত্রিকা খুললেই নানা নেতিবাচক খবর।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক সেটাই তো মানুষ চায়। আর নৌকায় ভোট দিলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। নৌকা ছাড়া কেউ উন্নয়ন করবে না, এটা আমি বলতে পারি।’

‘খালেদা-তারেকের বিরুদ্ধে আরও সাক্ষী আসছে’

বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতি, বিদেশিদের বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে কমিশন খাওয়াসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘অনেকে তো অপেক্ষা করে আছে সাক্ষী দেয়ার জন্য। এফবিআইএর লোক রেডি, নাইকো, গেটকো, প্রত্যেকটা ইসে তারা তারা সাক্ষী দেবে কীভাবে তারা অর্থ খেয়েছে, খালেদা জিয়া, তার ছেলে, তার দলের মন্ত্রীরা।’

বিএনপি কী দেশ চালাবে-এই প্রশ্ন করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এতিমের সম্পদের লোভ যারা সামলাতে পারে না, তারা কী দেশ চালাবে বলেন, কী চালিয়েছে? ২১ বছর পরে তো আওয়ামী লীগ এসেছে। তার পরের সাত বছরের অভিজ্ঞতা কীভাবে ভুলে যান? কী অবস্থায় ছিলেন?’

‘সবারই তো এখন মায়াকান্না, যার কেবিনেটের মিনিস্টার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত।’

‘শয়তানের সঙ্গ যারা চায় তারা কারা?’

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে শয়তানের সঙ্গে ঐক্যের বিষয়ে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মন্তব্য নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান জানতে চান, ‘আপনার রাজনীতি এই শয়তানকে কীভাবে মোকাবেলা করবে, এই শয়তানটা কারা?

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি না, শয়তানের সাথে এটা কে বলেছেন। তবে যারা শয়তানের সান্নিধ্য চায়, বা শয়তানের সহযোগিতা চায়, তারা নিজেরা কি সেটা তো আপনারা নিজেরাই জানেন। আমার তো আর কিছু বলা লাগে না এ থেকেই তো মন মানসিকতাটা বুঝে গেছেন।’

‘যারা শয়তানের সাথে হাত মেলাবে, তাদের সমর্থন দিতে দেশবাসী তৈরি কি না, সেটাও আমার প্রশ্ন। নিশ্চয় দেশের মানুষ শয়তান চায় না, এটা আমার বিশ্বাস।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ নির্বাচন তাদের লড়াইয়ের ফসল যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে:নাহিদ

‘জাতীয় ঐক্যে’ ভয় পাচ্ছেন কি না, প্রশ্ন শুনে প্রধানমন্ত্রীর অট্টহাসি

আপডেট সময় ০৮:০২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি সরকারবিরোধী যে জোট গঠন করতে চাইছে, তা নিয়ে ভয় পাচ্ছেন কি না- বিদেশ থেকে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাব প্রধানমন্ত্রী দিলেন অট্টহাসি দিয়ে।

বুধবার গণভবনে করা সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন এর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জ ই মামুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি নিজের জোটের আকার বাড়াতে চান কি না। বলেন, ‘ভয় পাচ্ছেন কি না’

হা, হা, হা করে হেসে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা জোট হচ্ছে, আমি খুব খুশি। তাদের জোট করার জন্য যা যা সহযোগিতা লাগবে, আমি তাও করতে রাজি। কারণ, আমি জানি বাংলাদেশের ভোট দুই ধরনের। একটা আওয়ামী লীগ, একটা এন্টি আওয়ামী লীগ। এন্টি আওয়ামী লীগ ভোট তো কোথাও যেতে হবে।’

‘জোট হচ্ছে, সেটা বড় হচ্ছে, সেখানে কিন্তু বড় বড় মানুষও আছে। আমার কথা হচ্ছে, শত ফুল ফুটতে দেন। এটা নির্বাচনের জন্য ভালো। শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে আসবেন কি না, বা নির্বাচন করতে পারবেন কি না বা সে সাহস তাদের আছে কি না, সেটাও একটা প্রশ্ন। কিন্তু জোট যখন হচ্ছে আমি তাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি।’

বিএনপি তার ২০ দলীয় জোটের বাইরে কামাল হোসেনের গণফোরাম আর তিন সংগঠনের মোর্চা যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী যাকে তারা বলছে জাতীয় ঐক্য। বিএনপির আশা, এই ঐক্য হলে তারা রাজনীতিতে চাপ কাটিয়ে উঠে আওয়ামী লীগকে পরাভূত করতে পারবে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ বিএনপি এবং যুক্তফ্রন্টের নেতারা অংশ নেন। একে এই জোট গঠনের প্রারম্ভিক সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। আর ওই সমাবেশে ১ অক্টোবর থেকে তিন পক্ষ এক সঙ্গে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও পরে তা হয়নি।

আর ২২ সেপ্টেম্বরের সমাবেশ জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া প্রথমে করতে চেয়েছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। কিন্তু পরে তারা সেটা করে গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘আমি বলে দিয়েছি (পুলিশকে), সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটা কর্নারই বানিয়ে দেন, খালি মেইনটেনেন্সের জন্য একটা ভাড়া নেবেন। কারণ, এত নোংরা করে রেখে যায় যে এটা পরিস্কার করাটা কঠিন হয়ে যায়।’

‘যে যত খুশি বক্তৃতা দিক, আর মিটিং করুক আপত্তি নাই। বরং আরও দুই একটা জায়গা পাওয়া যায় কি না, মাঠ পাওয়া এখন মুশকিল। রাস্তা আটকাতে পারবে না, রাস্তা আটকালে মানুষের কষ্ট হয়। কাজেই মাঠ দিয়েছি।…তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেব কেন?’।

কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নেক্সটবার তারা (সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) করুক, মানুষও যদি তারা চায়, আমরা সে ব্যবস্থাও করতে পারব। তারা যাক, একটু দেখে আসুক। প্রক্রিয়াটা চলতে থাক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ভয়ের কিছু নেই। ভয় থাকে তার যার হারাবার কিছু থাকে। আমার তো হারাবার কিছু নেই। আমার বাপ-মা সব হারিয়েছি, দুটো বোন আছি, ছেলে মেয়ে যারা আছে তারা তো মানুষের জন্যই কাজ করছে, দেশের জন্য কাজ করছে। প্রত্যেকেই কিন্তু একটা না একটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত।’

নিজের জোটের কলেবর বৃদ্ধির পরিকল্পনা আছে কি না- এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জোট যা আছে, আছে, আমরা যেভাবেই আছে। আর যদি কেউ আমাদের সাথে আসতে চায়, আমরা দেখব। আমাদের খুব বেশি কলেবর বৃদ্ধির দরকার নেই। কারণ, দেখবেন বিশাল, বিশাল জোট হচ্ছে। যত বড় জোট হয় হোক, সে সুযোগটা আমরা দিচ্ছি।’

‘ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা কখনও ছিল না’

ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা কখনও ছিল না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যযন্ত যে উন্নয়ন করেছিলাম, বিএনপি-জামায়াত এসে সেটা নষ্ট করেছে। একবার একটানা যদি উন্নয়নটা করতে পারি, অন্তত উন্নয়নগুলো দৃশ্যমান হবে, মানুষ তার সুফলটা পাবে। দুই টার্ম হয়ে গেছে। এখন আমার কাছে ক্ষমতা থাকে লক্ষ্মী, যায় ভালাই, এখন আমার কোনো চিন্তা নাই।’

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা আইআরআই এর জরিপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘৬৬ ভাগ মানুষ অত্যন্ত সন্তুষ্ট। আরেক গ্রুপ বলছে মোটামুটি সন্তুষ্ট। … মানুষের মনে এখন আস্থা ফিরে এসেছে, বিশ্বাস ফিরে এসেছে। মানুষ এখন আরো কীভাবে উন্নত জীবন গড়বে, তার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।’

ডিজিটাল বাংলাদেশ তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানসহ সবক্ষেত্রে ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব ধরণের শিক্ষা গবেষণার ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। তরুণ সমাজের সুস্দর ভবিষ্যৎ গড়ে দেবার জন্য কাজ করছি। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।…এরপরেও পত্রিকা খুললেই নানা নেতিবাচক খবর।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক সেটাই তো মানুষ চায়। আর নৌকায় ভোট দিলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। নৌকা ছাড়া কেউ উন্নয়ন করবে না, এটা আমি বলতে পারি।’

‘খালেদা-তারেকের বিরুদ্ধে আরও সাক্ষী আসছে’

বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতি, বিদেশিদের বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে কমিশন খাওয়াসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘অনেকে তো অপেক্ষা করে আছে সাক্ষী দেয়ার জন্য। এফবিআইএর লোক রেডি, নাইকো, গেটকো, প্রত্যেকটা ইসে তারা তারা সাক্ষী দেবে কীভাবে তারা অর্থ খেয়েছে, খালেদা জিয়া, তার ছেলে, তার দলের মন্ত্রীরা।’

বিএনপি কী দেশ চালাবে-এই প্রশ্ন করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এতিমের সম্পদের লোভ যারা সামলাতে পারে না, তারা কী দেশ চালাবে বলেন, কী চালিয়েছে? ২১ বছর পরে তো আওয়ামী লীগ এসেছে। তার পরের সাত বছরের অভিজ্ঞতা কীভাবে ভুলে যান? কী অবস্থায় ছিলেন?’

‘সবারই তো এখন মায়াকান্না, যার কেবিনেটের মিনিস্টার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত।’

‘শয়তানের সঙ্গ যারা চায় তারা কারা?’

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে শয়তানের সঙ্গে ঐক্যের বিষয়ে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মন্তব্য নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান জানতে চান, ‘আপনার রাজনীতি এই শয়তানকে কীভাবে মোকাবেলা করবে, এই শয়তানটা কারা?

জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি না, শয়তানের সাথে এটা কে বলেছেন। তবে যারা শয়তানের সান্নিধ্য চায়, বা শয়তানের সহযোগিতা চায়, তারা নিজেরা কি সেটা তো আপনারা নিজেরাই জানেন। আমার তো আর কিছু বলা লাগে না এ থেকেই তো মন মানসিকতাটা বুঝে গেছেন।’

‘যারা শয়তানের সাথে হাত মেলাবে, তাদের সমর্থন দিতে দেশবাসী তৈরি কি না, সেটাও আমার প্রশ্ন। নিশ্চয় দেশের মানুষ শয়তান চায় না, এটা আমার বিশ্বাস।’