ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অসৎ কাজ থেকে বিরত থেকেছি, তাই আমার বুকের জোড় বেশি: মির্জা ফখরুল নির্বাচন ও গণভোটে কঠোর নিরাপত্তায়, সারাদেশে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে নওগাঁয় ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ৫ জনের ১৭ বছ‌রের গুম-খুন-কান্না, রিমান্ড অত‌্যাচার সহ্য ক‌রে‌ছি: পার্থ একটি দল টাকা দিয়ে ভোট কিনছে : সেলিমা রহমান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই: আবু সাঈদের বাবা ‘ঘুম থেকে উঠে মানুষ আল্লাহর নাম নেয়, একজন আছে জেগেই আমার নাম নেন’:মির্জা আব্বাস সরকারি কর্মচারীরা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন না: ইসি সানাউল্লাহ গরিবের টিন-কম্বল কেউ আত্মসাৎ করতে পারবে না : মুফতি ফয়জুল করিম রাজধানীতে আবাসিক ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে চারটি ইউনিট

শয়তানের সঙ্গে জোট করে শয়তান: বিএনপিকে কাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শয়তানের সঙ্গে যারা জোট করতে চায়, তারাও তো শয়তান- মন্তব্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। রাজপথে সক্রিয় থাকলে শয়তানের সঙ্গেই জোট- বিএনপির সমাবেশ থেকে আসা এমন বক্তব্যের জবাবে এই কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার রাজধানীর গুলশান -২ এ সপ্তাহব্যাপী জনসংযোগ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন কাদের। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এ কথা বলেন তিনি।

আগের দিন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় প্রয়োজনে শয়তানের সঙ্গে ঐক্যের ঘোষণা দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে যারা আন্দোলনে রাজপথে নামবে তাদের সঙ্গে আমাদের ঐক্য হবে। সেখানে যদি শয়তানও থাকে তাদের সাথেই ঐক্য হবে।’

এই মন্তব্যের বিষয়ে জবাব জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শয়তানের সাথে জোট করে তারা যারা নিজেরাই শয়তান।’

বিএনপির সমাবেশ থেকে ১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ খালেদা জিয়ার হয়ে যাবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। আর এ জন্য রাজপথ দখল করে নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়।

এ বিষয়ে কাদের বলেন, ‘রাজপথ দখল করবে রাজপথ কে দখল করতে আসে দেখব। রাজপথ দখল করতে আসলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেবে।’

বিএনপির জনসভায় যে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যেই ৩ অক্টোবর জেলায় জেলায় এবং পরদিন সব মহানগরে সমাবেশ করবে তারা।

ওবায়দুল কাদের নিশ্চয়তা দেন, একই সপ্তাহে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে দেশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হবে না।

‘আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে কোন পাল্টাপাল্টি নয়, নিরীহ কর্মসূচি পালন করবে। আমাদের কর্মসূচি হচ্ছে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মসূচি। আমরা জনগণের কাছে যাব, উত্তেজনা ছড়াব না। কোন ধরনের উত্তেজনা ছড়াব না।’

‘আমরা মারামারি হানাহানি, পাল্টাপাল্টির মধ্যে নেই। সাম্প্রদায়িক শক্তি বিএনপি সহ সাম্প্রদায়িক শক্তি সহিংসতা- নাশকতা করে তাহলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করব। এটাই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য।’

বিএনপির জনসভায় তোলা সাত দাবিকে অযৌক্তিক, অবাস্তব এবং কোনো কোনোটি সংবিধানবিরোধী উল্লেখ করেন কাদের। বলেন, ‘এই সকল অবাস্তব দাবি এই সময়ে নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার আর মাত্র এক মাস বাকি। এর মধ্যে মেনে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। তারা নিজেরাই ক্ষমতায় থাকলে এই সময়ের মধ্যে এই দাবিগুলো মেনে নিতে পারবে না।’

‘এই দাবিগুলো তারা শুধুমাত্র বলার জন্য বলছে। তাদের নেতা কর্মীদের চাঙ্গা করতে এইসব আবোলতাবোল বকছে। তারাও জানে এই দাবিগুলো মেনে নেওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই।’

ক্যামেরার সামনে লোকদেখানো জনসংযোগ নয়

সপ্তাহব্যাপী এই জনসংযোগে যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে যেতে নেতা-কর্মীদেরকে পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগ নেতা। আর এটা যেন কোনো ব্যক্তির কর্মসূচি আর লোক দেখানোর না হয় সে বিষয়েও নেতা-কর্মীদেরকে সতর্ক করেন তিনি।

‘কোন প্রার্থীর নয়, গণসংযোগ হবে নৌকার। সকল ওয়ার্ড মহানগর জেলা উপজেলা ইউনিয়নে শুরু হচ্ছে এটাই প্রথম প্রোগ্রাম। ক্যামেরার সামনে লোক দেখানো গণসংযোগ করবেন না।’

উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্যে আগামী নির্বাচনে উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ নেতা।

গণসংযোগে অংশ নেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, রিয়াজুল কবীর কাওছার, সংসদ সদস্য রেমন্ড আরেং, ঢাকা মহানগর উত্তরে সধারণ সম্পাদক সাদেক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান, কোষাধ্যক্ষ ওয়াকিল উদ্দিন, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজিজুল হক রানা, বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জসিম উদ্দিন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শয়তানের সঙ্গে জোট করে শয়তান: বিএনপিকে কাদের

আপডেট সময় ০২:৫৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শয়তানের সঙ্গে যারা জোট করতে চায়, তারাও তো শয়তান- মন্তব্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের। রাজপথে সক্রিয় থাকলে শয়তানের সঙ্গেই জোট- বিএনপির সমাবেশ থেকে আসা এমন বক্তব্যের জবাবে এই কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার রাজধানীর গুলশান -২ এ সপ্তাহব্যাপী জনসংযোগ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন কাদের। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এ কথা বলেন তিনি।

আগের দিন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় প্রয়োজনে শয়তানের সঙ্গে ঐক্যের ঘোষণা দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয় সরকারের অধীনে যারা আন্দোলনে রাজপথে নামবে তাদের সঙ্গে আমাদের ঐক্য হবে। সেখানে যদি শয়তানও থাকে তাদের সাথেই ঐক্য হবে।’

এই মন্তব্যের বিষয়ে জবাব জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শয়তানের সাথে জোট করে তারা যারা নিজেরাই শয়তান।’

বিএনপির সমাবেশ থেকে ১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ খালেদা জিয়ার হয়ে যাবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। আর এ জন্য রাজপথ দখল করে নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়।

এ বিষয়ে কাদের বলেন, ‘রাজপথ দখল করবে রাজপথ কে দখল করতে আসে দেখব। রাজপথ দখল করতে আসলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেবে।’

বিএনপির জনসভায় যে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যেই ৩ অক্টোবর জেলায় জেলায় এবং পরদিন সব মহানগরে সমাবেশ করবে তারা।

ওবায়দুল কাদের নিশ্চয়তা দেন, একই সপ্তাহে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে দেশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হবে না।

‘আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে কোন পাল্টাপাল্টি নয়, নিরীহ কর্মসূচি পালন করবে। আমাদের কর্মসূচি হচ্ছে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মসূচি। আমরা জনগণের কাছে যাব, উত্তেজনা ছড়াব না। কোন ধরনের উত্তেজনা ছড়াব না।’

‘আমরা মারামারি হানাহানি, পাল্টাপাল্টির মধ্যে নেই। সাম্প্রদায়িক শক্তি বিএনপি সহ সাম্প্রদায়িক শক্তি সহিংসতা- নাশকতা করে তাহলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করব। এটাই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য।’

বিএনপির জনসভায় তোলা সাত দাবিকে অযৌক্তিক, অবাস্তব এবং কোনো কোনোটি সংবিধানবিরোধী উল্লেখ করেন কাদের। বলেন, ‘এই সকল অবাস্তব দাবি এই সময়ে নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার আর মাত্র এক মাস বাকি। এর মধ্যে মেনে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। তারা নিজেরাই ক্ষমতায় থাকলে এই সময়ের মধ্যে এই দাবিগুলো মেনে নিতে পারবে না।’

‘এই দাবিগুলো তারা শুধুমাত্র বলার জন্য বলছে। তাদের নেতা কর্মীদের চাঙ্গা করতে এইসব আবোলতাবোল বকছে। তারাও জানে এই দাবিগুলো মেনে নেওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই।’

ক্যামেরার সামনে লোকদেখানো জনসংযোগ নয়

সপ্তাহব্যাপী এই জনসংযোগে যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে যেতে নেতা-কর্মীদেরকে পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগ নেতা। আর এটা যেন কোনো ব্যক্তির কর্মসূচি আর লোক দেখানোর না হয় সে বিষয়েও নেতা-কর্মীদেরকে সতর্ক করেন তিনি।

‘কোন প্রার্থীর নয়, গণসংযোগ হবে নৌকার। সকল ওয়ার্ড মহানগর জেলা উপজেলা ইউনিয়নে শুরু হচ্ছে এটাই প্রথম প্রোগ্রাম। ক্যামেরার সামনে লোক দেখানো গণসংযোগ করবেন না।’

উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্যে আগামী নির্বাচনে উন্নয়নের রোল মডেল শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ নেতা।

গণসংযোগে অংশ নেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, রিয়াজুল কবীর কাওছার, সংসদ সদস্য রেমন্ড আরেং, ঢাকা মহানগর উত্তরে সধারণ সম্পাদক সাদেক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান, কোষাধ্যক্ষ ওয়াকিল উদ্দিন, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজিজুল হক রানা, বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম জসিম উদ্দিন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন প্রমুখ।