ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কারাগারের আদালতে খালেদার অনুপস্থিতিতেই শুনানি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছেন আদালত। মঙ্গলবার ফের এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের জানান, ‘আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন ও জামিন বৃদ্ধির আবেদন করা হয়। বিচারক যুক্তিতর্কের আবেদন ও জামিন বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করে মঙ্গলবার পর্যন্ত মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিন নির্ধারণ করেন। এছাড়া খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন বিচারক।’

তিনি আরো জানান, এ মামলায় আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে মামলার কার্যক্রম মুলতবি চেয়ে সময়ের আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা।

অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল মামলার যুক্তি উপস্থাপন করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, ‘আসামিপক্ষ যদি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন না করে, তাহলে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হোক।’

পরে দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির মামলার কার্যক্রম মুলতবির আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এ সময় জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামের আইনজীবী আদালতে লিখিতভাবে অনাস্থার আবেদন দেন। পরবর্তী সময়ে আদালত মুন্নার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

আর গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলার শুনানির এক সপ্তাহ আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় শেষ শুনানি হয়েছে। এই মামলায় আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পর খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষেই আসত রায়।

তবে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর অসুস্থতার কথা বলে আর আদালতে যাননি এবং এ কারণে মামলাটি ঝুলে যায়। এই পরিস্থিতিতে বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে কারাগারেই আদালত বসে।

৫ সেপ্টেম্বর শুনানিতে উপস্থিত হয়ে খালেদা জিয়া জানান, তিনি অসুস্থ এবং আর আদালতে আসতে পারবেন না। এরপর ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি অনুপস্থিত থাকেন এবং এ সময় দুদক তার অনুপস্থিতিতেই বিচারের আবেদন করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কারাগারের আদালতে খালেদার অনুপস্থিতিতেই শুনানি

আপডেট সময় ০২:৪২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছেন আদালত। মঙ্গলবার ফের এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের জানান, ‘আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন ও জামিন বৃদ্ধির আবেদন করা হয়। বিচারক যুক্তিতর্কের আবেদন ও জামিন বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করে মঙ্গলবার পর্যন্ত মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিন নির্ধারণ করেন। এছাড়া খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন বিচারক।’

তিনি আরো জানান, এ মামলায় আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে মামলার কার্যক্রম মুলতবি চেয়ে সময়ের আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা।

অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল মামলার যুক্তি উপস্থাপন করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, ‘আসামিপক্ষ যদি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন না করে, তাহলে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হোক।’

পরে দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির মামলার কার্যক্রম মুলতবির আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এ সময় জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামের আইনজীবী আদালতে লিখিতভাবে অনাস্থার আবেদন দেন। পরবর্তী সময়ে আদালত মুন্নার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

আর গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলার শুনানির এক সপ্তাহ আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় শেষ শুনানি হয়েছে। এই মামলায় আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পর খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষেই আসত রায়।

তবে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর অসুস্থতার কথা বলে আর আদালতে যাননি এবং এ কারণে মামলাটি ঝুলে যায়। এই পরিস্থিতিতে বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনে কারাগারেই আদালত বসে।

৫ সেপ্টেম্বর শুনানিতে উপস্থিত হয়ে খালেদা জিয়া জানান, তিনি অসুস্থ এবং আর আদালতে আসতে পারবেন না। এরপর ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি অনুপস্থিত থাকেন এবং এ সময় দুদক তার অনুপস্থিতিতেই বিচারের আবেদন করে।