ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এনসিপি নেতাদের শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ না করার আহ্বান রিজভীর আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে ৩৮ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল: ইসি সচিব থানার সামনে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি বিএনপি নেতার জামায়াতে গেলে মানুষের হিতাহিতজ্ঞান থাকে না, কর্নেল অলি তার বাস্তব উদাহরণ বিরোধী দলের নেতারা হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন : মির্জা ফখরুল প্রাতিষ্ঠানিকের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার আন্দোলনের মুখে বিলবোর্ড থেকে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ছবি সরিয়ে দিল রাবি প্রশাসন রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী ইরানে হামলা স্থগিত হলেও মার্কিন বাহিনী জবাব দিতে ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’: হেগসেথ বরিশালে বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে একই পরিবারে দগ্ধ ৩

আন্দোলন ঠেকাতে গোরস্থানে পুলিশ মোতায়েন করতে হবে’

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আন্দোলন ঠেকাতে সরকারের উচিত গোরস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা। কারণ মৃতরা এসে ঝামেলা করলে সেটাকে প্রতিহত করবে কে। দেড় বছর আগে যিনি মারা গেছেন তিনি নাকি পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়েছেন। আগস্ট মাসে মারা গেছেন যিনি, তিনি নাকি সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশকে আক্রমণ করেছেন। যারা জীবিত আছে তারাই শুধু এই সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে না, যারা মারা গেছে তারাও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়াই করছে!’

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত এক সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যখন মিটিং মিছিল করি, পুলিশ দেওয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়, যাতে কোনো ঝামেলা না হয়। এখন দেখা যাচ্ছে গোরস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা দরকার, যদি মৃতরা এসে ঝামেলা করে। যারা মারা গেছে তারাও নাকি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে।’

২০ দলীয় জোটের এই সমন্বয়ক বলেন, ‘কী অদ্ভুত একটি দেশ, এই দেশের জন্যই কি মুক্তিযুদ্ধ করলাম। পত্রিকায় এসেছে পরিবেশ দূষণে মৃত্যুর হার দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এই দেশে। কিন্তু এই হিসাব কেউ করে নাই যে, রাজনৈতিক দূষণে বিশ্বে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। এই দূষণে মারা গেছে গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার মানুষ।’ ‘

‘কয়েক দিনেই হাজার হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে, লাখ লাখ আসামি করা হয়েছে। আমাদের মিটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়, আমাদের কর্মীরা আসার সময় গ্রেপ্তার হন কিংবা যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার হন। মিটিংয়ে এলে তাদের ফিরে যাওয়ার উপায় থাকে না।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নিউইয়র্ক যাওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘হাছান মাহমুদ সাহেব মাঝেমধ্যে উল্টাপাল্টা কথা বার্তা বলেন। যার কারণে তাদের দলের নেত্রী সাজেদা চৌধুরীও প্রকাশ্যে মিটিংয়ে বলেছিলেন – দেশের মধ্যে বহু বেয়াদব দেখেছি, এরকম দেখি নাই।’

নজরুল বলেন, ‘হাছান মাহমুদ বলেছেন ফখরুল সাহেব জাতিসংঘে কারও দাওয়াতে যাননি, এটা মিথ্যাচার করা হয়েছে। আমি তাকে বলতে চাই, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তর। আমাদের এখানে যে সচিবালয় আছে, এখানে কি অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া, পাস ছাড়া কেউ যেতে পারবেন? মির্জা ফখরুল যে এখান থেকে নিউইয়র্ক গেলেন, সেখানে জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রতিনিধি তার সঙ্গে কথা বললেন, কোনো দাওয়াত ছাড়া? এ রকম তো হয় না কখনও। এর আগে এক সহকারী মহাসচিব এসেছিলেন তারানকো। তার সঙ্গে দুই জোটের শীর্ষ নেতারা দেখা করেছেন।’

খালেদা জিয়াকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব সরকারের এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ আইন থেকে বলা হয়েছে, আপনি যখন জেলখানায় ঢুকেন তখন আপনার ওজন মাপা হয়। জেল থেকে বের হওয়ার সময় ওজন মেপে যদি কম পাওয়া যায় তাহলে আপনি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দিতে পারবেন। অর্থাৎ যারা সরকারের হেফাজতে থাকবে, তাদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা দেখার দায়িত্ব সরকারের।’

‘খালেদা জিয়া ক্রমান্বয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তিনি কোনো সাধারণ নাগরিক নন। আমি সরকারকে অনুরোধ করবো, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে করেন।’

বাংলাদেশের লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপ‌তি‌ত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জিনাফ সভাপ‌তি লায়ন মিয়া মোঃ আ‌নোয়ার, দেশ বাচাও মানুষ বাচাও আ‌ন্দোল‌নের সভাপ‌তি কে এম র‌কিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপি নেতাদের শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ না করার আহ্বান রিজভীর

আন্দোলন ঠেকাতে গোরস্থানে পুলিশ মোতায়েন করতে হবে’

আপডেট সময় ০৫:৩১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আন্দোলন ঠেকাতে সরকারের উচিত গোরস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা। কারণ মৃতরা এসে ঝামেলা করলে সেটাকে প্রতিহত করবে কে। দেড় বছর আগে যিনি মারা গেছেন তিনি নাকি পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়েছেন। আগস্ট মাসে মারা গেছেন যিনি, তিনি নাকি সেপ্টেম্বর মাসে পুলিশকে আক্রমণ করেছেন। যারা জীবিত আছে তারাই শুধু এই সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে না, যারা মারা গেছে তারাও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়াই করছে!’

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত এক সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যখন মিটিং মিছিল করি, পুলিশ দেওয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়, যাতে কোনো ঝামেলা না হয়। এখন দেখা যাচ্ছে গোরস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা দরকার, যদি মৃতরা এসে ঝামেলা করে। যারা মারা গেছে তারাও নাকি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে।’

২০ দলীয় জোটের এই সমন্বয়ক বলেন, ‘কী অদ্ভুত একটি দেশ, এই দেশের জন্যই কি মুক্তিযুদ্ধ করলাম। পত্রিকায় এসেছে পরিবেশ দূষণে মৃত্যুর হার দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এই দেশে। কিন্তু এই হিসাব কেউ করে নাই যে, রাজনৈতিক দূষণে বিশ্বে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। এই দূষণে মারা গেছে গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার মানুষ।’ ‘

‘কয়েক দিনেই হাজার হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে, লাখ লাখ আসামি করা হয়েছে। আমাদের মিটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়, আমাদের কর্মীরা আসার সময় গ্রেপ্তার হন কিংবা যাওয়ার সময় গ্রেপ্তার হন। মিটিংয়ে এলে তাদের ফিরে যাওয়ার উপায় থাকে না।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নিউইয়র্ক যাওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘হাছান মাহমুদ সাহেব মাঝেমধ্যে উল্টাপাল্টা কথা বার্তা বলেন। যার কারণে তাদের দলের নেত্রী সাজেদা চৌধুরীও প্রকাশ্যে মিটিংয়ে বলেছিলেন – দেশের মধ্যে বহু বেয়াদব দেখেছি, এরকম দেখি নাই।’

নজরুল বলেন, ‘হাছান মাহমুদ বলেছেন ফখরুল সাহেব জাতিসংঘে কারও দাওয়াতে যাননি, এটা মিথ্যাচার করা হয়েছে। আমি তাকে বলতে চাই, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তর। আমাদের এখানে যে সচিবালয় আছে, এখানে কি অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া, পাস ছাড়া কেউ যেতে পারবেন? মির্জা ফখরুল যে এখান থেকে নিউইয়র্ক গেলেন, সেখানে জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রতিনিধি তার সঙ্গে কথা বললেন, কোনো দাওয়াত ছাড়া? এ রকম তো হয় না কখনও। এর আগে এক সহকারী মহাসচিব এসেছিলেন তারানকো। তার সঙ্গে দুই জোটের শীর্ষ নেতারা দেখা করেছেন।’

খালেদা জিয়াকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব সরকারের এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ আইন থেকে বলা হয়েছে, আপনি যখন জেলখানায় ঢুকেন তখন আপনার ওজন মাপা হয়। জেল থেকে বের হওয়ার সময় ওজন মেপে যদি কম পাওয়া যায় তাহলে আপনি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দিতে পারবেন। অর্থাৎ যারা সরকারের হেফাজতে থাকবে, তাদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা দেখার দায়িত্ব সরকারের।’

‘খালেদা জিয়া ক্রমান্বয়ে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তিনি কোনো সাধারণ নাগরিক নন। আমি সরকারকে অনুরোধ করবো, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে করেন।’

বাংলাদেশের লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপ‌তি‌ত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জিনাফ সভাপ‌তি লায়ন মিয়া মোঃ আ‌নোয়ার, দেশ বাচাও মানুষ বাচাও আ‌ন্দোল‌নের সভাপ‌তি কে এম র‌কিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।