ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খুনোখুনি পছন্দ না আমার, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে চাই: ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না: ইরান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’:মাহদী আমিন ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৪৪ নুরুল হক নুরের ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকের চেষ্টা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে : হুমায়ুন কবির প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানেই টেকসই জীবিকা নিশ্চিত হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এনসিপি নেতাদের শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ না করার আহ্বান রিজভীর

বঙ্গবন্ধুর ২ খুনিকে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: কাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক দুই খুনিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরীকে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার আদালতে সরকার দুটি মামলা করেছে বলেও তিনি জানান।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আছেন রাশেদ চৌধুরী। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমাদের সহযোগিতা করছে। তাকে ফিরিয়ে আনতে ওখানে একটি মামলা করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

তেমনি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কানাডায় একটি মামলা করেছে বলে জানান সেতুমন্ত্রী।

এ ব্যাপারে কানাডা সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত আছে জানিয়ে কাদের বলেন, কানাডার একটি আইন আছে, সেটি হল- কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান সে দেশের আইনে নেই। এ কারণে আইনটিকে শিথিল করে তাকে ফিরিয়ে আনতে মামলা করা হয়েছে।

ছয় খুনি এখনও পলাতক থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এই ছয়জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করে সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিক। দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

দীর্ঘদিন বিচার বন্ধের পর শুরু আইনি প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ২০১০ সালে। বাকিদের একজন মারা গেছেন এবং ছয়জন পলাতক আছেন।

তারা হলেন- আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা আছে।

এদের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায় এবং এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।

নূর চৌধুরীকে ফেরাতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বরাবর অনলাইন পিটিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের।

সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন গৌরব ৭১, কানাডা আওয়ামী লীগ অল ওভারসিস বাংলাদেশি এবং মুভমেন্ট ফর ডিপারটেশন অব কিলার নুর চৌধুরী টু বাংলাদেশ যৌথভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছে।

আইপিটিশন নামক ওয়েবসাইটের https://www.ipetitions.com/petition/petition-for-deportation-of-killer-nur-chowdhury লিঙ্কে অনলাইনে পিটিশন দাখিল করা যাবে বলে জানানো হয় ওই অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানে কাদের বলেন, আমি বারবার একই প্রশ্ন করছি বিএনপির নেতৃত্বের কাছে- বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত, সেই খুনিদের বিচারের পথ বন্ধ করতে কেন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, কেন এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে বাংলাদেশের লাখো শহীদের রক্তের আখরে রচিত সংবিধান পরিবর্তন করে পঞ্চম সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল? হত্যাকারীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করতে। এই প্রশ্নের জবাব বিএনপি আজও দেয়নি। আমি আবারও সেই প্রশ্নের জবাব চাচ্ছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুনোখুনি পছন্দ না আমার, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে চাই: ট্রাম্প

বঙ্গবন্ধুর ২ খুনিকে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: কাদের

আপডেট সময় ০২:১০:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক দুই খুনিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি রাশেদ চৌধুরী ও নূর চৌধুরীকে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার আদালতে সরকার দুটি মামলা করেছে বলেও তিনি জানান।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আছেন রাশেদ চৌধুরী। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমাদের সহযোগিতা করছে। তাকে ফিরিয়ে আনতে ওখানে একটি মামলা করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

তেমনি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কানাডায় একটি মামলা করেছে বলে জানান সেতুমন্ত্রী।

এ ব্যাপারে কানাডা সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত আছে জানিয়ে কাদের বলেন, কানাডার একটি আইন আছে, সেটি হল- কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান সে দেশের আইনে নেই। এ কারণে আইনটিকে শিথিল করে তাকে ফিরিয়ে আনতে মামলা করা হয়েছে।

ছয় খুনি এখনও পলাতক থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এই ছয়জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করে সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিক। দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

দীর্ঘদিন বিচার বন্ধের পর শুরু আইনি প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ২০১০ সালে। বাকিদের একজন মারা গেছেন এবং ছয়জন পলাতক আছেন।

তারা হলেন- আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা আছে।

এদের মধ্যে নূর চৌধুরী কানাডায় এবং এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।

নূর চৌধুরীকে ফেরাতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বরাবর অনলাইন পিটিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের।

সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন গৌরব ৭১, কানাডা আওয়ামী লীগ অল ওভারসিস বাংলাদেশি এবং মুভমেন্ট ফর ডিপারটেশন অব কিলার নুর চৌধুরী টু বাংলাদেশ যৌথভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছে।

আইপিটিশন নামক ওয়েবসাইটের https://www.ipetitions.com/petition/petition-for-deportation-of-killer-nur-chowdhury লিঙ্কে অনলাইনে পিটিশন দাখিল করা যাবে বলে জানানো হয় ওই অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানে কাদের বলেন, আমি বারবার একই প্রশ্ন করছি বিএনপির নেতৃত্বের কাছে- বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত, সেই খুনিদের বিচারের পথ বন্ধ করতে কেন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, কেন এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে বাংলাদেশের লাখো শহীদের রক্তের আখরে রচিত সংবিধান পরিবর্তন করে পঞ্চম সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল? হত্যাকারীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করতে। এই প্রশ্নের জবাব বিএনপি আজও দেয়নি। আমি আবারও সেই প্রশ্নের জবাব চাচ্ছি।