ঢাকা ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ কোনও ধরনের চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না : ইলিয়াসপত্নী লুনা অবশেষে মুক্তি পেলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম, স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত ইসলামী নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করব: চরমোনাই পীর পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত ধানের শীষ প্রতীক তারেক রহমানের আমানত : রাশেদ খাঁন ফান্ড তৈরি করে বেকার শিক্ষার্থীদের জন্য পুঁজির ব্যবস্থা করব: তাসনিম জারা উত্তরায় ফার্নিচার মার্কেটে আগুন নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন তিন সিটি নির্বাচন ইসির জন্য বিশেষ পরীক্ষা: মওদুদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহী,বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন সরকার ও ইসির জন্য এটাই শেষ পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজিত এক সংহতি সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খুলনা ও গাজীপুর নির্বাচনে কারচুপির বিষয় তুলে ধরে মওদুদ আহমদ বলেন, এখন প্রশ্ন উঠতে পারে তাহলে আমরা (বিএনপি) কেনো রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অংশগ্রহণ করছি। কারণ আমরা বারবার প্রমান করতে চাই, দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে না। কিন্তু সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য এটাই হবে শেষ পরীক্ষা। এই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনও যদি খুলনা ও গাজীপুর স্টাইলে হয় তাহলে আমরা প্রমান করতে পারলাম দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় না। তখন আমাদের নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলীয় সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন আমরা করবো, কী করবো না। আর তিন সিটি নির্বাচন আমাদের সেই পথ দেখিয়ে দেবে।

নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বর্তমান ইসি একটি তল্পিবাহক ও আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান। সংবিধানে যে শক্তি তাদের দেওয়া হয়েছে, সেই শক্তি প্রয়োগ করার সাহস বর্তমান ইসির নাই। যার জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। গাজীপুরে কোনও নির্বাচন হয়নি বলেও দাবি করেন মওদুদ আহমদ।

সরকার বেগম জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত করার চেষ্টা করেছে এবং করছেও অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত করতে গিয়ে সরকার নিজেদের মুখোশ উন্মোচন করেছে। তবে আমি বলতে পারি, বিলম্বিত হলেও বেগম জিয়া আমাদের মাঝে খুব শিগগির ফিরে আসবেন। এই মুক্তি সরকার বন্ধ করতে পারবে না। কারণ জামিন পাওয়া একটা অধিকার।

মওদুদ বলেন, উচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছে। হাইকোর্ট যেটা দিয়েছেন, আপিল বিভাগ সেটা বহাল রেখেছে। তারপরে তো আর কিছু থাকে না। কিন্তু পুরনো কিছু মামলায় শ্যোন আরেস্ট দেখিয়ে তাকে সম্পূর্ণভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। কিন্তু সেটা খোলসা হয়ে গেছে। ছয়টি মামলার মধ্য এখন ৪টি বাকি আছে। দুই মামলায় জামিন হয়ে গেছে। আর বাকি চারটি মামলায় তারা (সরকার) যে কাঁটা তৈরি করেছিল। সেই কাঁটা আমরা দূর করতে পেরেছি। আশা করি, খুব শিগগির বেগম জিয়ার জামিন নিশ্চিত করতে পারবো।

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ কররে তিনি বলেন, বেগম জিয়া কারাগার থেকে যে দিন বেরিয়ে আসবেন, সেই দিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন স্রোত ধারার সৃষ্টি হবে। জোয়ার সৃষ্টি হবে। সেই জোয়ার বন্ধ করার ক্ষমতা বর্তমান সরকারের নেই।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৫ মাস আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে আছে। কারণ ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে। এর চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ স্বাধীনতার পরে আমাদের জীবনে কখনো আসেনি। এই চ্যালঞ্জটি হলো: দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা।

‘মুক্তি বারতা তোমার হাতে দেশমাতা খালেদা জিয়া গানের সিডি উদ্বোধন ও বেগম জিয়ার মুক্তির দাবি’ শীর্ষক এ সংস্কৃতিসেবীদের সংহতি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান আবুল হাশেম রানা। এতে বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মনির খান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ

আসন্ন তিন সিটি নির্বাচন ইসির জন্য বিশেষ পরীক্ষা: মওদুদ

আপডেট সময় ০৩:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহী,বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন সরকার ও ইসির জন্য এটাই শেষ পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজিত এক সংহতি সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খুলনা ও গাজীপুর নির্বাচনে কারচুপির বিষয় তুলে ধরে মওদুদ আহমদ বলেন, এখন প্রশ্ন উঠতে পারে তাহলে আমরা (বিএনপি) কেনো রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অংশগ্রহণ করছি। কারণ আমরা বারবার প্রমান করতে চাই, দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে না। কিন্তু সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য এটাই হবে শেষ পরীক্ষা। এই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনও যদি খুলনা ও গাজীপুর স্টাইলে হয় তাহলে আমরা প্রমান করতে পারলাম দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় না। তখন আমাদের নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলীয় সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন আমরা করবো, কী করবো না। আর তিন সিটি নির্বাচন আমাদের সেই পথ দেখিয়ে দেবে।

নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বর্তমান ইসি একটি তল্পিবাহক ও আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান। সংবিধানে যে শক্তি তাদের দেওয়া হয়েছে, সেই শক্তি প্রয়োগ করার সাহস বর্তমান ইসির নাই। যার জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। গাজীপুরে কোনও নির্বাচন হয়নি বলেও দাবি করেন মওদুদ আহমদ।

সরকার বেগম জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত করার চেষ্টা করেছে এবং করছেও অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত করতে গিয়ে সরকার নিজেদের মুখোশ উন্মোচন করেছে। তবে আমি বলতে পারি, বিলম্বিত হলেও বেগম জিয়া আমাদের মাঝে খুব শিগগির ফিরে আসবেন। এই মুক্তি সরকার বন্ধ করতে পারবে না। কারণ জামিন পাওয়া একটা অধিকার।

মওদুদ বলেন, উচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছে। হাইকোর্ট যেটা দিয়েছেন, আপিল বিভাগ সেটা বহাল রেখেছে। তারপরে তো আর কিছু থাকে না। কিন্তু পুরনো কিছু মামলায় শ্যোন আরেস্ট দেখিয়ে তাকে সম্পূর্ণভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। কিন্তু সেটা খোলসা হয়ে গেছে। ছয়টি মামলার মধ্য এখন ৪টি বাকি আছে। দুই মামলায় জামিন হয়ে গেছে। আর বাকি চারটি মামলায় তারা (সরকার) যে কাঁটা তৈরি করেছিল। সেই কাঁটা আমরা দূর করতে পেরেছি। আশা করি, খুব শিগগির বেগম জিয়ার জামিন নিশ্চিত করতে পারবো।

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ কররে তিনি বলেন, বেগম জিয়া কারাগার থেকে যে দিন বেরিয়ে আসবেন, সেই দিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন স্রোত ধারার সৃষ্টি হবে। জোয়ার সৃষ্টি হবে। সেই জোয়ার বন্ধ করার ক্ষমতা বর্তমান সরকারের নেই।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৫ মাস আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে আছে। কারণ ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হতে যাচ্ছে। এর চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ স্বাধীনতার পরে আমাদের জীবনে কখনো আসেনি। এই চ্যালঞ্জটি হলো: দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা।

‘মুক্তি বারতা তোমার হাতে দেশমাতা খালেদা জিয়া গানের সিডি উদ্বোধন ও বেগম জিয়ার মুক্তির দাবি’ শীর্ষক এ সংস্কৃতিসেবীদের সংহতি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান আবুল হাশেম রানা। এতে বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মনির খান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।