ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ কোনও ধরনের চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না : ইলিয়াসপত্নী লুনা অবশেষে মুক্তি পেলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম, স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত ইসলামী নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করব: চরমোনাই পীর পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত ধানের শীষ প্রতীক তারেক রহমানের আমানত : রাশেদ খাঁন ফান্ড তৈরি করে বেকার শিক্ষার্থীদের জন্য পুঁজির ব্যবস্থা করব: তাসনিম জারা উত্তরায় ফার্নিচার মার্কেটে আগুন নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

এত সুন্দর সংসদ আর আসেনি: রওশন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বর্তমান সংসদের চেয়ে ভালো সংসদ এর আগে কখনও আসেনি বলে দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তিনি বলেছেন, সংসদে সরকার ও বিরোধী দল মিলেমিশে বাজেট পাস করে, কোনো রকম বাজে কথা হয় না, এই চিত্র এর আগে দেখা যায়নি।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে বুধবার রাতে এই কথা বলেন জাতীয় পার্টির নেতা। রওশন বলেন, ‘আমরা সবাই মিলেমিশে সংসদ পরিচালনা করেছি, একসাথে কাজ করেছি।’

‘এই সংসদই প্রথম এত সুন্দরভাবে কাজকর্ম চলেছে। প্রতিটি বাজেটে বক্তব্য রেখেছি, আলোচনা সমালোচনা চলেছে। সবাই মিলেমিশে বাজেট পাস করেছি।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের পর রওশনের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একাংশ নির্বাচনে যায়। আর সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয় জাতীয় পার্টি। তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এই দলটিকে বেশ কিছু আসনে ছাড় দেয়ায় তারা ৩০টিরও বেশি আসন পায়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হলেও দলের সংসদ সদস্যরা রওশনকেই তাদের নেতা নির্বাচন করেন।

জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে থাকলেও সরকারের অংশীদারও। একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রী আছে তাদের। আর জাতীয় সংসদেই রওশন কয়েক মাস আগে বলেছিলেন, তারা প্রকৃত বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারছেন না এবং এ জন্য তাকে লজ্জা পেতে হয়।

তবে আজ সংসদের ভূয়সী প্রশংসা করেন জাতীয় পার্টির নেতা। বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটা দিন সংসদে থেকেছি। কোনো দিন সংসদ বর্জন করেনি। কোনো দিন আজেবাজে মন্তব্য করতে দেইনি। …সংসদ সুন্দরভাবে চলেছে, প্রান্তবন্ত ছিল।’

বাজেটে নিয়ে রওশন ভাবনা

এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়েও কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। বলেন, অগ্রগতির স্বপ্ন দেখিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে বাজেট দিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। ‘এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে এই বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’

গত এক দশক ধরে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর সামষ্টিক অর্থনীতি অনেকটা স্থিতিশীল থাকলেও ইদানীং রপ্তানি আয়ে ভাটা, বিনিয়োগে স্থবিরতা চলছে দাবি করে রওশন এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে কর্মকৌশল নির্ধারণের পরামর্শ দেন।

আগামী বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যক্তিখাতে এক লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারি খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বলেও জানান বিরোধী দলীয় নেতা। বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতেও উদ্যোগ নেয়ার তাগাদা দেন তিনি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে বারবার বরাদ্দ বাড়ানো উচিত হয়নি বলেও মনে করেন রওশন। বলেন, নদীশাসন, জমি অধিগ্রহণসহ যেসব কাজ করা হচ্ছে, সেগুলো আগে থেকেই মাথায় রাখা উচিত ছিল।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়েছে জানিয়ে তা বাড়ানোর পরামর্শ দেন বিরোধীদলীয় নেতা। সেই সঙ্গে শিক্ষার মান বৃদ্ধি, পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের তাগাদা দেন তিনি। ‘শিক্ষা হচ্ছে মেরুদণ্ড। আমরা মেরুদণ্ড যদি খাড়া করতে না পারি, তাহলে কীভাবে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব?’

স্বাস্থ্যখাতেও অপ্রতুল বরাদ্দ এবং চিকিৎসকদের মনোভাব পাল্টানোর তাগিদ দেন রওশন। বলেন, সরকারি খাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক এবং লোকবলের অভাব রয়েছে। আর বেসরকারি খাতে চিকিৎসার খরচ অত্যাধিক বেশি। আবার চিকিৎসকদের আচরণের কারণে রোগীরা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের আচরণ পাল্টাতে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়ন হলেও এখনও মফস্বলে ঘাটতি রয়ে গেছে জানিয়ে সৌর বিদ্যুতের ওপর জোর দেয়ার পরামর্শও উঠে আসে রওশনের বক্তব্যে।

কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেয়ারও আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির নেতা। বলেন, দেশের কর্মক্ষম সাড়ে ১০ কোটি মানুষের মধ্যে পাঁচ কোটি মানুষকে কাজ দিতে হবে। তাদেরকে কাজ দিতে না পারলে ছেলে মেয়েরা বিপথে চলে যাবে। বাংলাদেশের ছেলে মেয়েরা চাকরি না পেলেও বিদেশিরা এ দেশে ৭০০ কোটি ডলার আয় করে নিয়ে যাচ্ছে-এই বিষয়টিও তুলে ধরেন রওশন।

পোশাক খাতের পাশাপাশি চামড়া খাতে গুরুত্ব দেয়া, শিশু শ্রম লাঘবে উদ্যোগ নেয়া, ডেইরি খাতে স্থানীয় উদ্যোগে সুরক্ষা দিতে আমদানি শুল্ক বাড়ানো, নদী শাসন করে ভাঙন প্রতিরোধে উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শও দেন বিরোধীদলীয় নেতা।

উন্নয়নের ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়াতে আয়কর আদায়ে আরও গুরুত্ব দেয়ার তাগাদা দেন রওশন। বলেন, দেশে এক কোটি মানুষের আয়কর দেয়ার ক্ষমতা থাকলেও দেয় মাত্র ১২ থেকে ১৪ লাখ। বাকিদের কাছ থেকে কর আদায় বাড়াতে পারলে করহার না বাড়িয়েও বাজেট বাড়ানো সম্ভব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ

এত সুন্দর সংসদ আর আসেনি: রওশন

আপডেট সময় ১০:৩৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বর্তমান সংসদের চেয়ে ভালো সংসদ এর আগে কখনও আসেনি বলে দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তিনি বলেছেন, সংসদে সরকার ও বিরোধী দল মিলেমিশে বাজেট পাস করে, কোনো রকম বাজে কথা হয় না, এই চিত্র এর আগে দেখা যায়নি।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে বুধবার রাতে এই কথা বলেন জাতীয় পার্টির নেতা। রওশন বলেন, ‘আমরা সবাই মিলেমিশে সংসদ পরিচালনা করেছি, একসাথে কাজ করেছি।’

‘এই সংসদই প্রথম এত সুন্দরভাবে কাজকর্ম চলেছে। প্রতিটি বাজেটে বক্তব্য রেখেছি, আলোচনা সমালোচনা চলেছে। সবাই মিলেমিশে বাজেট পাস করেছি।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের পর রওশনের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একাংশ নির্বাচনে যায়। আর সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয় জাতীয় পার্টি। তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এই দলটিকে বেশ কিছু আসনে ছাড় দেয়ায় তারা ৩০টিরও বেশি আসন পায়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হলেও দলের সংসদ সদস্যরা রওশনকেই তাদের নেতা নির্বাচন করেন।

জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে থাকলেও সরকারের অংশীদারও। একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রী আছে তাদের। আর জাতীয় সংসদেই রওশন কয়েক মাস আগে বলেছিলেন, তারা প্রকৃত বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারছেন না এবং এ জন্য তাকে লজ্জা পেতে হয়।

তবে আজ সংসদের ভূয়সী প্রশংসা করেন জাতীয় পার্টির নেতা। বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটা দিন সংসদে থেকেছি। কোনো দিন সংসদ বর্জন করেনি। কোনো দিন আজেবাজে মন্তব্য করতে দেইনি। …সংসদ সুন্দরভাবে চলেছে, প্রান্তবন্ত ছিল।’

বাজেটে নিয়ে রওশন ভাবনা

এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়েও কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। বলেন, অগ্রগতির স্বপ্ন দেখিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যে বাজেট দিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। ‘এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে এই বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’

গত এক দশক ধরে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর সামষ্টিক অর্থনীতি অনেকটা স্থিতিশীল থাকলেও ইদানীং রপ্তানি আয়ে ভাটা, বিনিয়োগে স্থবিরতা চলছে দাবি করে রওশন এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে কর্মকৌশল নির্ধারণের পরামর্শ দেন।

আগামী বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যক্তিখাতে এক লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারি খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বলেও জানান বিরোধী দলীয় নেতা। বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতেও উদ্যোগ নেয়ার তাগাদা দেন তিনি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে বারবার বরাদ্দ বাড়ানো উচিত হয়নি বলেও মনে করেন রওশন। বলেন, নদীশাসন, জমি অধিগ্রহণসহ যেসব কাজ করা হচ্ছে, সেগুলো আগে থেকেই মাথায় রাখা উচিত ছিল।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়েছে জানিয়ে তা বাড়ানোর পরামর্শ দেন বিরোধীদলীয় নেতা। সেই সঙ্গে শিক্ষার মান বৃদ্ধি, পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের তাগাদা দেন তিনি। ‘শিক্ষা হচ্ছে মেরুদণ্ড। আমরা মেরুদণ্ড যদি খাড়া করতে না পারি, তাহলে কীভাবে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ব?’

স্বাস্থ্যখাতেও অপ্রতুল বরাদ্দ এবং চিকিৎসকদের মনোভাব পাল্টানোর তাগিদ দেন রওশন। বলেন, সরকারি খাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক এবং লোকবলের অভাব রয়েছে। আর বেসরকারি খাতে চিকিৎসার খরচ অত্যাধিক বেশি। আবার চিকিৎসকদের আচরণের কারণে রোগীরা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের আচরণ পাল্টাতে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়ন হলেও এখনও মফস্বলে ঘাটতি রয়ে গেছে জানিয়ে সৌর বিদ্যুতের ওপর জোর দেয়ার পরামর্শও উঠে আসে রওশনের বক্তব্যে।

কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেয়ারও আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির নেতা। বলেন, দেশের কর্মক্ষম সাড়ে ১০ কোটি মানুষের মধ্যে পাঁচ কোটি মানুষকে কাজ দিতে হবে। তাদেরকে কাজ দিতে না পারলে ছেলে মেয়েরা বিপথে চলে যাবে। বাংলাদেশের ছেলে মেয়েরা চাকরি না পেলেও বিদেশিরা এ দেশে ৭০০ কোটি ডলার আয় করে নিয়ে যাচ্ছে-এই বিষয়টিও তুলে ধরেন রওশন।

পোশাক খাতের পাশাপাশি চামড়া খাতে গুরুত্ব দেয়া, শিশু শ্রম লাঘবে উদ্যোগ নেয়া, ডেইরি খাতে স্থানীয় উদ্যোগে সুরক্ষা দিতে আমদানি শুল্ক বাড়ানো, নদী শাসন করে ভাঙন প্রতিরোধে উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শও দেন বিরোধীদলীয় নেতা।

উন্নয়নের ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়াতে আয়কর আদায়ে আরও গুরুত্ব দেয়ার তাগাদা দেন রওশন। বলেন, দেশে এক কোটি মানুষের আয়কর দেয়ার ক্ষমতা থাকলেও দেয় মাত্র ১২ থেকে ১৪ লাখ। বাকিদের কাছ থেকে কর আদায় বাড়াতে পারলে করহার না বাড়িয়েও বাজেট বাড়ানো সম্ভব।