ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কে সাংবাদিক তা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জুবাইদা রহমানের থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে সশস্ত্র হামলায় ৫ নিরাপত্তা সদস্যের প্রাণহানি কুমিল্লায় শিশু ঝুমুর ধর্ষণ ও হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড চুয়াডাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে আহত ২২, তিনজনের অবস্থা গুরুতর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান চাইলে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ধনী দেশ হতে পারতো: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আসিয়ানের সহযোগিতা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে আগ্রহী : বাণিজ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা ২৭ জুলাই থেকে শুরু

ফটিকছড়িতে ৭ শত টাকার মুঠোফোনের জন্য ঝরে গেল দু’টি প্রাণ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রাম,ফটিকছড়ি উপজেলায় মাত্র একটি ৭ শত টাকার মুঠোফোনের জন্য সেফটিক ট্যাংকে পড়ে দু’ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মোবাইল ফোনটি অসাবধানতার কারণে টয়লেটে পড়ে যায়। এটি উদ্ধার করতে সেফটিক ট্যাংকের ঢাকনা উল্টিয়ে ইসমাইল (৩৪) নামে এক লোক নিচে নামলে গ্যাস ক্রিয়ায় মারা যান লোকটি। তার স্ত্রীর চিৎকারে এক পথচারী লোকটিকে উদ্ধার করতে সেফটিক ট্যাংকে মই দিয়ে নামলে তিনিও মারা যান। এমনি মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন বাগানবাজার ইউনিয়নে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৮ই আগষ্ট (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বাগান বাজার ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের মৃত আম্বর আলীর পুত্র ইসমাইল (৩৪) নামক এক ব্যক্তি প্রাকতিক ডাকে সাড়া দিতে নিজ বসত ঘরের টয়লেটে যান। অসাবধান বশত তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি নিচে পড়ে যায়। সেটি উদ্ধার করতে স্ত্রীসহ সেফটিক ট্যাংকের মুখ উল্টিয়ে মই ব্যবহার করে প্রায় ৫ ফুট নিচে নামেন, কিন্তু মুহূর্তেই তিনি সেখানে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। স্বামীর এমন অবস্থা থেকে স্ত্রী চিৎকার করলে পাশ্ববর্তী এলাকার আবুল কাশেমের পুত্র আবুল কালাম (৪৫) নামক এক পথচারী চিৎকার শুনে ছুঁটে যান। তিনি ইসমাইলকে উদ্ধার করতে নিচে নামলে নিজেও নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে এলাকার লোকজন এসে সেফটিক ট্যাংক থেকে তাদের দু‘জনের লাশ উদ্ধার করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিচে না নামতে নিহত ইসমাইলের স্ত্রী বার বার বারণ করেছিলেন। মাত্র ৭ শত টাকার মতো একটি মোবাইলের জন্য মর্মান্তিকভাবে দু‘টি প্রাণ চলে গেল।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুস্তম আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। নিহত দু‘জনেই খেটে খাওয়া মানুষ। ময়নাতদন্ত ছাড়া প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

 

মনজুর আহমেদ, ফটিকছড়ি(চট্টগ্রাম)

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কে সাংবাদিক তা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

ফটিকছড়িতে ৭ শত টাকার মুঠোফোনের জন্য ঝরে গেল দু’টি প্রাণ

আপডেট সময় ১০:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রাম,ফটিকছড়ি উপজেলায় মাত্র একটি ৭ শত টাকার মুঠোফোনের জন্য সেফটিক ট্যাংকে পড়ে দু’ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মোবাইল ফোনটি অসাবধানতার কারণে টয়লেটে পড়ে যায়। এটি উদ্ধার করতে সেফটিক ট্যাংকের ঢাকনা উল্টিয়ে ইসমাইল (৩৪) নামে এক লোক নিচে নামলে গ্যাস ক্রিয়ায় মারা যান লোকটি। তার স্ত্রীর চিৎকারে এক পথচারী লোকটিকে উদ্ধার করতে সেফটিক ট্যাংকে মই দিয়ে নামলে তিনিও মারা যান। এমনি মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন বাগানবাজার ইউনিয়নে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৮ই আগষ্ট (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বাগান বাজার ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের মৃত আম্বর আলীর পুত্র ইসমাইল (৩৪) নামক এক ব্যক্তি প্রাকতিক ডাকে সাড়া দিতে নিজ বসত ঘরের টয়লেটে যান। অসাবধান বশত তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি নিচে পড়ে যায়। সেটি উদ্ধার করতে স্ত্রীসহ সেফটিক ট্যাংকের মুখ উল্টিয়ে মই ব্যবহার করে প্রায় ৫ ফুট নিচে নামেন, কিন্তু মুহূর্তেই তিনি সেখানে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। স্বামীর এমন অবস্থা থেকে স্ত্রী চিৎকার করলে পাশ্ববর্তী এলাকার আবুল কাশেমের পুত্র আবুল কালাম (৪৫) নামক এক পথচারী চিৎকার শুনে ছুঁটে যান। তিনি ইসমাইলকে উদ্ধার করতে নিচে নামলে নিজেও নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে এলাকার লোকজন এসে সেফটিক ট্যাংক থেকে তাদের দু‘জনের লাশ উদ্ধার করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিচে না নামতে নিহত ইসমাইলের স্ত্রী বার বার বারণ করেছিলেন। মাত্র ৭ শত টাকার মতো একটি মোবাইলের জন্য মর্মান্তিকভাবে দু‘টি প্রাণ চলে গেল।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুস্তম আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। নিহত দু‘জনেই খেটে খাওয়া মানুষ। ময়নাতদন্ত ছাড়া প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

 

মনজুর আহমেদ, ফটিকছড়ি(চট্টগ্রাম)