ঢাকা ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

ফটিকছড়িতে ৭ শত টাকার মুঠোফোনের জন্য ঝরে গেল দু’টি প্রাণ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রাম,ফটিকছড়ি উপজেলায় মাত্র একটি ৭ শত টাকার মুঠোফোনের জন্য সেফটিক ট্যাংকে পড়ে দু’ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মোবাইল ফোনটি অসাবধানতার কারণে টয়লেটে পড়ে যায়। এটি উদ্ধার করতে সেফটিক ট্যাংকের ঢাকনা উল্টিয়ে ইসমাইল (৩৪) নামে এক লোক নিচে নামলে গ্যাস ক্রিয়ায় মারা যান লোকটি। তার স্ত্রীর চিৎকারে এক পথচারী লোকটিকে উদ্ধার করতে সেফটিক ট্যাংকে মই দিয়ে নামলে তিনিও মারা যান। এমনি মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন বাগানবাজার ইউনিয়নে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৮ই আগষ্ট (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বাগান বাজার ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের মৃত আম্বর আলীর পুত্র ইসমাইল (৩৪) নামক এক ব্যক্তি প্রাকতিক ডাকে সাড়া দিতে নিজ বসত ঘরের টয়লেটে যান। অসাবধান বশত তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি নিচে পড়ে যায়। সেটি উদ্ধার করতে স্ত্রীসহ সেফটিক ট্যাংকের মুখ উল্টিয়ে মই ব্যবহার করে প্রায় ৫ ফুট নিচে নামেন, কিন্তু মুহূর্তেই তিনি সেখানে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। স্বামীর এমন অবস্থা থেকে স্ত্রী চিৎকার করলে পাশ্ববর্তী এলাকার আবুল কাশেমের পুত্র আবুল কালাম (৪৫) নামক এক পথচারী চিৎকার শুনে ছুঁটে যান। তিনি ইসমাইলকে উদ্ধার করতে নিচে নামলে নিজেও নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে এলাকার লোকজন এসে সেফটিক ট্যাংক থেকে তাদের দু‘জনের লাশ উদ্ধার করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিচে না নামতে নিহত ইসমাইলের স্ত্রী বার বার বারণ করেছিলেন। মাত্র ৭ শত টাকার মতো একটি মোবাইলের জন্য মর্মান্তিকভাবে দু‘টি প্রাণ চলে গেল।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুস্তম আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। নিহত দু‘জনেই খেটে খাওয়া মানুষ। ময়নাতদন্ত ছাড়া প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

 

মনজুর আহমেদ, ফটিকছড়ি(চট্টগ্রাম)

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

ফটিকছড়িতে ৭ শত টাকার মুঠোফোনের জন্য ঝরে গেল দু’টি প্রাণ

আপডেট সময় ১০:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রাম,ফটিকছড়ি উপজেলায় মাত্র একটি ৭ শত টাকার মুঠোফোনের জন্য সেফটিক ট্যাংকে পড়ে দু’ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মোবাইল ফোনটি অসাবধানতার কারণে টয়লেটে পড়ে যায়। এটি উদ্ধার করতে সেফটিক ট্যাংকের ঢাকনা উল্টিয়ে ইসমাইল (৩৪) নামে এক লোক নিচে নামলে গ্যাস ক্রিয়ায় মারা যান লোকটি। তার স্ত্রীর চিৎকারে এক পথচারী লোকটিকে উদ্ধার করতে সেফটিক ট্যাংকে মই দিয়ে নামলে তিনিও মারা যান। এমনি মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন বাগানবাজার ইউনিয়নে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৮ই আগষ্ট (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বাগান বাজার ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের মৃত আম্বর আলীর পুত্র ইসমাইল (৩৪) নামক এক ব্যক্তি প্রাকতিক ডাকে সাড়া দিতে নিজ বসত ঘরের টয়লেটে যান। অসাবধান বশত তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি নিচে পড়ে যায়। সেটি উদ্ধার করতে স্ত্রীসহ সেফটিক ট্যাংকের মুখ উল্টিয়ে মই ব্যবহার করে প্রায় ৫ ফুট নিচে নামেন, কিন্তু মুহূর্তেই তিনি সেখানে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। স্বামীর এমন অবস্থা থেকে স্ত্রী চিৎকার করলে পাশ্ববর্তী এলাকার আবুল কাশেমের পুত্র আবুল কালাম (৪৫) নামক এক পথচারী চিৎকার শুনে ছুঁটে যান। তিনি ইসমাইলকে উদ্ধার করতে নিচে নামলে নিজেও নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে এলাকার লোকজন এসে সেফটিক ট্যাংক থেকে তাদের দু‘জনের লাশ উদ্ধার করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিচে না নামতে নিহত ইসমাইলের স্ত্রী বার বার বারণ করেছিলেন। মাত্র ৭ শত টাকার মতো একটি মোবাইলের জন্য মর্মান্তিকভাবে দু‘টি প্রাণ চলে গেল।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুস্তম আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। নিহত দু‘জনেই খেটে খাওয়া মানুষ। ময়নাতদন্ত ছাড়া প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

 

মনজুর আহমেদ, ফটিকছড়ি(চট্টগ্রাম)