ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তফ্রন্টকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই ভয় পেয়েছে: রব

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুই প্রধান দলের বাইরে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দিয়ে গঠন করা যুক্তফ্রন্টকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই ভয় পেয়েছে বলে দাবি করেছেন জোটের এক শরিক আ স ম আবদুর রব।

জাতীয় সমাজতা‌ন্ত্রিক দলের সভাপ‌তি রব বলেন, ‘যুক্তফ্রন্ট গঠনের পরে অনেক ভয় পেয়ে গেছেন। নজরদারি করার জন্য বলছেন। শুরু করার আগেই ভূমিকম্প হয়ে গেছে।’

রবিবার ফ্রন্টের এক শরিক নাগরিক ঐক্যের আয়োজনে রাজধানীতে এক ইফতারপূর্ব আলোচনায় অংশ নিয়ে রব এই কথা বলেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি নেতা বলেন, ‘আজকে ইফতার নিয়েও অনেক কথা হচ্ছে। আরে আসল খেলা তো হবে ময়দানে ও মাঠে।’

সরকারকে উদ্দেশ্য করে রব বলেন, ‘মাঠ ছাড়তে হবে। দেশও ছাড়তে হবে। কোথায় যাবেন চিন্তা করেন। আমরা মাঠের ফ্রন্টের খেলোয়াড়। পিছনের নয়।’

আলোচিত পাঁচ রাজনীতিক গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন, বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদর রহমান মান্না গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে জোট গঠনের উদ্যোগ নেন।

গত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে কামাল হোসেনকে বাইরে রেখে জোটের ঘোষণা দেন বাকি চার নেতা। নাম দেয়া হয় যুক্তফ্রন্ট। সে সময় কামাল হোসেন দেশের বাইরে থাকায় তিনি এই জোটে আসেননি বলে জানানো হয়। তবে দেশে ফিরে কামাল হোসেন জোটে যোগ দেননি।

যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শরিক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা আর মান্না ও কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে সম্পৃক্ত ছিলেন।

১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার দুই বছর পর কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন। আর মান্না সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায় সরকারের আমলে দলে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত হন আর পরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।

আরেক শরিক জেএসডি নেতা আ স ম আবদুর রব ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ঐক্যমতের সরকারে মন্ত্রী হন। এর আগে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৮৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান সব বিরোধী দল বর্জন করলেও তিনি ছোট ছোট অনেকগুলো দল নিয়ে ভোটে যান এবং সে সময় বিরোধীদলীয় নেতা হন রব।

তবে তৃতীয় শক্তি হয়ে উঠার ঘোষণা থাকলেও এখন অবধি জোটের তেমন কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। সদ্য সমাপ্ত খুলনা সিটি নির্বাচনে তারা অংশ নেয়নি। স্থগিত হয়ে যাওয়া গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও তারা প্রার্থী দেয়নি।

তৃতীয় শক্তি হওয়ার কথা বললেও এখন বিএনপির সঙ্গেই মাখামাখি যুক্তফ্রন্ট নেতাদের। সম্প্রতি বিএনপির আয়োজনে এক ইফতারে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি ফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে ঐক্যের প্রস্তাবও দিয়েছেন।

নাগরিক ঐক্যের ইফতারে যুক্তফ্রন্টের নেতা রব বলেন, ‘দেশ স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন অসমাপ্ত কাজ শেষ করে মরতে চাই।’

এই আয়োজনেও বিএনপি-জামায়াত জোট এবং তার শরিক দলের নেতারা এবং বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন। তবে আয়োজক সংগঠন নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আসেননি।

মান্না বলেন, ‘প্রথমদিন আমি যখন তাকে (কাদের) দাওয়াত দেই, তখন তিনি বলেছিলেন পরে জানাবেন। কিন্তু জানানি। পরে আবার মেসেজ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি প্রতিউত্তর দেননি।’ ‘অনেকে হয়তো ভেবেছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি মহাসচিব একসঙ্গে ইফতারে আসবেন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের এনজিও ঋণ শোধের দায়িত্ব নেবে সরকার: মির্জা ফখরুল

যুক্তফ্রন্টকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই ভয় পেয়েছে: রব

আপডেট সময় ০৮:৪০:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুই প্রধান দলের বাইরে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দিয়ে গঠন করা যুক্তফ্রন্টকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই ভয় পেয়েছে বলে দাবি করেছেন জোটের এক শরিক আ স ম আবদুর রব।

জাতীয় সমাজতা‌ন্ত্রিক দলের সভাপ‌তি রব বলেন, ‘যুক্তফ্রন্ট গঠনের পরে অনেক ভয় পেয়ে গেছেন। নজরদারি করার জন্য বলছেন। শুরু করার আগেই ভূমিকম্প হয়ে গেছে।’

রবিবার ফ্রন্টের এক শরিক নাগরিক ঐক্যের আয়োজনে রাজধানীতে এক ইফতারপূর্ব আলোচনায় অংশ নিয়ে রব এই কথা বলেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি নেতা বলেন, ‘আজকে ইফতার নিয়েও অনেক কথা হচ্ছে। আরে আসল খেলা তো হবে ময়দানে ও মাঠে।’

সরকারকে উদ্দেশ্য করে রব বলেন, ‘মাঠ ছাড়তে হবে। দেশও ছাড়তে হবে। কোথায় যাবেন চিন্তা করেন। আমরা মাঠের ফ্রন্টের খেলোয়াড়। পিছনের নয়।’

আলোচিত পাঁচ রাজনীতিক গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন, বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদর রহমান মান্না গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে জোট গঠনের উদ্যোগ নেন।

গত ডিসেম্বরের শুরুর দিকে কামাল হোসেনকে বাইরে রেখে জোটের ঘোষণা দেন বাকি চার নেতা। নাম দেয়া হয় যুক্তফ্রন্ট। সে সময় কামাল হোসেন দেশের বাইরে থাকায় তিনি এই জোটে আসেননি বলে জানানো হয়। তবে দেশে ফিরে কামাল হোসেন জোটে যোগ দেননি।

যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শরিক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা আর মান্না ও কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে সম্পৃক্ত ছিলেন।

১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার দুই বছর পর কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন। আর মান্না সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায় সরকারের আমলে দলে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত হন আর পরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।

আরেক শরিক জেএসডি নেতা আ স ম আবদুর রব ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ঐক্যমতের সরকারে মন্ত্রী হন। এর আগে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৮৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান সব বিরোধী দল বর্জন করলেও তিনি ছোট ছোট অনেকগুলো দল নিয়ে ভোটে যান এবং সে সময় বিরোধীদলীয় নেতা হন রব।

তবে তৃতীয় শক্তি হয়ে উঠার ঘোষণা থাকলেও এখন অবধি জোটের তেমন কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। সদ্য সমাপ্ত খুলনা সিটি নির্বাচনে তারা অংশ নেয়নি। স্থগিত হয়ে যাওয়া গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও তারা প্রার্থী দেয়নি।

তৃতীয় শক্তি হওয়ার কথা বললেও এখন বিএনপির সঙ্গেই মাখামাখি যুক্তফ্রন্ট নেতাদের। সম্প্রতি বিএনপির আয়োজনে এক ইফতারে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি ফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে ঐক্যের প্রস্তাবও দিয়েছেন।

নাগরিক ঐক্যের ইফতারে যুক্তফ্রন্টের নেতা রব বলেন, ‘দেশ স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন অসমাপ্ত কাজ শেষ করে মরতে চাই।’

এই আয়োজনেও বিএনপি-জামায়াত জোট এবং তার শরিক দলের নেতারা এবং বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন। তবে আয়োজক সংগঠন নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আসেননি।

মান্না বলেন, ‘প্রথমদিন আমি যখন তাকে (কাদের) দাওয়াত দেই, তখন তিনি বলেছিলেন পরে জানাবেন। কিন্তু জানানি। পরে আবার মেসেজ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি প্রতিউত্তর দেননি।’ ‘অনেকে হয়তো ভেবেছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি মহাসচিব একসঙ্গে ইফতারে আসবেন।’