ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ কোনও ধরনের চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না : ইলিয়াসপত্নী লুনা অবশেষে মুক্তি পেলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম, স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত ইসলামী নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করব: চরমোনাই পীর পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত ধানের শীষ প্রতীক তারেক রহমানের আমানত : রাশেদ খাঁন ফান্ড তৈরি করে বেকার শিক্ষার্থীদের জন্য পুঁজির ব্যবস্থা করব: তাসনিম জারা উত্তরায় ফার্নিচার মার্কেটে আগুন

মমতার সঙ্গে বৈঠকে তাকিয়ে বাংলাদেশ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুই দিনের সফরে কলকাতায় অবস্থান করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক হবে আজ। প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফিরে আসার আগে তাদের মধ্যে বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। মমতার সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আগেভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তিস্তা নিয়ে কথা বলবেন না। তারপরেও এই দুই নেতার বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ।

ছিটমহলসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অমীমাংসিত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হলেও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি কয়েক বছর ধরে ঝুলে আছে। ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরকালে তিস্তা চুক্তি ঝুলে যাওয়ার পর এর জট আর খোলেনি। আর এই চুক্তির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান মমতা। মমতার দাবি, বাংলাদেশকে পানি দিলে পশ্চিমবঙ্গ পর্যাপ্ত পানি পাবে না।

২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হলেও বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষিত তিস্তা চুক্তি হয়নি। তবে সে সময় মোদি বলেছিলেন, দুই দেশের সরকারের চলতি মেয়াদেই এই চুক্তি হবে।

এবার দুই দিনের সফরে কলকাতায় যাওয়ার আগে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। যদিও পশ্চিমবঙ্গ যাওয়ার দুই দিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, এই সফরের উদ্দেশ্য তিস্তা চুক্তি নয়। তারপরও মমতার সঙ্গে আজকের বৈঠকে কী হয় এ নিয়ে উৎসাহ আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কলকাতা সফরে মমতার সঙ্গে বৈঠক না হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দুই প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি বৈঠকের কোনও কর্মসূচি ছিল না। তবে গতকাল পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন এবং বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নরেন্দ্র মোদি-শেখ হাসিনার পাশাপাশি যান মমতাও। সেখানে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের কথা জানান মমতা নিজেই।

মমতা বলেন, হাসিনাজির সঙ্গে আমার একটি বৈঠক ঠিক করেছি। সেটা শনিবার উনি বাংলাদেশ ফিরে যাওয়ার আগে হবে। ওইদিন সন্ধেবেলা আমরা দুইজন কথা বলবো। আমি হাসিনাজিকে খুব ভালোবাসি, উনিও আমাকে খুব স্নেহ করেন।

মমতার সঙ্গে হাসিনার বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে কোনও পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া তিস্তার পানি বন্টন নিয়েও দুই নেত্রী কথা হতে পারেন বলে ধারণা করছেন অনেকে।

এদিকে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে আজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে বাংলাদেশের শুকনো মৌসুমে তিস্তার পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তির বিষয়টি অনেকগুলো ‘যদি’র ওপর নির্ভর করবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বর্ণের দামে সর্বোচ্চ রেকর্ড, এক লাফে ভরিতে বাড়ল ১৬ হাজার

মমতার সঙ্গে বৈঠকে তাকিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ১০:০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুই দিনের সফরে কলকাতায় অবস্থান করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক হবে আজ। প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফিরে আসার আগে তাদের মধ্যে বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। মমতার সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা চুক্তি নিয়ে কথা হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আগেভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি তিস্তা নিয়ে কথা বলবেন না। তারপরেও এই দুই নেতার বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ।

ছিটমহলসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অমীমাংসিত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হলেও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি কয়েক বছর ধরে ঝুলে আছে। ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরকালে তিস্তা চুক্তি ঝুলে যাওয়ার পর এর জট আর খোলেনি। আর এই চুক্তির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান মমতা। মমতার দাবি, বাংলাদেশকে পানি দিলে পশ্চিমবঙ্গ পর্যাপ্ত পানি পাবে না।

২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হলেও বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষিত তিস্তা চুক্তি হয়নি। তবে সে সময় মোদি বলেছিলেন, দুই দেশের সরকারের চলতি মেয়াদেই এই চুক্তি হবে।

এবার দুই দিনের সফরে কলকাতায় যাওয়ার আগে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। যদিও পশ্চিমবঙ্গ যাওয়ার দুই দিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, এই সফরের উদ্দেশ্য তিস্তা চুক্তি নয়। তারপরও মমতার সঙ্গে আজকের বৈঠকে কী হয় এ নিয়ে উৎসাহ আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কলকাতা সফরে মমতার সঙ্গে বৈঠক না হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দুই প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি বৈঠকের কোনও কর্মসূচি ছিল না। তবে গতকাল পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন এবং বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নরেন্দ্র মোদি-শেখ হাসিনার পাশাপাশি যান মমতাও। সেখানে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের কথা জানান মমতা নিজেই।

মমতা বলেন, হাসিনাজির সঙ্গে আমার একটি বৈঠক ঠিক করেছি। সেটা শনিবার উনি বাংলাদেশ ফিরে যাওয়ার আগে হবে। ওইদিন সন্ধেবেলা আমরা দুইজন কথা বলবো। আমি হাসিনাজিকে খুব ভালোবাসি, উনিও আমাকে খুব স্নেহ করেন।

মমতার সঙ্গে হাসিনার বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে কোনও পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া তিস্তার পানি বন্টন নিয়েও দুই নেত্রী কথা হতে পারেন বলে ধারণা করছেন অনেকে।

এদিকে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে আজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে বাংলাদেশের শুকনো মৌসুমে তিস্তার পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তির বিষয়টি অনেকগুলো ‘যদি’র ওপর নির্ভর করবে।