ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বকাপে খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে, সিদ্ধান্ত আইসিসির এবারের নির্বাচন যেন ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে: প্রধান উপদেষ্টা এবার ভোট গণনায় দেরি হতে পারে: প্রেস সচিব বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ মব সৃষ্টি করে জনমত প্রভাবিত করার দিন এখন আর নেই: জামায়াত আমির সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন হচ্ছে সর্বনিম্ন ২০,০০০ টাকা, সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ দিল্লি হাইকোর্টে সব সাইজ হয়ে যাবে, ঢাকায় কোনো সিট দেব না বলে জামায়াত প্রার্থী হুঙ্কার দিয়েছেন খালিদুজ্জামান ‘গুণ্ডামির কাছে আমরা মাথা নত করি না’: ইমানুয়েল মাক্রোঁ রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী হতো না: উপদেষ্টা সাখাওয়াত

সাংবাদিকের মধ্যস্থতায় ৫৭ দস্যুর আত্মসমর্পণ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুন্দরবনের জলদস্যু, বনদস্যু ও ডাকাত বাহিনীর প্রধানসহ ছয়টি বাহিনীর ৫৭ সদস্য র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। সাংবাদিকের মধ্যস্থতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেন। বুধবার দুপুরে র‌্যাব-৬ খুলনার সদরদপ্তরে বিপুল অস্ত্র ও গোলা-বারুদসহ তারা আত্মসমর্পণ করেন।

বনদস্যু-জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে র‌্যাব-৬ এর মাধ্যমে তিন দস্যুবাহিনী ও র‌্যাব-৮ এর মাধ্যমে আরও তিন বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। বাহিনী ছয়টি হলো- সুন্দরবন খুলনা অঞ্চলের ভয়ঙ্কর দাদা ভাই ওরফে রাজন বাহিনী, আমীর আলী বাহিনী, হান্নান বাহিনী এবং বরিশালের মুন্না বাহিনী, ছোট শামছু বাহিনী ও সূর্য বাহিনী। ছয় বাহিনীতে ৫৭ সদস্য রয়েছে। তাদের কাছে দেশি-বিদেশি ৫৮টি বন্দুক ও ১২শ ৮৪ রাউন্ড গুলি রয়েছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা অঞ্চলের তিন দস্যু বাহিনী সুন্দরবনের শ্যামনগর, আড়পাঙ্গাসিয়া, মংলা, আন্ধার মানিক, হারবাড়িয়া, কলাগাছি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করতো। বনের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ রীতিমতো তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল। তাদেরকে মাসোহারা দিয়ে জেলে-মৌয়ালদের বনে প্রবেশ করতে হতো। এমনকি বনরক্ষীরাও তাদের কাছে নিরাপদ দূরত্বে থাকতো।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাবের বেশ কয়েকটি সফল অভিযানে পর দস্যুদের দৌরাত্ম কমতে থাকে। একইসঙ্গে সরকারের সাধারণ ক্ষমার আওতায় এসব দস্যুরা আত্মসমর্পনের পথ খুঁজতে শুরু করে।

তাদের মধ্যস্থতায় র‌্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে দস্যুদের মুঠোফোনে কয়েকদফা আলাপ হয়। দুই পক্ষের আলোচনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয় বনদস্যু বাহিনীর সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে মৎস্যমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ, নব নির্বাচিত খুলনার সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাব সূত্র জানায়, ইতোপূর্বে ২১৭ জন জলদস্যু এ পর্যন্ত সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। আত্মসমর্পণ করা সাবেক এসব জলদস্যুকে খুলনা র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। এ উপলক্ষে র‌্যাব কার্যালয়ে সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হজে যেতে নিবন্ধন করেছেন ৭৬ হাজার ৫৮০ বাংলাদেশি

সাংবাদিকের মধ্যস্থতায় ৫৭ দস্যুর আত্মসমর্পণ

আপডেট সময় ০২:০৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুন্দরবনের জলদস্যু, বনদস্যু ও ডাকাত বাহিনীর প্রধানসহ ছয়টি বাহিনীর ৫৭ সদস্য র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। সাংবাদিকের মধ্যস্থতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেন। বুধবার দুপুরে র‌্যাব-৬ খুলনার সদরদপ্তরে বিপুল অস্ত্র ও গোলা-বারুদসহ তারা আত্মসমর্পণ করেন।

বনদস্যু-জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে র‌্যাব-৬ এর মাধ্যমে তিন দস্যুবাহিনী ও র‌্যাব-৮ এর মাধ্যমে আরও তিন বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। বাহিনী ছয়টি হলো- সুন্দরবন খুলনা অঞ্চলের ভয়ঙ্কর দাদা ভাই ওরফে রাজন বাহিনী, আমীর আলী বাহিনী, হান্নান বাহিনী এবং বরিশালের মুন্না বাহিনী, ছোট শামছু বাহিনী ও সূর্য বাহিনী। ছয় বাহিনীতে ৫৭ সদস্য রয়েছে। তাদের কাছে দেশি-বিদেশি ৫৮টি বন্দুক ও ১২শ ৮৪ রাউন্ড গুলি রয়েছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা অঞ্চলের তিন দস্যু বাহিনী সুন্দরবনের শ্যামনগর, আড়পাঙ্গাসিয়া, মংলা, আন্ধার মানিক, হারবাড়িয়া, কলাগাছি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করতো। বনের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ রীতিমতো তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল। তাদেরকে মাসোহারা দিয়ে জেলে-মৌয়ালদের বনে প্রবেশ করতে হতো। এমনকি বনরক্ষীরাও তাদের কাছে নিরাপদ দূরত্বে থাকতো।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাবের বেশ কয়েকটি সফল অভিযানে পর দস্যুদের দৌরাত্ম কমতে থাকে। একইসঙ্গে সরকারের সাধারণ ক্ষমার আওতায় এসব দস্যুরা আত্মসমর্পনের পথ খুঁজতে শুরু করে।

তাদের মধ্যস্থতায় র‌্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে দস্যুদের মুঠোফোনে কয়েকদফা আলাপ হয়। দুই পক্ষের আলোচনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয় বনদস্যু বাহিনীর সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে মৎস্যমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ, নব নির্বাচিত খুলনার সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাব সূত্র জানায়, ইতোপূর্বে ২১৭ জন জলদস্যু এ পর্যন্ত সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। আত্মসমর্পণ করা সাবেক এসব জলদস্যুকে খুলনা র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। এ উপলক্ষে র‌্যাব কার্যালয়ে সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।