ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ কোনও ধরনের চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না : ইলিয়াসপত্নী লুনা অবশেষে মুক্তি পেলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম, স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত ইসলামী নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করব: চরমোনাই পীর পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত ধানের শীষ প্রতীক তারেক রহমানের আমানত : রাশেদ খাঁন ফান্ড তৈরি করে বেকার শিক্ষার্থীদের জন্য পুঁজির ব্যবস্থা করব: তাসনিম জারা উত্তরায় ফার্নিচার মার্কেটে আগুন নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রত্যাশার চেয়েও ভালো: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মাদকবিরোধী অভিযানের মূল লক্ষ্য বিরোধী দল নির্মূল: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদকবিরোধী অভিযানে যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ক্রসফায়ার হচ্ছে তার মূল উদ্দেশ্য বিরোধীদলীকে নির্মূল-বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অভিযানকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র সঙ্গে তুলনা করে সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দলটির নেতা বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ক্রসফয়ার গ্রহণযোগ্য নয়।

সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে নিহতের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু ইতোমধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দেশে এক প্রকারের যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

বুধবার ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মির্জা ফখরুল।

গত ৪ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যযন্ত অন্তত ৪৩ জন সন্দেহভাজন মাদক বিক্রেতার মৃত্যুর খবর এসেছে। এর মধ্যে গত তিন দিনেই নিহত হয়েছে ৩০ জন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দাবি করেছেন, সব ক্ষেত্রেই পুলিশ বা র‌্যাব আক্রান্ত হয়ে আত্মরক্ষায় গুলি করেছে। আর নিহতরা সবাই মাদকের কারবারি।

তবে এই অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফখরুল বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্রসফায়ার দিয়ে শুধুই বিরোধী পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এবং একবারেই নির্মূল করার জন্য এই সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে।’

‘এই ক্রসফায়ার নিয়ে দেশের মানুষের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এমন একটা সময়, যখন নির্বাচন সামনে ও সরকারের শেষ বছর, তখনই দেশে একটা যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

‘আমরাও মাদকবিরোধী অভিযান চাই। তবে এটা অরাজনৈতিক হতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্রসফায়ার দিতে হবে এমনটি নয়।’

‘আমরা আগেও বলেছি, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। কিন্তু যেসব যুক্তি দাঁড় করা হচ্ছে সেগুলো কোনও সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে যুক্তি বলে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলেও আশঙ্কার কথা জানান ফখরুল। বলেন, ‘গাজীপুরের পুলিশ সুপার চিহ্নিত আওয়ামী লীগার। তাকে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সেই এসপি বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে নির্বাচনের পরিবেশ ধ্বংস করেছে।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে না। তাঁকে মিথ্যা, সাজানো মামলা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে। সরকার তাঁকে জামিন দিতে বাধা ও গড়িমসি করছে।’

ফখরুল বলেন, ‘দেশে এখন গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই, জনগণের অধিকার নেই। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।’

ঠাকুরগাঁও বিএনপির সহ-সভাপতি নুর এ শাহাদাৎ স্বজন, আবু তাহের দুলাল, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদল সভাপতি কায়েস প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দল দেখে না, মানুষ দেখে ভোট দেবেন: মেজর হাফিজ

মাদকবিরোধী অভিযানের মূল লক্ষ্য বিরোধী দল নির্মূল: ফখরুল

আপডেট সময় ০৭:১০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদকবিরোধী অভিযানে যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ক্রসফায়ার হচ্ছে তার মূল উদ্দেশ্য বিরোধীদলীকে নির্মূল-বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অভিযানকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র সঙ্গে তুলনা করে সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দলটির নেতা বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ক্রসফয়ার গ্রহণযোগ্য নয়।

সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে নিহতের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু ইতোমধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দেশে এক প্রকারের যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

বুধবার ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন মির্জা ফখরুল।

গত ৪ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যযন্ত অন্তত ৪৩ জন সন্দেহভাজন মাদক বিক্রেতার মৃত্যুর খবর এসেছে। এর মধ্যে গত তিন দিনেই নিহত হয়েছে ৩০ জন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দাবি করেছেন, সব ক্ষেত্রেই পুলিশ বা র‌্যাব আক্রান্ত হয়ে আত্মরক্ষায় গুলি করেছে। আর নিহতরা সবাই মাদকের কারবারি।

তবে এই অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফখরুল বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্রসফায়ার দিয়ে শুধুই বিরোধী পক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এবং একবারেই নির্মূল করার জন্য এই সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে।’

‘এই ক্রসফায়ার নিয়ে দেশের মানুষের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এমন একটা সময়, যখন নির্বাচন সামনে ও সরকারের শেষ বছর, তখনই দেশে একটা যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

‘আমরাও মাদকবিরোধী অভিযান চাই। তবে এটা অরাজনৈতিক হতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ক্রসফায়ার দিতে হবে এমনটি নয়।’

‘আমরা আগেও বলেছি, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। কিন্তু যেসব যুক্তি দাঁড় করা হচ্ছে সেগুলো কোনও সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে যুক্তি বলে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলেও আশঙ্কার কথা জানান ফখরুল। বলেন, ‘গাজীপুরের পুলিশ সুপার চিহ্নিত আওয়ামী লীগার। তাকে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সেই এসপি বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে নির্বাচনের পরিবেশ ধ্বংস করেছে।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে না। তাঁকে মিথ্যা, সাজানো মামলা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে। সরকার তাঁকে জামিন দিতে বাধা ও গড়িমসি করছে।’

ফখরুল বলেন, ‘দেশে এখন গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই, জনগণের অধিকার নেই। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।’

ঠাকুরগাঁও বিএনপির সহ-সভাপতি নুর এ শাহাদাৎ স্বজন, আবু তাহের দুলাল, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদল সভাপতি কায়েস প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।