অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানীর পানি নিষ্কাশণের জন্য প্রায় বেদখল ১৬টি খাল সংস্কার করে দুই পার বাঁধাই করা ও হাঁটার রাস্তা নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এই কাজে ব্যয় হবে মোট ৫৫০ কোটি টাকা।
আগামী দুই বছরের মধ্যেই এই প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প অনুমোদনকারী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সোমবার এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। পরে নিজ দপ্তরে গণমাধ্যম কর্মীদের এ বিষয়ে জানান এলজিআরডি মন্ত্রী ।
ঢাকায় জলাবদ্ধতার জন্য নিচু জমি ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি ঘর নির্মাণ, পানি নিষ্কাষণের খালগুলো ময়লা আবর্জনায় ভরাট আর তীর দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলে রাখা, পলিথিনের অপব্যবহারসহ নানা কারণকে দায়ী করা হয়।
এর মধ্যে প্রতি বর্ষার আগেই খাল উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা ওয়াসা মাঝেমধ্যে দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে খালে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগও নেয়। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া যায় না। কারণ খালে ময়লা ফেলা আর বেদখল শুরু হয়ে যায় কিছুদিনের মধ্যেই।
ঢাকা ওয়াসার হিসাবেই ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ৫৪টি খালের অস্তিত্ব ছিল। ১৯৮১ সালে এর সংখ্যা ৪৭টিতে নেমে আসে। বর্তমানে ঢাকায় ২৬টি খালের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও বেশির ভাগই অস্তিত্ব সংকটে। সিংহভাগ খাল দখল করে বাড়িঘর ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
এসব খালের মধ্যে ১৬টি দখলমুক্ত করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার প্রকল্প অনুমোদন করার কথা নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদেরকে জানান এলজিআরডি মন্ত্রী। বলেন, ‘ঢাকার আশেপাশে ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি খাল সংস্কারের একটি প্রকল্প আমি অনুমোদন দিয়েছি কিছুক্ষণ আগে।’
‘যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং পানি যেতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে সেসব এলাকায় আমরা এডহক বেসিসে মুভ করছি এবং পার্মানেন্ট ব্যাসিসে করার জন্য এই ৫৫০ কোটি টাকা প্রকল্প আমরা অনুমোদন দিয়েছি।’
‘আমরা খালের দুই পার বেধে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই পারেই থাকবে ওয়াকওয়ে, যাতে করে কেউ আর দখল করতে না পারে’-বলেন মন্ত্রী। এই কাজ কবে শুরু হবে, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘কাজ শুরু হয়ে গেছে।’
‘আমরা যে কাজ হাতে নিচ্ছি তা স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে করা হবে। প্রতিটি এলাকায় কমিটি করে এ কাজগুলো করা হবে। যাতে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বেও তারা থাকেন।’
‘কেউ যাতে খালের মধ্যে বস্তা এনে ফেলে দিয়ে বন্ধ করে দিতে না পারে এজন্য স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে।’
গত বছর তিন যুগের মধ্যে নজিরবিহীন বৃষ্টিতে ঢাকায় জলাবদ্ধতাও হয়েছিল নজিরবিহীন।এক বছরের মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন পরিস্থিতির উন্নতির। আর সেটি হয়েছে বলেও দাবি করছেন তিনি।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি ঢাকায় তিন ঘণ্টার বেশি জলাবদ্ধতা থাকবে না এবং থাকছেও না। দুই একটি ব্যাড স্পট ছাড়া দুই ঘণ্টা থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে পানি সরে যাচ্ছে।’
তবে জলাবদ্ধতার সমস্যার দ্রুত কোনো সমাধান নেই বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘যে জলাবদ্ধতা একশ বছর আগে শুরু হয়েছে সেটা তো হঠাৎ করেই শেষ করা যাবে না। এক্ষেত্রে ডিটেইল প্লান করে এর সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। এর অংশ হিসেবেই আমরা ১৬টি খাল নিয়ে কাজ শুরু করছি।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























