ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ইসরাইলকে ইরানি স্থাপনায় হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন পুতিন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ৯ মে দেশটিতে সফরে গিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ দিবসে নেতানিয়াহুই ছিলেন একমাত্র সরকারপ্রধান যিনি পুতিনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

রাশিয়া সফরে যাওয়ার আগে নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছিলেন, সিরিয়াতে এই মুহূর্তে যা ঘটছে তাতে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সের যে সামরিক সমঝোতা আছে, তার ধারাবাহিকতা পুনরায় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেছিলেন, এটা মনে করার কোনো ভিত্তি নেই যে, সিরিয়াতে ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপে রাশিয়া বাধার সৃষ্টি করবে। রাশিয়ার বিজয় দিবসের রাতে ১টার দিকে ইসরাইল তার বিমানবাহিনীর ২৮টি এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে সিরিয়ার ভূমিতে অন্তত ৬০টি মিসাইল নিক্ষেপ করে।

ওইসব মিসাইল সিরিয়ায় অবস্থিত ইরানের প্রায় ৫০টি সামরিক স্থাপনার ওপর আঘাত হানে। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত। নিহতের মধ্যে ১১ জন ছিল ইরানি সেনা। নেতানিয়াহুর সফর, তার বক্তব্য এবং সবশেষে রাশিয়ার ভূমিকায় বিজনেস ইনসাইডার, জেরুজালেম পোস্ট, হারেৎজসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, ইরানি স্থাপনার ওপর ইসরাইলের এ হামলার পেছনে রাশিয়ার সম্মতি ছিল।

সামরিক ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক বাবাক তাগভাই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেন, নেতানিয়াহুর সফরকালে পুতিন তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ইসরাইল যদি ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের স্থাপনার ওপর হামলা করে তাহলে রাশিয়া তাতে বাধা দেবে না।

বাবাক তাগভাই তার সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেন, ইসরাইলের প্রস্তাবে রাশিয়ার রাজি হওয়ার কারণ হচ্ছে, ইরানের উপস্থিতি নেই এমন কোনো সিরীয় স্থাপনায় ইসরাইল হামলা করবে না। এছাড়া ইসরাইলকে ইরানের ওপর হামলার সুযোগ দেয়ার বিনিময়ে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর তাদের যেসব লবিং রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ করে দেবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যাতে সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ না করে বা যুক্তরাষ্ট্রকে সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে ইসরাইল যেন ভূমিকা রাখে এ জন্য ইসরাইলকে এ সুযোগ করে দিয়ে সমঝোতা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ সমঝোতার বিষয়টি প্রথমে উত্থাপন করেছেন বাবাক তাগভাই। আর তিনি কোনো নির্দিষ্ট সূত্র প্রকাশ করেননি। তাই এটি সত্য নাও হতে পারে।

তবে এ কথা সত্য যে, রাশিয়া এবং ইরান উভয়েই বাশার আল-আসাদের বিজয়ের জন্য অপরিহার্য ছিল। এবং আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে রাশিয়ার জন্য ইরান এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ইসরাইলকে ইরানি স্থাপনায় হামলার অনুমতি দিয়েছিলেন পুতিন

আপডেট সময় ০৮:৩১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ৯ মে দেশটিতে সফরে গিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ দিবসে নেতানিয়াহুই ছিলেন একমাত্র সরকারপ্রধান যিনি পুতিনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

রাশিয়া সফরে যাওয়ার আগে নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছিলেন, সিরিয়াতে এই মুহূর্তে যা ঘটছে তাতে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সের যে সামরিক সমঝোতা আছে, তার ধারাবাহিকতা পুনরায় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেছিলেন, এটা মনে করার কোনো ভিত্তি নেই যে, সিরিয়াতে ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপে রাশিয়া বাধার সৃষ্টি করবে। রাশিয়ার বিজয় দিবসের রাতে ১টার দিকে ইসরাইল তার বিমানবাহিনীর ২৮টি এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে সিরিয়ার ভূমিতে অন্তত ৬০টি মিসাইল নিক্ষেপ করে।

ওইসব মিসাইল সিরিয়ায় অবস্থিত ইরানের প্রায় ৫০টি সামরিক স্থাপনার ওপর আঘাত হানে। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত। নিহতের মধ্যে ১১ জন ছিল ইরানি সেনা। নেতানিয়াহুর সফর, তার বক্তব্য এবং সবশেষে রাশিয়ার ভূমিকায় বিজনেস ইনসাইডার, জেরুজালেম পোস্ট, হারেৎজসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, ইরানি স্থাপনার ওপর ইসরাইলের এ হামলার পেছনে রাশিয়ার সম্মতি ছিল।

সামরিক ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক বাবাক তাগভাই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেন, নেতানিয়াহুর সফরকালে পুতিন তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ইসরাইল যদি ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের স্থাপনার ওপর হামলা করে তাহলে রাশিয়া তাতে বাধা দেবে না।

বাবাক তাগভাই তার সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেন, ইসরাইলের প্রস্তাবে রাশিয়ার রাজি হওয়ার কারণ হচ্ছে, ইরানের উপস্থিতি নেই এমন কোনো সিরীয় স্থাপনায় ইসরাইল হামলা করবে না। এছাড়া ইসরাইলকে ইরানের ওপর হামলার সুযোগ দেয়ার বিনিময়ে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর তাদের যেসব লবিং রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ করে দেবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যাতে সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ না করে বা যুক্তরাষ্ট্রকে সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে ইসরাইল যেন ভূমিকা রাখে এ জন্য ইসরাইলকে এ সুযোগ করে দিয়ে সমঝোতা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ সমঝোতার বিষয়টি প্রথমে উত্থাপন করেছেন বাবাক তাগভাই। আর তিনি কোনো নির্দিষ্ট সূত্র প্রকাশ করেননি। তাই এটি সত্য নাও হতে পারে।

তবে এ কথা সত্য যে, রাশিয়া এবং ইরান উভয়েই বাশার আল-আসাদের বিজয়ের জন্য অপরিহার্য ছিল। এবং আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে রাশিয়ার জন্য ইরান এখনো গুরুত্বপূর্ণ।