ঢাকা ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মা দিবসে এক হতভাগিনী মায়ের বুকফাটা কান্না

ছেলের নির্যাতনে কিশোরগঞ্জে মা দিবসে হাসপাতালে মায়ের আর্তনাদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় যখন বিশ্ব মা দিবস পালিত হচ্ছিল, তখন প্রিয় ছেলেসন্তান ও পুত্রবধূর মধ্যযুগীয় নির্যাতনের শিকার এক হতভাগিনী মা হাসপাতাল শয্যায় কাতরাচ্ছিলেন অসহ্য যন্ত্রণায়। বুক ভাসাচ্ছিলেন চোখের জলে।

রোববার বিশ্ব মা দিবসে আম্বিয়া খাতুন নামের এ মায়ের বুকফাটা কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে কিশোরগঞ্জের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ড।

একমাত্র ছেলেন বর্বরোচিত নির্যাতনে ষাটোর্ধ্ব আম্বিয়া খাতুনের ডান হাতের হাড় চূর্ণবিচূর্ণ, মাথায় গভীর ক্ষত জখম এবং চারটি দাঁত ভেঙে যায়। রোববার বিকালে জহুরুল হক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সরেজমিন পরিদর্শনকালে এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে।

তিন মেয়েকে বঞ্চিত করে সম্পত্তি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় একমাত্র ছেলে ও তার স্ত্রী হত্যার উদ্দেশ্যে আম্বিয়া খাতুনের ওপর চালায় নিষ্ঠুর নির্যাতন। এ ঘটনায় মামলা রুজুর তিন দিন পরও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের চারলদিয়া গ্রামের আবদুল বাতেন স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন এবং এক ছেলে ও তিন মেয়েকে রেখে ১৯৯৫ সালে মারা যান। বিধবা আম্বিয়া খাতুন বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর ২০০৭ সালে একমাত্র ছেলেসন্তান হাবিবুর রহমান আলমকে বিয়ে করিয়ে সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেন।

বিয়ের পরই অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে প্রিয় সন্তান আলমের আচরণে। একপর্যায়ে ইচ্ছা পূরণে জমি বিক্রি করে আলমকে বিদেশও পাঠান তিনি। কিন্তু কিছু দিন পরই বাড়ি ফিরে এসে তিন বোনকে বঞ্চিত করে পুরো সম্পত্তি তার নামে লিখে দিতে মাকে চাপ দিতে থাকে আলম।

সম্পত্তি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় অবিবাহিত মাস্টার্স পড়ুয়া ছোট বোন মরিয়ম এবং মা আম্বিয়া খাতুনের ওপর নেমে আসে আলম ও তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের নিত্যদিন নির্যাতনের খড়গ।

এ পরিস্থিতিতে প্রাণভয়ে মরিয়ম বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বড় ভগ্নিপতির বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই মাস্টার্স শেষ করেন। পান থেকে চুন খসার মতো তুচ্ছ ঘটনায় নিপীড়ন-নির্যাতন চললেও আম্বিয়া খাতুন স্বামীর ভিটে ছাড়তে চাইছিলেন না কিছুতেই।

তবে কোনো অবস্থাতেই সম্পত্তির বিষয়ে আপস না করায় বুধবার দুপুরে ছেলে ও ছেলের বউ হত্যার উদ্দেশ্যে দা ও লাঠি দিয়ে আম্বিয়া খাতুনের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরোচিত নির্যাতন চালায়।

তাকে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

যোগাযোগ করা হলে কটিয়াদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আম্বিয়া খাতুনের ছোট মেয়ে মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে শুক্রবার মামলা করেছেন।

মামলায় হাবিবুর রহমান আলম, তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার ও তার শ্বশুর হিরু মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে বলে দাবি করেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মা দিবসে এক হতভাগিনী মায়ের বুকফাটা কান্না

আপডেট সময় ১০:০৮:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় যখন বিশ্ব মা দিবস পালিত হচ্ছিল, তখন প্রিয় ছেলেসন্তান ও পুত্রবধূর মধ্যযুগীয় নির্যাতনের শিকার এক হতভাগিনী মা হাসপাতাল শয্যায় কাতরাচ্ছিলেন অসহ্য যন্ত্রণায়। বুক ভাসাচ্ছিলেন চোখের জলে।

রোববার বিশ্ব মা দিবসে আম্বিয়া খাতুন নামের এ মায়ের বুকফাটা কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে কিশোরগঞ্জের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ড।

একমাত্র ছেলেন বর্বরোচিত নির্যাতনে ষাটোর্ধ্ব আম্বিয়া খাতুনের ডান হাতের হাড় চূর্ণবিচূর্ণ, মাথায় গভীর ক্ষত জখম এবং চারটি দাঁত ভেঙে যায়। রোববার বিকালে জহুরুল হক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সরেজমিন পরিদর্শনকালে এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে।

তিন মেয়েকে বঞ্চিত করে সম্পত্তি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় একমাত্র ছেলে ও তার স্ত্রী হত্যার উদ্দেশ্যে আম্বিয়া খাতুনের ওপর চালায় নিষ্ঠুর নির্যাতন। এ ঘটনায় মামলা রুজুর তিন দিন পরও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের চারলদিয়া গ্রামের আবদুল বাতেন স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন এবং এক ছেলে ও তিন মেয়েকে রেখে ১৯৯৫ সালে মারা যান। বিধবা আম্বিয়া খাতুন বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর ২০০৭ সালে একমাত্র ছেলেসন্তান হাবিবুর রহমান আলমকে বিয়ে করিয়ে সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেন।

বিয়ের পরই অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে প্রিয় সন্তান আলমের আচরণে। একপর্যায়ে ইচ্ছা পূরণে জমি বিক্রি করে আলমকে বিদেশও পাঠান তিনি। কিন্তু কিছু দিন পরই বাড়ি ফিরে এসে তিন বোনকে বঞ্চিত করে পুরো সম্পত্তি তার নামে লিখে দিতে মাকে চাপ দিতে থাকে আলম।

সম্পত্তি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় অবিবাহিত মাস্টার্স পড়ুয়া ছোট বোন মরিয়ম এবং মা আম্বিয়া খাতুনের ওপর নেমে আসে আলম ও তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের নিত্যদিন নির্যাতনের খড়গ।

এ পরিস্থিতিতে প্রাণভয়ে মরিয়ম বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বড় ভগ্নিপতির বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই মাস্টার্স শেষ করেন। পান থেকে চুন খসার মতো তুচ্ছ ঘটনায় নিপীড়ন-নির্যাতন চললেও আম্বিয়া খাতুন স্বামীর ভিটে ছাড়তে চাইছিলেন না কিছুতেই।

তবে কোনো অবস্থাতেই সম্পত্তির বিষয়ে আপস না করায় বুধবার দুপুরে ছেলে ও ছেলের বউ হত্যার উদ্দেশ্যে দা ও লাঠি দিয়ে আম্বিয়া খাতুনের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরোচিত নির্যাতন চালায়।

তাকে প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

যোগাযোগ করা হলে কটিয়াদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আম্বিয়া খাতুনের ছোট মেয়ে মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে শুক্রবার মামলা করেছেন।

মামলায় হাবিবুর রহমান আলম, তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার ও তার শ্বশুর হিরু মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে বলে দাবি করেন তিনি।