অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
আগামী জাতীয় নির্বাচনে জিতলে রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতি আমূল পাল্টে ফেলার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রত্যেক জেলায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রশাসন ‘জেলা সরকার’ দিয়ে পরিচালনা করে দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে নিয়ে যেতে চান তিনি।
রবিবার জাতীয় যাদুঘরে এ কে আব্দুল মোমেন রচিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মুহিত বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের স্বার্থে জেলা সরকার গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে পরিপ্রেক্ষিতেই আমি আশা করছি যে আমার দলের পরবর্তী নির্বাচনী ইশতেহারে এ বিষয়টি স্থান পাবে। এ ব্যাপারে আমি নিজেই উদ্যোগ নিয়ে কাজ করব।’
‘আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে ২০২৩ সালের মধ্যে জেলায় জেলায় সরকার প্রতিষ্ঠা করব’ জানিয়ে মুহিত বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে, কেন্দ্রীয় সরকার থাকবে না। কেন্দ্রীয় সরকারও থাকবে। দুই সরকার সমন্বয় করে কাজ করবে। প্রতিটি মানুষ যেন জেলায় সব ধরনের সেবা পায় সে জন্যই এটি করা হবে।’
জেলা সরকারের গুরত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি। তবে এটাকে ১০ শতাংশে উন্নীত করতে জেলায় জেলায় সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
‘একটি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধানে জেলা সরকার বিশেষ অবদান রাখবে। এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণের সুখ-শান্তি এবং বিভিন্ন কাজের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এটা উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।’
এর আগে ২০১১ সালেও জেলা সরকার গঠন করার কথা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, জেলা সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও জেলা সরকার গঠনে সম্মতি দিয়েছেন।
এ ব্যবস্থা চালু করা হলে ২০২৪ সালের মধ্যেই দেশে আর দারিদ্র্য থাকবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, ‘দেশে আর দারিদ্র্য থাকবে না। তবে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধীরা যা মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ, সেই মানুষ সরকারের উপর নির্ভশীল থাকবে। সরকার তাদের টেককেয়ার (দেখাশোনা) করবে।’
জেলা সরকার ব্যবস্থা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে সরকার গঠনের বিষয়টি আমাদের সংবিধানে আছে। তবে এ ব্যাপারে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা উৎসাহী নন। তাদের এ বিষয়ে উৎসাহী হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















