অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সেটা হাসির খোরাক হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। সরকার যাতে প্রহসনের নির্বাচন করতে না পারে সেজন্য ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে শ্রমিক শ্রেণি ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মহান মে দিবস উপলক্ষে সোমবার দুপুরে দলের কুড়িল বিশ্বরোডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিকল্প শ্রমজীবীধারা আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
বি. চৌধুরী বলেন, ‘এই সরকার যে পাঁয়তারা চালাচ্ছে তাতে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না। এরা এর আগে একটা নির্বাচন করলো ১৫৩ জন বিনাভোটে নির্বাচিত হলো, বাকি ১৪৭ জন সদস্য হয়ে গেলেন মাইনরিটি। এই মাইনরিটির সংসদ দিয়ে তারা সংবিধান সংশোধন করলেন যা অন্যায় এবং বেআইনি। বেআইনিভাবে নির্বাচন করে তারা রেকর্ড্ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু ওই নির্বাচনের আগে তারা বলেছিল এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। তারা কথা রাখেনি। সুতরাং যে সরকার কথা রাখে না তাদের অধীনে আগামী নির্বাচন হাসির খোরাক ছাড়া আর কী হতে পারে?’
সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এখন তারা (সরকার) বলছে নির্বাচনের আগে সংসদ ভাঙবে না। তাদের তথাকথিত সংসদ সদস্যরা এমপি পদের মর্যাদা ও ক্ষমতা নিয়ে মাঠে নামবে। সরকার যাতে কোনো প্রহসনের নির্বাচন করতে না পারে সে জন্য পোশাক শ্রমিকসহ শ্রমিক শ্রেণি ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে।’
বি চৌধুরী বলেন, ‘মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক সমীক্ষার উল্লেখ করে বি. চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন দুর্ঘটনায় গত পাঁচ বছরে চার হাজার ১০০ পোশাক শ্রমিক নিহত এবং সাত হাজার আহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনা অবশ্যই বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না, আর ক্ষতিপূরণের পরিমাণও খুব কম।’
‘একজন সরকারি কর্মচারী অথবা একজন পুলিশ মারা গেলে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা পায়। এটা হলো দুই রকম বিচার।’
বি. চৌধুরী বলেন, ‘অপরাধ করলে বিচার করতে হবে, কিন্তু রানা প্লাজার মতো এতো বড় দুর্ঘ্টনার বিচার এখনো হয়নি। নিহত ও আহদের ক্ষতিপূরণ কী দেওয়া হয়েছে তাও জনগণ জানে না।’
‘মালিকের অবহেলায় এই দুর্ঘটনা হয়েছে, সুতরাং এর দায়দায়িত্ব মালিককেই নিতে হবে। এই ব্যাপারে কোনো আপস চলবে না। বিচার বিলম্বিত হলে ন্যায়বিচার হবে না। তাই আমরা রানা প্লাজার ঘটনাসহ যত দুর্ঘটনা হয়েছে সবগুলোর দ্রুততম বিচার চাই। ঢিলেঢালা বিচার চলবে না।’
বি. চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক শ্রমিকরা ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছেন, কিন্তু সরকারি কর্মচারীদের মতো সুযোগ সুবিধা তারা পান না।’ তিনি বলেন, ‘শ্রমিক শ্রেণির সমস্যা সমাধান করতে হলে তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করে গণতন্ত্র আনতেই হবে। আর গণতন্ত্র আনতে হলে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন দিতে হবে।’
সংসদে শ্রমিক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে উল্লেখ করে বি. চৌধুরী তার দল থেকে শ্রমিকদের আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। সরকারি কর্মচারীদের মতো শ্রমিক শ্রেণি ও বেসরকারি কর্মচারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার দাবি জানান তিনি।
সাম্প্রতিক বাস দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির কথা উল্লেথ করে তিনি বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে চলতে গেলে বাসের চাকায় মানুষের হাত পা চলে যায়। এর মধ্যে দুইজন মারাও গেলেন কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে কোনো আইন প্রণয়ন করছে না বা আইন সংশোধনও করছে না।’
বিকল্প শ্রমজীবীধারার সভাপতি আইনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব আলী, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, ইঞ্জিনিয়ার মো. ইউসুফ, ওয়াসিমুল ইসলাম, জানে আলম হাওলাদার, যুবধারার ওবায়েদুর রহমান মৃধা, আসাদুজ্জামান বাচ্চু, মাহফুজুর রহমান, বিএম নিজাম, শাহজাহান সিরাজ সবুজ, শাহ আলম, আরিফুল হক সুমন, তাসলিমা, সীমা, রবিউল, শেখ রাসেল প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















